About Me

My photo
A pigeon lover from a small town. Currently working on Oriental Frill pigeon. passing time with pigeons since 2006

Monday, August 16, 2021

হাইফ্রাইয়ার ট্রেনিং (পর্ব ১-১০)

ট্রেনিং পর্ব ০১ 

হাইফ্রাইয়ার গিরিবাজ সম্পর্কে প্রায় আমার কাছে অনেকেই জানতে চান কিভাবে ট্রেনিং দেবো? যা আমার পক্ষে একবারে অল্প সময়ে উত্তর দেওয়া সম্ভব না, তাই মনে করলাম ধারাবাহিক ভাবে যতটা সম্ভব নতুনদের জন্য পর্যায়ক্রমে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। আমার ধারনা আমি যদি আমার দীর্ঘ দিনের দেখা অভিজ্ঞতা তুলে ধরার চেষ্টা করি, তাও বোধ হয় ১০% তুলে ধরতে পারবো কিনা সন্ধেহ। কেননা, এত বিশাল এর ব্যাপকতা যা এত অল্প পরিশরে ও আমার মত সামান্য জানা মানুষের পক্ষে সম্ভব হবে না। হয়তো বা মাঝ পথে আমাকে থেমে যেতে হতে পারে, তার পরেও চেষ্টা করবো যতটা নতুনদের জন্য তুলে ধরার। হয়তোবা আমার জানা অভিজ্ঞতা অনেকের সাথে নাও মিলতে পারে অথবা আমার ভুল হতে পারে, সেগুলি কমেন্টের মাধ্যমে তুলে ধরলে আমি সহ অন্যদের যথেষ্ট উপকার হবে। তাছাড়া ট্রেনিং এর কথাবার্তা গুলি ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন নাও হতে পারে আমার অজ্ঞতার কারনে, সেটাও অনেকের মাথায় রাখতে হবে, যখন যেটা আমার মনে পড়বে সেটাই তুলে ধরার চেষ্টা করবো। তাছাড়া আমাদের সকলকে কিছু কথা মাথায় রাখতে হবে, কবুতর কিন্তু মানুষের মুখের কথা বুঝে না, তাই মুখে বলে মানুষদের যেমন ট্রেনিং দেওয়া হয় সেই রকম কিছু না। যেমন কবুতরকে বল্লাম, বাজি খাও, আর অমনি বাজি খাওয়া আরম্ভ করলো, আবার বল্লাম, নেমে আসো আর সাথে সাথে ড্যানা বন্ধ করে নেমে আসবে সেরকমটা কিন্তু কিছুই না। মুলত, কবুতরকে কিছু অভ্যাসে পরিনত করাকেই ট্রেনিং হিসাবে ধরা হয়। 
ট্রেনিং সম্পর্কে বলার আগে নতুনদের জন্য আমার কয়েকটা কথা থাকবে, সেটা হলো, 
(০১). আগে ধারনা করতে হবে ও সম্ভব হলে জানতে হবে কবুতরটির জাতের মধ্যে উড়ার ক্ষমতা আছে কতটুকু?
 (০২). আপনার বাসস্থান ও পারিপাশ্বিক পরিবেশ ও আবহাওয়ার জন্য কোন ধরনের গিরিবাজ কবুতর উপযোগী? (০৩). কোন আবহাওয়ায় কোন জাতের কবুতর ভাল পারফর্ম করে। 
(০৪). কোন বয়সে এসে কবুতর ভাল পারফর্ম করে? 
(০৫). ...................................................... 

 ট্রেনিং পর্ব ০২ 

(০৫). দিনের কোন সময় ট্রেনিং আরম্ভ করা ভাল?
 (০৬). ট্রেনিং কালীন সময়ে খাবার কখন দিলে ভাল হয় এবং কি ধরনের খাবার দেওয়া ভাল? 
(০৭). আকাশ ও আবহাওয়া সম্পর্কে ধারনা রাখা।
 (০৯). বাজপাখির হাত থেকে কিভাবে যতটা সম্ভব বাঁচায়ে কবুতর ট্রেনিং দেওয়া যায়।
 (১০). কবুতর যতটা সম্ভব সুস্থ রাখা। 
(১১). কবুতরের খোপ কেমন হওয়া ভাল? 
(১২). বামের উপকারিতা ও অপকারিতা।
 (১৩). নর-মাদি আলাদা করে পালন ও একসাথে পালন করার ফলে ভাল দিক ও খারাপ দিক। 
(১৪). মোল্টিং এর সময় কি ধরনের পরিচর্যা করা ভাল?
 (১৫). অতিরিক্ত ( বস্তা দাবড় ) প্রেশার দিয়ে ট্রেনিং এর অপকারিতা।
 (১৬). অতিরিক্ত বাতাসে ট্রেনিং করালে পরবর্তীতে কি ফল দেয়? 
(১৭). বৃষ্টিতে ট্রেনিং করালে পরবর্তীতে কি 
ধরনের সুবিধা ও অসুবিধার সম্মুক্ষিন হতে হয়?
 (১৮). মেমোরী ইত্যাদি ইত্যাদি ..... 

আমি জানি এখানে ধান বানতে আমার অনেক গীত গাওয়া হয়ে যাবে, কিন্তু উপায় নেই, কারন ধারাবাহিকভাবে হাইফ্লাইয়ার কবুতরের ট্রেনিং বিষয়ক কোনো কিছু লিখতে গেলে অনেক কঠিন একটা কাজ, বিশেষ করে আমার জন্য। যাহোক, হয়তোবা কথনও কথনও আপনাদের কাছে রিপিট কথাবার্তা মনে হবে। তার পরেও কয়েকটি মৌলিক কথা মাথায় রাখলেই হলো। যেমন, হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতরের ট্রেনিং মানে, কবুতরের কিছু খারাপ অভ্যাস বন্ধ করানো আর কিছু ভাল অভ্যাস তৈরী করানোই মুল উদ্দেশ্য থাকবে। পূর্বে বলেছি কবুতর মানুষের মত কথা বুঝে ট্রেনিং নেয় না অথবা বুঝে না, ওরা শুধু অভ্যাসের দাস ও অনুকরন প্রিয়। আর একটি মুল কথা, আপনি যত ট্রেনিংই দেন না কেন, কবুতরের জাতের মধ্যে উড়া না থাকলে কখনই ভাল ফল পাবেন না এবং যদি জাতের মধ্যে উড়া থাকে তবে, পায়ে পাথর বেধে রাখলেও উড়া থামাতে পারবেন না। **** 
আরো একটি মজার ও গুরুত্বপূর্ন গোপন বিষয় আজ আপনাদের কাছে প্রকাশ করছি, যা ইতিপূর্বে কেউ প্রকাশ করেছেন কিনা জানি না, তা হলো, হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর দীর্ঘ সময় উড়ার জন্য রেসার কবুতরের মত অতিরিক্ত ভাল স্বাস্থ্য ও শারিরিক শক্তির উপর নির্ভরশীল না। একটু ভাঙ্গায়ে বলি, হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর উড়তে উড়তে, মনে করেন ৬-৭ + ঘন্টা উড়ার পরে শরীর পানি শুন্যতায় পড়ে এবং তখন যথেষ্ট দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে ইচ্ছা করে চাইলেও সহজে নেমে আসতে পারে না, কারন নিজের উপর দখল থাকে না এবং সুতা ছেড়া ঘুড়ির মত বাতাসে একপ্রকার ভাসতে থাকে। তাহলে মোটামুটি বুঝতে পারতেছেন, কোন পর্যায়ের কবুতর, শারিরিক গঠন ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য অবস্থা ও ট্রেনিং ইত্যাদি হলে এই ধরনের ঘটনা ঘটবে? অনেকে আবার এই ধরনের সুবিধা নেওয়ার জন্য কবুতরের বাজির তোড় ব্যাবহার করেন যাতে সহজে না নামতে পারে। ধন্যবাদ।।

 ট্রেনিং পর্ব ০৩

 ট্রেনিং তো আরম্ভ করবেন, ভাল কথা, কিন্তু কি ধরনের কবুতর নিয়ে আরম্ভ করবেন? অবশ্যই ভাল মানের ও জাতের কবুতর নিয়ে আরম্ভ করবেন, এইটাই স্বাভাবিক। এখন ভাল কবুতর চিনবো কি করে? এটা খুব কঠিন একটা ব্যাপার, যদি আগের থেকে জানা না থাকে এই কবুতরগুলি ভাল মানের। তাছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভাল কবুতর মানে ৬-৭ + ঘন্টা এবং খুব ভাল কবুতর ৯-১০+ ঘন্টা উড়াকে ধরা হচ্ছে। অনেকেই ভাল কবুতর চেনার জন্য চোখ, ড্যানা, লেজ, নখ, ঠোট, বুকের হাড্ডির দৈর্ঘ্য ইত্যাদির উপর নির্ভর করে এবং কেউ কেউ এইভাবে ভালই চেনেন, কিন্তু আমার ধারনা, তারা কেউ ১০০% বলতে পারবেন না, এই কবুতরটি সঠিকভাবে লালন-পালন ও পরিচর্যা করার পরে ৭-৮ + উড়বে। তাছাড়া ভালোর তো শেষ নেই। তাই ভাল খুজতে খুজতে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যাবে, তার চেয়ে বরংচ কোন কোন বৈশিষ্ট থাকলে ধারনা করা যাবে কবুতরটি খুব ভাল নাও হতে পারে এবং এইটাই বোধ হয় কিছুটা সহজ পদ্ধতি। 
(০১). চোখ দেখে বুঝার চেষ্টা করতে হবে, গিরিবাজ কবুতর ব্যাতিত অন্য কোনো জাতের কবুতরের সাথে জোড় দিয়ে কবুতরটির জাত তৈরী করা কিনা? 
(০২). চোখ যদি যথেষ্ট উজ্বল না হয় ।
 (০৩). চোখের গিয়ার তুলনামূলক মোটা ও লালচে ভাবের কিনা? ( এটা একান্তই আমার দেখা অভিজ্ঞতা, ব্যাতিক্রম থাকতে পারে ) 
(০৪). শারীরিক গঠন লেজ পাকের তুলনায় শরীর বড় কিনা? 
(০৫). পা অতিরিক্ত মোটা কিনা ?
 (০৬). পা অতিরিক্ত লম্বাটে কি না?
 (০৭). খাদ্য থলি দেখতে বড় দেখায় কিনা? প্রয়োজনে ঠোটে মুখ দিয়ে হালকা ফু দিয়ে বেলুনের মত ফুলায়ে দেখতে পারেন ।
 (০৮). ঠোট অতিরিক্ত মোটা এবং কিছুটা রেসিং হোমারের আকৃতির কিনা ও নাকের ফুল অতিরিক্ত ফোলানো কিনা? (০৯). ড্যানা খুলে ধরার সময় হালকা শক্তি প্রয়োগ করতে হয় কিনা?
 (১০). হাতে নিয়ে ঝাকি দিলে লেজ অতিরিক্ত খুলে যায় কিনা?
 (১১). লেজের গঠন এলোমেলো কিনা?
 (১২). শরীরের তুলনায় গলা অতিরিক্ত লম্বা অথবা খাটো কিনা? 
(১৩). অতিরিক্ত ঘাড় কাপায় কিনা?
 (১৪). পায়ে অতিরিক্ত মোজা আছে কিনা?
(১৫). এছাড়া একদম নতুন পালকদের কিছু কিছু রঙের ও চেহারার কবুতর যে গুলো কখনই ইতিপূর্বে ভাল রেজাল্ট করেনি, সেগুলো রিস্ক নিয়ে না পালন করাই শ্রেয় এতে সময়ের অপচয় হওয়ার সম্ভবনা বেশী থাকবে, ইত্যাদি ইত্যাদি,
 
এতক্ষন যে হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতরের বৈশিষ্ঠ গুলো বলা হয়েছে তা সাধারন ভাবে কিছুটা ধারনা নির্ভর কবুতরের নিম্নমানের লক্ষন হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে, যে গুলো দিয়ে ৬-৭ + ঘন্টা দম করানো অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়, তবে এমন না যে এর যেকোনো দুই-একটা লক্ষন থাকলেই যে একদম খারাপ হয়ে যাবে, এমনটা আবার ১০০% সঠিক না। এছাড়া আরো কিছু খারাপ বৈশিষ্ট, যে গুলো আকাশে দিয়ে পরীক্ষা করতে হয, যেমন,
 (০১). সার্বক্ষনিক দ্রুতগতিতে উড়া একটি খারাপ লক্ষন, একটি কথা প্রচলিত আছে, যে গরু বেশী দুধ দেয় সে ধীর পায়ে হাটে, ঠিক তেমনি যে কবুতর ধীরে ধীরে উড়ে সেই কবুতর দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম, ও বেশীরভাগ সময় দেরীতে টিপে লাগে।
(০২) মেমোরী কেমন? ................................ চলবে ।। ধন্যবাদ। 

*** বিঃদ্রঃ হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ খারাপ কবুতরের আরো অনেক সুক্ষ সুক্ষ বৈশিষ্ট আছে, যা এখানে ও আগামীতে খোলাসা ভাবে কখনও প্রকাশ করা হবে না, কেননা, তাতে অনেক সময় ব্যাতিক্রম হওয়ার কারনে বিতর্কের সৃষ্ঠি হবে ও আমি বিতর্কের মধ্যে পড়বো, যা আমার কাম্য নয়। সব কিছুতে কিছু ব্যাতিক্রম থাকে, তাই আমি চেষ্টা করবো নতুনদের ঢালাওভাবে অল্প পরিশরে কিছু তথ্য জানানো যায় কিনা। তাছাড়া আমি যেটা সহজভাবে বুঝি, কবুতর না উড়ায়ে ভাল খারাপ বুঝতে পারা ধারনা নির্ভর ছাড়া আর কিছুই না।

 ট্রেনিং পর্ব ০৪

গত পর্বের সুত্র ধরে এই পর্বে প্রথমে হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতরের মেমোরী / স্মরনশক্তি নিয়ে আরম্ভ করতে হবে, যা হোক আমরা অনেকেই একটা কথা বলি হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতরের যদি মেমোরী না থাকে তাহলে সেই কবুতর না পালন করাই ভাল। একথা্টা যেমন সত্য তেমন আবার দেখা গেছে অতিরিক্ত মেমোরী থাকা হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর খুব একটা ভাল পারফর্ম করে না। কারন হিসাবে আমার কাছে যা মনে হয়েছে, তা হলো এই ধরনের অতিরিক্ত মেমোরীওলা কবুতরগুলি বেশী ঘরমুখো, ফলে বেশীক্ষন না উড়ে তাড়াতাড়ি বাসায় নেমে পড়ার জন্য অস্থির থাকে। তাই কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভাল না। ধরে নিলাম আপনার কবুতর ছোটো বেলায় ট্রেনিং এর সময় অতিরিক্ত মেমোরী থাকার জন্য হারালো না, তাতে কি, যদি পরিনত বয়েসে এসে ভাল পারফর্ম না করে। মেমোরী থাকার যে সব সুবিধা আছে, তারমধ্যে অন্যতম, খুব অল্প সময়ের মধ্যে কবুতর বাসা চিনে ফেলে, ফলে কবুতর পালকের কবুতর হারায়ে যাওয়ার টেনশন কম থাকে। এছাড়া মেঘ-বৃষ্টি-কুয়াশা অথবা বাজ পাখির দাবড় খেয়ে হারায়ে আবার ফিরে আসার সম্ভবনা বেশী থাকে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, একটি কবুতরের যে ভাল মেমোরী আছে, তা বুঝবো কিভাবে? কবুতর দেখে এটা বুঝাও খুব কঠিন, তবে কিছু কিছু লক্ষন দেখে ধারনা করা যায়, তার মধ্যে অন্যতম একটি বৈশিষ্ট কবুতরগুলির মাথা কম গোল আকৃতির হয় এবং একটু বড় টাইপের মাথা হয়। ক্ষেত্র বিশেষ নাকের ফুল একটু বেশী ফোলা হয়। তাছাড়া দেখা গেছে বুনো, কালো, মাছিয়া ইত্যাদি এবং কালশীরা প্রজাতির কবুতরের একটু বেশী মেমোরী ।সোজা কথা, একটু জংলিটি টাইপের কবুতরগুলির বেশী মেমোরী হয়। আর যে গুলো আহ্লাদে টাইপের ও সৌখিন টাইপের সুন্দর দেখতে এগুলোর একটু কম মেমোরী হয়। আসলে একটি কবুতরের মেমোরী কতটা ভাল তা বের করার একমাত্র ও নির্ভরযোগ্য পন্থা হলো, কয়েক পত্তন বাচ্চা করে সেই বাচ্চা বাসা চেনানোর থেকে আরম্ভ করে শেষ পর্যন্ত পরিনত বয়স পর্যন্ত প্রাকটিক্যাল উড়ায়ে দেখে, তার পর নিশ্চিৎ হতে হয় যে ভাল মেমোরী ও ভাল দমের কবুতর, এর আগে সম্ভব না। তাছাড়া দেখা গেলো ট্রেনিং এর প্রথম দিকে খুব ভালভাবে নীচে ও মধ্য আকাশে উড়ায়ে বাসা চিনালেন, অথচ সুপার টিপে যেয়ে দিক হারা হয়ে অন্যত্র চলে গেলো ও ফিরে আসলো না। তাই আমি একটি কথা সব সময় বলি, একটি ভাল কবুতরের দীর্ঘ সময় উড়ার ক্ষমতা যেমন থাকা দরকার, তেমনি বাসায় ফিরে আসাও দরকার। তাই, একটি ভাল জাতের হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতরের যেমন দম থাকতে হবে, ঠিক পাশ্বাপাশি প্রয়োজনীয় মেমোরীও থাকতে হবে।প্রয়োজনীয় মেমোরী এই কথাটা এই জন্য বল্লাম আপনার কবুতরের যত বেশী মেমোরী থাকুক না কেন, মেঘের পাল্লায় পড়ে দূরে কোথাও পথ হারায়ে গেলে হয়তো বা ফিরে আসবে না। তাই শুধু মেমোরীর পিছনে ঘুরে সময় নষ্ট না করে সব দিক বিবেচনায় এনে কবুতর পালন করা শ্রেয়। এইজন্য অভিজ্ঞ ব্রিডাররা ক্রসব্রিড ও বিভিন্ন জাতের মধ্যে সেট মিলায়ে মেমোরী ও উড়ার মধ্যে মিলতাল তৈরী করে বাচ্চা তোলার চেষ্টা করেন। হা হা হা, যেতে যেতে এবার আমার মেমোরীতে থাকা কিছু তথ্য দিয়ে আজকের মত ইতি টানতে চাই, সেটা হলো আমি অনেক আগে ইন্টারনেটের একটি রিসার্চ পেপারে পড়েছিলাম যে, রেসার হোমার কবুতর তার স্মৃতিতে ১০০০-১২০০ মত ছবি মনে রাখতে পারে এবং ঠিক তার পাশ্বাপাশি হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর মাত্র ৪০০-৪৫০ মত ছবি তার স্মৃতিতে ধারন করে রাখতে পারে। এছাড়া আমি তখন এও জেনেছিলাম, কবুতর নাকি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি অবস্থান চিনে ও নাকের উপরে থাকা ম্যাগনেটিক ফিল্ড এর সাহায়্যে বাসা খোজার কাজে ব্যাবহার করে। বিষয়গুলি কতটা সঠিক এটা আমি ১০০% নিশ্চিৎ না, কারন ইন্টারনেটে বহু ভুল ও আজগবি তথ্য থাকে, তবে এই ধরনের জটিল তথ্য নিয়ে বেশী কাজ করেন যাঁরা রেসিং এর সাথে জড়িত। (০৩). বাজী ওলা কবুতর ............................. চলবে । ধন্যবাদ। 


 ট্রেনিং পর্ব ০৫ 


“যেমন বাজি তেমন উড়া” এক সময় খুব জোর দিয়ে বলা হতো, গিরিবাজ কবুতর মানেই বাজি থাকতে হবে এবং এটাই ধর্ম । কত ধরনের কত মানের বাজি যে আছে তার ঠিক ঠিকানা নেই, যেমন, আঞ্চলিকভাবে বিভিন্ন নামে পরিচিত কিছু বাজি, খাড়া-বাজি, চলতি-বাজি, সেলাই-বাজি, সড়কি-বাজি, ট্যায়ার-বাজি, হাত-বাজি, ম্যাঠেম-বাজি, লাথি-বাজি, বাম-বাজি, স্ক্রু-বাজি আরো যে কত ধরনের বাজি আছে তার ঠিক নেই। এইসব নাম থেকেই বুঝা যায় কবুতরটি কি ধরনের বাজি খায়? যেমন, হাত-বাজি মানে হাতের থেকে ছাড়লে বাজি খায়, ম্যাঠেম-বাজি মানে মাটিতে বাজি খায়, হা হা হা। তার মানে বুঝা যাচ্ছে আগেকার দিনে উড়ার সময়ের থেকে বাজির বিষয়টাকে বেশী প্রাধান্য দেওয়া হতো, এখন যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এই ধারনাগুলি বিলুপ্ত হওয়ার পথে এবং মানুষ এখন শুধু জানতে চায় কত বেশী সময় উড়ে নামলো? আমি যখন প্রতিযোগীতায় উড়াই তখন যে সকল পর্যবেক্ষকরা আসেন, তাঁদের কাছে গল্পের ছলে বহুবার কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছি, ওমুক তো সেদিন ভালই উড়ালো, তা কবুতরের উড়ার ষ্টাইল আর বাজি কেমন? বাজির গুন সম্পর্কে ভাল কোনো মতামত দু-একজন বাদে তাঁদের কাছ থেকে আজও পাইনি। তার মানে কম বেশী সবাই ধীরে ধীরে বুঝতে শিখেছে, বাজিওলা কবুতর নিয়ে প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করা কঠিন একটা কাজ। তার চেয়ে বরং পাতলা বাজির কবুতর পালন করা শ্রেয়। অবশ্য এখনও অনেকেই বাজিকে বেশিক্ষন উড়ার হাতিয়ার হিসাবে ব্যাবহার করেন, তাদের ধারনা কবুতর যখন নীচের দিকে নামতে চাইবে, তখন বাজির তোড়ে আবার উপরে উঠে যাবে। তবে আমার ধারনা, এই ধরনের জাতের কবুতর দিয়ে এই ধরনের ঘটনা তৈরী করা অনেক সময় কঠিন হয়ে দাড়ায়। কেননা, দেখা গেছে, অনেক সময় বাসা-বাড়ির উচ্চতা অনেক সময় ফ্যাকটর, যেমন এই ধরনের বাজি-ওলা কবুতর নীচু ছাদে বা বামে নামতে গেলে তখনই বাজি ধরে উপরে উঠে যাবে, কিন্তু উচু দালানের ক্ষেত্রে ঐ উচ্চতায় নেমে আসা তার জন্য সহজ হয়ে যায়, ফলে উচু দালান থেকে এই জাতের কবুতর বাজির তোড়ে দীর্ঘ সময় উড়ানো অনেক সময় সম্ভব হয়ে উঠে না, তাছাড়া একবার কষ্ট করে নামা ভালভাবে রপ্ত করে ফেলতে পারলে ঐ কবুতরের কাছ থেকে এই ধরনের সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। আমি বরাবরি অতিরিক্ত বাজির বিপক্ষে, কেননা, আমার ধারনা প্রতিটি বাজি করতে যেয়ে কবুতর যথেষ্ট দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে দীর্ঘ সময় দম করতে সমস্যা হয়। ------------- চলবে । ধন্যবাদ। 

 
ট্রেনিং পর্ব ০৬ 

অনেকেই বোধ হয় অধৈর্য্য হয়ে যাচ্ছেন আমার পোষ্ট পড়তে যেয়ে, ইনবক্স সহ পূর্বের পোষ্টের দুই একজনের কমেন্ট পড়ে আমার সেই রকম মনে হচ্ছে। তাদের জন্য বলছি, আমি পোষ্টের ক্যাপশন “ট্রেনিং” রেখেছি এ কথা সত্য কিন্তু তার মানে এই না যে শুধু ট্রেনিং দেওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেই ট্রেনিং হয়ে যাবে। আপনারা নিশ্চয় এটা স্বীকার করবেন, যে সকল হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতরকে ট্রেনিং দিবেন, তাদের মান যদি সেই পর্যায়ে না হয়, তাহলে আশানুরুপ ফল পাবেন না। তাই আমি চেষ্টা করছি একদম নতুন পালকদের জন্য হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতরের দোষগুনগুলো সহজভাবে তুলে ধরার । যাহোক গত পোষ্টের সুত্র ধরে জানাচ্ছি, নিজের আত্মতৃপ্তির জন্য বাজিওলা কবুতর খুব ভাল কিন্তু আপনি যখন কোনো বড় মাপের কে কতক্ষন উড়াতে পারে? এই ধরনের একটি প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করতে চাইবেন, তখন বাজিওলা কবুতর খুববেশী উপযোগী বলে আমার মনে হয় না। কেননা, এমনও দেখা গেছে আবহাওয়া খারাপ থাকায় ১-২ দিন গ্যাপ দেওয়ার কারনে প্রতিযোগীতার দিন অতিরিক্ত বাজির কারনে যেখানে সেখানে বসে পড়েছে অথবা উড়তেই পারেনি। আমাদের মাথায় রাখতে হবে প্রকৃতিতে ঝড়-বৃষ্টি, মেঘ-কুয়াশা, বাজপাখির উৎপাত থাকবেই এবং ২-১ দিন কবুতরকে না চাইলেও রেষ্ট দিতে হতে পারে, আর যদি এই ধরনের রেষ্ট দেওয়ার ফলে কবুতর অতিরিক্ত বাজির কারনে নষ্ট হয়ে যায়, তার থেকে ঝামেলার আর কি হতে পারে? এবার আসি কোন ধরনের বাজিওলা কবুতরগুলি বেশী ঝামেলা পাকায়? আমার দেখা সব থেকে সমস্যা করে, যেগুলি খুব বেশী শব্দ করে বাজি করে, যেগুলি পা খুলে দিয়ে হেলিক্পাটারের মত দাড়ায়ে থেকে বাজি করে, যেগুলি সেলাই বাজি করে, যেগুলি বাড়ির উপর আসলেই সার্বক্ষনিক বাজি করে। তবে সেইগুলো ভাল, যেগুলো উড়ানোর সময় প্রথম ও নামার সময় বাজি করে এবং মাঝে মধ্যে বাড়ির উপর এসে পাতলা বাজি করে। প্রত্যেকটা জিনিসের একটি সীমা রেখা আছে, যেমন, চাকরীতে Service Length বলে একটা কথা আছে, অর্থাৎ কতদিন একজন মানুষ চাকরি করতে পারবেন? তেমনি হাইফ্লাইয়ার কবুতরও কতদিন ভাল উড়বে এবং মান ধরে রাখবে তারও একটা মাত্রা আছে, সেই হিসাব করতে গেলে অতিরিক্ত বাজিওলা কবুতর এক সিজন থেকে আর এক সিজন পর্যন্ত টেনে নেওয়া অনেক কষ্টের ব্যাপার হয়ে দাড়ায়, কিন্তু পাতলা বাজির প্লেন কবুতরগুলি ২-৩ সিজন পর্যন্ত উড়ানো যায়।সাধারনত, বাজীওলা কবুতর অল্প বয়সে ভালই কসরত দেখায়, আর তাতেই আমরা অনেকে মনে করি, না জানি ১০ পাক ঝাড়ার পরে কতই না ভাল হবে। আসলে বাজির তোড়ে অল্প বয়সে সহজে নামতে পারে না এবং ক্ষেত্র বিশেষ অনেক দম করে, যেটাকে অনেকে হুতাশে উড়া বলেন এবং এই উড়াটাকে কাজে লাগিয়ে অনেকে আবার ভাল ফল বের করে আনেন, অবশ্য তার জন্য চাই অনেক বড় মাপের অভিজ্ঞতা, যা সাধারন কবুতরবাজদের জন্য পারা কঠিন। 
বাজির কবুতরগুলোকে সাধারনত Roller Pigeon বলে।
 (০১). Birmingham Roller 
(০২). Galatz Roller
 (০৩). Oriental Roller 
(০৪). Parlor Roller 

আমার ধারনা এদের সংশিশ্রনেই আমাদের হাতে বর্তমানে এইসব বাজিওলা কবুতর, আমরাতো মিক্সড ব্রিড ও ক্রস ব্রিড করাতে ওস্তাদ, হা হা হা। ---------------------- চলবে। ধন্যবাদ। ** অতিরিক্ত বাজি হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতরের জন্য সব থেকে খারাপ একটি লক্ষন আর এটা নতুন পালকদের বুঝানোর জন্যে আমাকে ধান বানতে গীত গেতে হয়েছে। যা হোক আরো অনেক বলার ছিল কিন্তু লেখাটা অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে বিধায় আমাকে তাড়া-হুড়া করে আগামী পর্বে বাস-স্থান ও খাবার-দাবার সম্পর্কে ছোট ছোট কিছু কথাবার্তা বলে মুল ট্রেনিং পর্বের বিষয়ে ফিরে যাবো এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যাপারে কোনো অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো না, কেননা আমি ডাক্তার নই, আমার ভুলের কারনে যদি কারো বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যায় সেটা হবে আমার জন্য বিব্রতকর। 

 ট্রেনিং পর্ব ০৭ 

বাসস্থানঃ আমরা অনেকেই জানি কবুতর উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী (উষ্ণশোণিত প্রাণীও বলা হয়) , ফলে ঠান্ডা একদম সহ্য করতে পারে না। সাধারণত শীতল পরিবেশে এরা দেহাভ্যন্তরে গৃহীত খাদ্য থেকে বাড়তি তাপ উৎপাদন করে এবং এদের দেহস্থ সঞ্চিত চর্বি অথবা লোম, পালক ইত্যাদি বহিঃঅঙ্গ দেহস্থ তাপ হারাতে বাঁধা দেয়। অন্যদিকে উষ্ণ পরিবেশে এদের দেহ উপরিস্থ জলীয় উপাদান (moisture) বাষ্পীভবনের (evaporation) মাধ্যমে শরীরকে শীতল রাখে। এরা প্রচুর পরিমানে খাবার গ্রহন করে থাকে কিন্তু তার তুলনায় অতি স্বল্প খাবার বডি মাস এ রুপান্তরিত হয়। এই কথাগুলো বলার উদ্দেশ্য, আর কিছু হোক বা না হোক আপনার কবুতরকে সেই সকল খাদ্য দিতে হবে এবং বাসস্থান অবশ্যই এমনভাবে তৈরী করতে হবে, যেন, মোটেও কবুতরের অতিরিক্ত ঠান্ডা ও অতিরিক্ত গরম না লাগে।তবে হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর যথেষ্ট গরম সহ্য করতে পারে। কিন্তু, ঠান্ডা একদমই সহ্য করতে পারে না এবং এই কারনে ঠান্ডা জনিত রোগ বালাই বেশী হয়। আমাদের সবার উচিৎ এমনভাবে কবুতরের বাসা তৈরী করা যাতে শীতকালে ঠান্ডা মোটেও না লাগে, আর দেখা গেছে, ঠান্ডার থেকেই যতসব বড় বড় রোগব্যাধি হয়ে অনেকের শখের কবুতর ধ্বংশ হয়ে গেছে। এখন আপনারা আপনাদের খোপ কিভাবে তৈরী করবেন, সেটা আপনাদের বিবেচনা, তাছাড়া এখন ইন্টারনেটের যুগ আপনারা চাইলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম খোপ দেখতে পারবেন ও ইচ্ছা করলে তার থেকে বিবেচনা করে খোপ তৈরী করে নিতে পারবেন। ঠিক তেমনি গরম কালেও আপনার কবুতরের খোপ খোলামেলা ও পর্যাপ্ত বাতাস যাতায়তের ব্যাবস্থা থাকা উচিৎ, যাতে করে গুমোট পরিবেশ সৃষ্টি না হয়ে কবুতর অসুস্থ হয়ে যায়। আমার ধারনা কাঠের খোপ সবদিক থেকে আদর্শ, কেননা কাঠ তাপ-কুপরিবাহী, ফলে গরমকালে অতিরিক্ত গরম এবং শীতকালে অতিরিক্ত ঠান্ডা হবে না এবং কাঠের খোপে হটাৎ করে তাপমাত্রার তারতম্য পরিবর্তন হয় না। খাদ্যঃ অনেকের ধারনা শুধুমাত্র ভাল ভাল খাবার খাওয়ালেই হাইফ্লাইয়ার কবুতর ভাল দম করে। এই কথাটা একেবারেই সঠিক না। তাছাড়া আবার অনেকের ধারনা, পাকিস্তান ভারতের কবুতর পালকরা যে ধরনের উচু মানের খাবার তাদের কবুতরকে দেন, সেই খাবার না খাওয়ালে কবুতর ভাল উড়ে না। হা, একথা সত্যি আবহাওয়া ও শরীরের প্রয়োজনে যে আবহাওয়ায় যে খাবার প্রয়োজন, ঠান্ডার সময় শরীর গরম রাখবে এই ধরনের খাবার, আর গরমের সময় শরীর ঠান্ডা রাখবে সেই খাবার দেওয়া উচিৎ , সেইভাবে খাওয়াতে পারলে অবশ্যই ভাল ফল পাওয়া যায়। তবে, একটা কথা আমাদের বুঝতে হবে, প্রকৃতিতে তার প্রয়োজন অনুযায়ী সব কিছু এলাকা ভিত্তিক ফলন হয়।যেমন, পাকিস্তান ভারতে যে ধরনের খাদ্য শস্য উৎপাদন হয়, তা আমাদের দেশে হয় না, আবার আমাদের দেশে যেটা সহজ লভ্য সেটা পাকিস্তান ভারতে পাওয়া যায় না। আমাদের আবহাওয়ার সাথে সামাঞ্জস্য রেখে প্রকৃতিতে সেই সকল খাদ্যশস্য ফলন হয় এবং এটা আমাদের ও আমাদের প্রানীকুলের জন্য উপযোগী।--------- চলবে। ধন্যবাদ ধর্য্য ধরে সঙ্গে থাকার জন্য। *** ইতিপূর্বে হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতরের মান, বাসস্থান ও খাদ্য সম্পর্কে নতুন পালকদের প্রাথমিক ধারনা দিতে যেয়ে অনেক সময়ক্ষেপন হয়েছে, তার পরেও আমার ধারনা ১০% ধারনা দিতে পেরেছি কিনা, সন্দেহ। ইচ্ছা আছে, আগামী পর্বে সরাসরি ট্রেনিং এ চলে যাবো, তাই, তার আগে আমি আপনাদের কাছ থেকে এই পোষ্টের কমেন্টের মাধ্যমে জানতে চাই, আপনাদের কোন প্রশ্ন আছে কিনা? যেটা জানা থাকলে আমার ট্রেনিং সংক্রান্ত তথ্যগুলি সাজাতে সহজ হবে। 

 ট্রেনিং পর্ব ০৮ 

পূর্বের পোষ্টের অনেকের কমেন্ট থেকে দেখলাম, একটা বিষয় খুব বেশী প্রাধান্য পেয়েছে, সেটা হলো, কি ধরনের খাদ্য খাওয়ালে হাইফ্লাইয়ার কবুতর ভাল থাকবে ও ভাল পারফর্ম করবে? এবার আমার অভিজ্ঞতার কথা বলি, ব্রিডার কবুতরকে সারা বছর ভাল ভাল যত খাবার আছে, খাওয়ান, কোন সমস্যা নেই, কিন্তু যে কবুতর উড়াবেন তাকে শুধু মাত্র নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ানো উচিৎ, যাতে করে নির্দিষ্ট মাত্রার দৈহিক গঠন নিয়ে ট্রেনিং এ ও প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করতে পারে। তার মানে সহজ কথা এটা দাড়ালো, উড়ানো কবুতরকে সারা বৎসর ভাল ভাল খাবার না খাওয়ালেও চলবে, প্রয়োজনে আধপেটা খাবার খাওয়ায়ে রেখে দেওয়া যেতে পারে। আমি পূর্বেই বলেছি, হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতরকে রেসার কবুতরের শারীরীক শক্তির সাথে তুলনা করা যাবে না, রেসার কবুতর উড়ে দৈহিক শক্তির জোরে, আর হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর উড়ে তার রক্তের গুনের কারনে। দেখেন না, বাড়ী চোখের সামনে থাকার পরেও নামে না এবং নামতে চাইলেও সহজে নামতে পারে না। লক্ষ্য করে দেখবেন, ১০-১২ ঘন্টা উড়া কবুতর যখন নেমে আসে তখন তার কি ভয়াবহ অবস্থা, সে কি ১০-১২ ঘন্টার আগে নামতে পারতো না? কিন্তু পারেনি তার রক্তের গুনের ও অতিরিক্ত দুর্বলতার কারনে। সুতো ছেড়া ঘুড়ির মত শেষের ৩-৪ ঘন্টা উড়তে থাকে। একটা ছোট উধাহরন দিলে বুঝতে পারবেন, ম্যারাথন দৌড়ে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীরা এক সময় এমন অবস্থায় পড়ে, যে চাইলেও হটাৎ করে দৌড় থামায়ে দিতে পারে না তার গতির কারনে, ঠিক তেমনি আমাদের একটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার, আমাদের কবুতরের প্রাথমিক ধাপটা পার করায়ে দিতে পারলেই, বাদবাকিটা সে না চাইলেও উড়তে থাকে। তাই আমাদের সবার একটা বিষয় বেশী নজর দেওয়া দরকার, সেটা হলো, আমাদের কবুতরের যেন অতিরিক্ত স্বাস্থ্য না হয়। আরো একটি বিষয়, এরা প্রচুর পরিমানে খাবার গ্রহন করে থাকে কিন্তু তার তুলনায় অতি স্বল্প খাবার বডি মাস এ রুপান্তরিত হয়।তাই আমার যুক্তি অনর্থক বেশী ভাল মানের খাবার না খাওয়ায়ে যতটুকু দরকার ঠিক ততটুকু দেওয়া উচিৎ। 
শুধু কিছু কিছু জিনিস খেয়াল রাখতে হবে, গরমের সময় যেন এমন খাবার না দেওয়া হয়, যাতে করে শরীর বেশী গরম হয়ে যায়, আবার শীতের সময় এমন খাবার দেওয়া উচিৎ, যাতে করে শরীর গরম থাকে। অর্থাৎ ওয়েল সীডের ( শরীষা দানা, চিনা, সূর্যমূখী ফুলের বীজ ইত্যাদি ) যোগানের পরে নির্ভর করবে শরীরের সহনীয় ব্যাপার। ওয়েল সীড কম বেশী করে দিয়ে ব্যালান্স করা দরকার . আর এছাড়া সারা বৎসর ধান, চাউল, গম, ছোলা, কালো দানা, ভুট্টা, ডাবলী ইত্যাদি প্রয়োজন মত দেওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত গরমে ভুট্টা না দেওয়া ভাল এবং পোল্ট্রি ফিড একদম না ব্যাবহার করাই ভাল। কেননা, প্লোট্রি ফিডে আমিষ জাতীয় উপাদান মিশ্রন করা থাকে যা কবুতরের জন্য সঠিক না।যা হোক নতুনদের জন্য আমার নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি এবং আমি তাদেরকে এইভাবে জানাতে চাচ্ছি যে, আগামীতে তারা নিজেরাই এক একজন অভিজ্ঞ কবুতরবাজ হবেন এই প্রত্যাশায় এবং আমার ধারনা ওনারা আমাদের থেকে আরো বেশী অভিজ্ঞ হবেন, যেটা আমাদের সময় আমরা হতে পারিনি, কেননা, এখন ইন্টারনেটের বদৌলতে নতুনদের হাতের মুঠায় পৃথিবীর অফুরন্ত তথ্য। নতুনদের জন্য আমার কবুতরের খাদ্য বিষয়ক ইনফরমেশন এইটাই, আপনারা আপনাদের হাতের কাছে বাংলাদেশে উৎপাদিত সহজলভ্য যা খাদ্য দানা আছে তাই আপনাদের কবুতরকে খাওয়ান, শুধু মাত্র খেয়াল রাখতে হবে আবহাওয়া যেদিন ঠান্ডা থাকবে, সেদিন ওয়েল সীডের মাত্রা বাড়ায়ে দিতে হবে এবং আবহাওয়া যেদিন অতিরিক্ত গরম থাকবে সেদিন ওয়েল সীডের মাত্রা কমায়ে দিতে হবে। মোট কথা, আমরা যেমন বৃষ্টি হলে খেচুড়ি রেধে খাই, আবার গরম পড়লে পান্থা ভাত খাই, এরকম আর কি, হা হা হা। এখানে গ্রীষ্মকাল - শীতকাল কোনো ব্যাপার না, আপনাকে প্রতিদিনই আবহাওয়ার তাপমাত্রার সাথে তাল মিলায়ে খাদ্য তালিকা তৈরী করা বুদ্ধিমানের কাজ। একবারে সারা বছরের বা মাসের খাবার তৈরী করে বস্তা ও কৌটা ভরে রাখবেন তা কিন্তু না। আলাদা আলাদা পাত্রে খাবার মজুদ থাকবে এবং প্রতিদিনই আবহাওয়ার সাখে তাল মিলিয়ে প্রয়োজন মত খাবার মিশ্রন করে খেতে দিবেন। অনেকে রুটি খাওয়ান, কেন খাওয়ান এটা আমরা অনেকেই জানি না, তবে প্রধান দুটো কারন, এক নম্বর, দ্রুত হজম হয়ে যাবে এই কারনে, আর দুই নম্বর, অনেক শস্য দানা আছে যার অরুচি ও তিক্ততার জন্য কবুতর খেতে চায় না, ফলে গুড়া করে রুটি বানায়ে খাওয়ানো হয়। দানাদার খাবার নিয়ে আমরা সব সময় চিন্তা করি, কিন্তু আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি? আমাদের কবুতরকে যে পানি খেতে দেই, তা কতটা স্বাস্থসম্মত? এমনওতো হতে পারে আপনার সরবরাহ করা পানিতে যথেষ্ঠ আইরোন ও আরসনিক আছে, অথবা প্রচন্ড খারীয় অথবা অম্ল? তাই বলছি এইগুলোও মাথা রাখা আমাদের জরুরী। সর্বশেষে আজকের মত একটা গুরত্বপূর্ন কথা না বল্লেই না, সেটা হলো, আপনার হাইফ্লাইয়ার কবুতরের জাতের মধ্যে যদি উড়া না থাকে, আপনি যতভাল খাবার খাওয়ান না কেন, কোন কাজ হবে না। আপনাকে শুধু খেয়াল রাখতে হবে এমন খাবার দেওয়া যাবে না, যাতে করে শরীর মোটা হয়ে যাবে, অথবা রুগ্ন হয়ে যাবে। ------------ চলবে ।। ধন্যবাদ ধর্য্য ধরে সঙ্গে থাকার জন্য। **** 
ভেবেছিলাম এই পোষ্টের থেকে ট্রেনিং এর মুল পর্বে চলে যাবো, কিন্তু অনেকের খাদ্য ব্যাস্থপনা বিষয় জানার চাহিদা থাকার কারনে এবারও পারলাম না। আগামী দিন পারবো কিনা, তাও জানি না, হা হা হা। এক খাদ্য ব্যাস্থপনার উপর পোষ্ট দিতে গেলে আরো ৫ - ৬ টা পর্বে শেষ করতে পারবো কিনা সন্দেহ। সহজ কথা শুধু এইটুকু জানুন, একজন ভাল হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ পালক হতে গেলে আপনাকে অনেক গুনের মধ্যে একজন উচুমানের ডায়েটিসিয়ান / নিউট্রশনিস্ট ও হতে হবে, হা হা হা।

 ট্রেনিং পর্ব ০৯

 মাথার থেকে একদম ফেলে দেন যে, শুধুমাত্র দামিদামি খাবার খেয়েই হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর ভাল পারফর্ম করে। প্রায় প্রতিটি পর্বে আমি জোর দিয়ে একটা কথা বলে এসেছি, যদি আপনার কবুতরের জাতের মধ্যে দম থাকে, তবে অবশ্যই সে উড়বে। যা হোক আবারো ফিরে যাচ্ছি খাদ্য ব্যাবস্থাপনার উপর। আমাদের একটা সহজ কথা মনে রাখতে হবে, খোপের সব কবুতরের হজমশক্তি কিন্তু সমান না, যেমনটা সব মানুষের হজম শক্তি সমান না। তাই বিবেচনা করে বয়সের ও শারীরিক যোগ্যতার উপর ভর করে প্রতি দিনের খাবার দেওয়া উচিৎ এবং হটাৎ করে বড় ধরনের পরিবর্ত করে নতুন নতুন ধরনের খাবার দেওয়া উচিৎ না। এতে হটাৎ করে হজম বিপাকীয় পদ্ধতিতে সমস্যা হবে, এমন কি ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। তাই নতুন কোনো খাদ্য দানা সংযুক্ত করতে চাইলে ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিনত করে দেওয়া উচিৎ। তাছাড়া ফ্লাইং লফ্টের যে কবুতর গুলির হজম শক্তি দুর্বল সেগুলোকে আলাদাভাবে নরম খোসাযুক্ত খাবার দিতে হবে এবং প্রয়োজনে আলাদা ভাবে রাখার ব্যাবস্থা করতে হবে। কি মাপের খাওয়াবেন এবং কতটুকু খাওয়াবেন এটাও কোনো মুখ্য ব্যাপার না, আপনাকে শুধু দেখতে হবে আপনি যে খাদ্য দ্রব্য খাওয়াচ্ছেন তা, রাত্রের মধ্যে সম্পূর্ন হজম হয়ে যাচ্ছে কিনা? এবং পরের দিন সকালে ভোরে খাদ্য থলি একদম শুন্য হয়ে যাচ্ছে কিনা? আর তা শরীরীরে লাগছে কি না? “আর শরীরে লাগছে কিনা?” এটা বুঝাই একজন ভালমাপের কবুতরবাজের বড় গুন ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আপনিও এক সময় হাতে ধরে অনুভব করতে পারবেন, কবুতরটি সুস্থ সবল আছে কিনা? এবং এই অভিজ্ঞতা অর্জন কিভাবে করতে হবে? তার কোনো ধরা বাধা ছক নেই অথবা আমি মনে করি কোনো সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিও নেই। সহজ কথা আপনাকে কিছুদিন হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর হাতে নিয়ে নড়া চড়া করলেই অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন আশা করি। এটা কোনো সৌখিন কবুতরের বডি ওজনের মত হাতে নিয়ে বুঝার উপায় নেই।হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর বডি অনেকটা হালকা হবে কিন্তু পাশাপাশ্বি হাতে নিলে যথেষ্ঠ ছটপটে ও শক্তিশালী মনে হবে। আর একটি মজার ব্যাপার হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর আগাম আবহাওয়ার পূর্বাভাস বুঝতে পারে এবং যদি ঝড়-বৃষ্টি ও ঠান্ডার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভবনা থাকে, তখন তারা গা ফুলায়ে খোপের মধ্যে বসে থাকে, তাই দেখে আবার অনেকে ভুল করে ট্রিটমেন্ট আরম্ভ করে দেন। তাই ট্রিটমেন্ট চালু করার আগে, এমন কিছু শরীর গরম করা খাদ্য ( শরীষা দানা ) খেতে দেওয়া উচিৎ, যা খেলে গা ফোলানো বন্ধ করে প্রানচঞ্চলতা দেখাবে। আপনার হাতের কাছে যে খাদ্যগুলি বেশী সহজলভ্য ও আবহাওয়ার সাথে উপযোগী সেইটাই খাওয়াবেন। কোনো মানুষকে যদি সারা বৎসর ভাল ভাল খাবার খাওয়ানো হয়, সেও এক সময় অসুস্থবোধ করবে। তাই আমার মতামত, কবুতরকেও যখন প্রতিযোগীতায় ও ট্রেনিং এ উড়াবেন, তখনই শুধু এক্সট্রা যত্ন নেবেন ও খাদ্য মান বৃদ্ধি করবেন। আমাদের শুধু কয়েকটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে, উড়ানো কালীন সময়ে এমন কোনো খাদ্য দেওয়া যাবে না, যাতে করে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পায়, কিন্তু যে খাদ্যে প্রচুর শক্তি আছে অথচ ওজন নিয়ন্ত্রনে থাকবে, যেমন, বাজরা, পপকর্ন, কাওন, ভাল মানের ধান ইত্যাদি। এছাড়া দানাদার খাবারের পাশ্বাপাশি পানির সাথে মাঝে মাঝে ঔষদিগুন সম্পন্ন মশল্লাও ব্যাবহার করতে পারেন, যেমন, কাঁচা হলুদের রস, আদার রস, রশুনের রস, ত্রিফলার পানি, এলাচ-দারুচিনির-লবংগের জাল দেওয়া পানি ইত্যাদি । এগুলি সবই আপনাকে ধীরে ধীরে রপ্ত করতে হবে, এব্যাপারে আমি এই মহূর্তে তেমন কোনো মতামত ও অভিজ্ঞতা প্রকাশ করবো না, কেননা, আমার এখন এই মুহুর্তে একটাই উদ্দেশ্য নতুনদের কাছে প্রমান করে দেওয়া, ভাল কবুতরের জন্য শুধু খাদ্যই তেমন মুখ্য ব্যাপার না, কারন আপনার যদি গাড়ীই ভাল না থাকে, তাতে পেট্রোলের বিকল্প অকটেনের ব্যাবহারে কিছুই যায় আসে না। তাই আমি আশা করছি আমি যখন কবুতরের মুল ট্রেনিং পর্বে চলে যাবো, তখনই অনেকেই বুঝতে পারবেন, তারা কোন মানের কবুতর নিয়ে ফাইট করতে যাচ্ছেন? কেননা, তখনই খুটি নাটি বিষয়গুলি ধরা পড়বে। যাহোক, খাবার দেওয়ার সময়, কবুতর এ্টা যেন উপলব্ধি করতে না পারে, যে তাকে প্রতি দিন প্রতিযোগীতার মাধ্যমে হুড়ো হুড়ি করে খেতে হবে, তাহলে সে খাওয়ার লোভে না উড়ে আগে আগে নেমে আসার বদ-অভ্যাস তৈরী করবে।বিষয়টা অনেকের কাছে হাস্যকর হলেও খেয়াল করে দেখবেন। তাই অনেক সময় অনেক ভাল মানের কবুতরও এই ধরনের খাওয়ার প্রতিযোগীতায় পড়েে খারাপ হয়ে যায়।সব কিছুই মাথা রেখে চলতে হয়, আর আমি মনে প্রানে একটা কথা বিশ্বাস করি, হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর পালকরা সব সময় প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন হয় ও সহজে যে কোনো জিনিস ধারন করতে পারেন। সাধারনত, যখন খেতে দেবেন তখন যেন খুব বেশী না খায়, তার জন্য আমাদের লক্ষ্য রাখা দরকার, তাই যখন খেতে দিবেন তখন প্রথমেই কিছু অতি ক্ষুদ্র দানাদার খাবার যেমন, কাউন, শরিসা ইত্যাদি পরিমান মত খাওয়াবেন ও পানি খেতে দিয়ে আবারও বিরাম নিয়ে কিছুক্ষন পরে বড় দানার অনান্য যেমন, ধান, চাল , গম, পপকর্ন , বাজরা ইত্যাদি খেতে দেবেন, তাতে দেখা গেছে খাদ্য থলিতে পানি থাকাতে ও অনেক সময় নিয়ে পূর্বের খাদ্য দানা খেতে যেয়ে বিরক্ত হয়ে পরের বার পরিমিত খেতে বাধ্য হচ্ছে। শুধু এইটুকু বলে আজকের মত বিদায় নিতে চাচ্ছি, যখন, বাজরা, সূর্যমূখী ফুলের বিচি, কাওন, চিনা ইত্যাদির নামও জানতাম না, তখনও কবুতরকে ধান শরীষা খাওয়ায়ে সকাল-সন্ধা উড়াতাম, এখনও উড়াই, শুধু মাঝখানে এখন ভাল ভাল মানের খাবার খাওয়ায়ে একটু বেশী সাপোর্ট নিচ্ছি যেন আরো ভাল হয়, এই ছাড়া আর কিছুই না। আবারও বলি হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতরের পারফর্ম শুধুই খাদ্য নির্ভর না, এরা জাত নির্ভর, অভ্যাস নির্ভর ও অনুকরন প্রিয়। ধন্যবাদ, ধর্য্য ধরে পড়ার জন্য। ***
 আমি আমার পরিচিত জনদের প্রায় বলি, বছরের অলস সময় গুলোতে যখন উড়াউড়ি করানো না হয়, তখন ফ্লাইং লফ্টের হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতরকে এমন ভাবে মানুষ করো যেন তারা “বেঁচে থাকার জন্য খায়, খাওয়ার জন্য বেঁচে না থাকে”, এভাবেই ওদের অভ্যাস গড়ে তোলো। 

 ট্রেনিং পর্ব ১০ 

দীর্ঘ সময় কবুতর উড়ানো কোনো রকেট সাইন্স না, যে আমরা পারবো না। শুধু চাই হাতের কাছে ভাল উড়া জাতের কবুতর, আর কিছু পদ্ধতি জানা থাকতে হবে, যার মাধ্যমে সুস্থ ও ফিট কবুতরের কিছু বদ-অভ্যাস নষ্ট করে দিতে হবে এবং কিছু ভাল অভ্যাস তৈরী করে দিতে হবে, এটাই সহজ কথায় ট্রেনিং। কবুতর নিশ্চয় আপনার আমার মত ডানে যাও বায়ে যাও এগুলো বুঝে না। গত কোন এক পর্বে আমি চেষ্টা করেছি চোখের প্রাথমিক দেখার উপর নির্ভর করে খারাপ কবুতর কেমন হবে তা মোটামুটি ধারনা করতে পারা । তাই ধারনা নির্ভর ভাল কবুতর এখন আমাদের উড়ায়ে দেখা দরকার। স্বাবাভিক ভাবে ট্রেনিং এ এখন যা কিছু পরীক্ষা নিরিক্ষা হবে তা ১০০% সঠিক হওয়া চাই এবং এখন আমাদের শুধু চোখ খোলা থাকবে কিন্তু কান একদম বন্ধ থাকবে, কারো কথা আমরা এখন আমল দেবো না। চোখের সামনে যা ঘটবে ঐটাই সঠিক। কবুতর সংগ্রহ করার সময় যদি সম্ভব হয় প্রয়োজনে ১০ বার ভাববো আর সম্ভব হলে নিজের চোখে দেখে নেওয়ার চেষ্টা করবো অথবা খুব ঘনিষ্ট জনের কাছ থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে, তবেই কবুতর লফ্টে ঢুকানো উচিৎ। প্রয়োজনে, অনেক সময় ড্যানা কাটা বুড়ো কবুতরের মার্কিং দেখে আমাদের সংগ্রহ করতে হয় অথবা কোনো ভাল ব্রিডারের কাছ থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করতে হয়। তাই সে ক্ষেত্রে কবুতরের মান যাচাইয়ের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। তবে, সংগ্রহ করার সময় কবুতরের ফ্লাইং সাইকেল সম্পর্কে বিক্রেতা / দাতার কাছ থেকে আগাম কিছু ইনফর্মেশন জেনে নিলে আগাতে সুবিধা হয়। যে সব বিষয় বেশী জানার দরকার হয়, সেটা হলো 
(০১). কোন বয়েসে কোন পাকে কিভাবে কতক্ষন উড়বে? যা আগে উড়ানো ও দেখা আছে।
(০২). যে কবুতরটিকে যখন থেকে ট্রেনিং / উড়ানো আরম্ভ করা হবে, আনুমানিক তার কত দিন পর থেকে পূর্ন দমে চলে যাবে?
 (০৩). এছাড়া আরো একটি বিষয জানা খুব জরুরী হয়, সেটা হলো কবুতরটি কি শুধু শীতকালে উড়ে? নাকি গরমকালে উড়ে? অথবা শীত-গরম উভয় সময় উড়ে? ইত্যাদি ।

 নতুনদের কাছে এবার আরো একটি অজানা বিষয় সহজ করে তুলে ধরছি, যা ট্রেনিং এর সময় ভাল কবুতরের ক্ষেত্রে সচারাচর ঘটে, সেটা হলো, আমার দেখা অভিজ্ঞতা, যত ভাল মানের কবুতর দেখেছি, তাদের দম বাড়ার ধাপ ধীরে ধীরে বাড়তে দেখিনি। যেমন দেখা গেছে, প্রথম দিন ১০ মিনিট, দ্বিতীয় দিন আধা ঘন্টা, তার এক দিন পর দেড় ঘন্টা, তার একদিন বাদে তিন ঘন্টা, তার এক-দুই দিন বাদে ৫-৬ ঘন্টা তার ১-২ দিন বাদে ৮-৯ ঘন্টা বা সন্ধায় নামতে না পারা। মোট কথা দম বাড়ার ধাপগুলো হয় বড় বড়। আর যেগুলো ধীরে ধীরে দম বাড়ে তাদের বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে প্রতি দিন ১০-১৫ মিনিট করে ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে এক সময় ৪-৫ ঘন্টা পর্যন্ত এসে থেমে যায় এবং ফিক্সড হয়ে যায়, অবশ্য মাঝে মধ্যে হটাৎ করে কারিশমা দেখায়। তার মানে বর্তমান মানডন্ডে এইসব কবুতরগুলি আমার হিসাবে মধ্যেম সারির। আমার এই অভিজ্ঞতা শতকরা ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে সঠিক হতে দেখেছি, আবার এও দেখেছি, কোনো কোনো কবুতর ১০ পাক না ঝাড়া পর্যন্ত মোটেই ভাল পারফর্ম করে না। এছাড়া এটাও প্রায় দেখি, একই মা-বাবার বাচ্চা কোনোটা অনেক ভাল আবার কোনোটা খুব খারাপ। তাই আমি সব সময় বছরে ১০% ভাল কবুতর পেলেই সন্তুষ্ট। যাহোক, আগেই বলেছি আবারও বলছি, আমার কাছে কবুতরের ট্রেনিং এর বিষয়টি একটু অন্য রকম, ভাল জাতের কবুতর হাতের কাছে অবশ্যই থাকতে হবে, আর আমি ওদের কিছু বদ-অভ্যাস ঠিক করে ফেলানোর চেষ্টা করবো এইটুকু, আর কিছু ভাল অভ্যাস তৈরী করে দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাই অবশ্যই ভাল উড়া জাতের হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর হতে হবে।নিশ্চয় গরু-ছাগল ট্রেনিং দিয়ে ঘোড়া বানানো যাবে না, অবশ্যই ঘোড়া লাগবে, তাহলেই তাকে রেসের জন্য উপযোগী করার চেষ্টা করা যেতে পারে। ট্রেনিং এর জন্য সাধারনত একই জাতের কবুতর ও ফ্লাইং ষ্টাইল একই হলে ভাল হয়, তাতে যিনি ট্রেনিং দেবেন, তার জন্য কিছুটা সহজ হয় এবং দোষত্রুটি বুঝতে সুবিধা হয়। বিভিন্ন জাতের হলে একটা একটাকে অনুকরন করার জন্য অনেক সময় ভাল কবুতরও খারাপ হয়ে যায়।আগেও বহু পোষ্টে বলেছি, কবুতর প্রচন্ড অনুকরন প্রিয়। ভাল উড়া কবুতরের কিছু গুনের মধ্যে অবশ্যই দুই একটা গুন না থাকলে বড় মাপের দম পাওয়া সম্ভব না। তার মধ্যে অন্যতম, মেমোরী, চালাক ও সাহসিকতা ইত্যাদি। অনেকের কাছে সাহসিকতার ব্যাপারটা হাস্যকর ও অযৌক্তিক লাগতে পারে, তাদের কাছে হয়তো বা মনে হচ্ছে, কবুতর কি যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করতে যাবে? যে সাহসিকতা লাগবে? হা হা হা । --------- চলবে। ধন্যবাদ, ধর্য্য ধরে সঙ্গে থাকার জন্য। *** গত পোষ্টের অনেকের কমেন্ট ও মেসেজ বক্সে খাদ্য খাবার নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আগে না হয় আমরা চেষ্টা করি, ঐ সব দামিদামি খাবার ছাড়া কিভাবে সাধারন খাবার খাওয়ায়ে ৭-৮ ঘন্টা উড়াতে পারি, তারপর না হয় ভাল খাবার খাওয়ায়ে আরো ২-৩ ঘন্টা বাড়ায়ে নেওয়ার চেষ্টা করবো। আগেতো জানি, আমাদের লফ্টের প্রত্যেকের কবুতরের দৌড় কতদূর ? **** “ফ্লাইং সাইকেল” এই শব্দটার বইতে আভিধানিক কোনো বাখ্যা আছে কিনা আমার জানা নেই, তবে আমি বুঝাতে চেয়েছি একটি কবুতর যখন উড়া শেখে তার থেকে সর্বচ্চো কত দিন একটানা সার্ভিস দেয়? যেমন কোন কোন কবুতর ৪-৫ বৎসর বুড়া না হওয়া পর্যন্ত ভালই উড়তে পারে ও ভালই দম করতে পারে। 

 collected from https://pigeonsbd.blogspot.com

No comments:

Post a Comment

মিসমার্ক কবুতরই যখন তুরুপের তাস

আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরবো আমার লফটের এক ফাটা বেবির হিষ্ট্রি। কবুতরের কালার মিউটেশন সম্বন্ধে আমার জ্ঞান খুব সামান্যই বলা চলে। গত নভেম্বর...