About Me

My photo
A pigeon lover from a small town. Currently working on Oriental Frill pigeon. passing time with pigeons since 2006

Monday, August 16, 2021

হাইফ্রাইয়ার ট্রেনিং (পর্ব ১১ -২০)

ট্রেনিং পর্ব ১১ 

গত পর্বে উড়ানি কবুতরের কয়েকটি গুনের কথা বলেছিলাম, তার মধ্যে “সাহসিকাতা” একটি বড় গুন, কেননা, আমি লক্ষ্য করে দেখেছি, যেগুলো প্রচুর ভীতু প্রকৃতির সেইগুলো সার্বক্ষনিক ছুটে উড়ার কারনে তাদের শরীরের এনার্জি দ্রুত লস করে, ফলে দীর্ঘ সময় দম করতে পারে না। এছাড়া অতিরিক্ত ভয়ের থেকে শরীর আড়ষ্ট হয়ে ছাদের বা চালের থেকে সহজে উড়তে চায় না, যতই দাবাড়া দাবড়ি করা হোক না কেন। লাঠি দিয়ে পিটালেও উড়তে চায় না, সোজা কথায় যেটাকে আমরা আঞ্চলিক ভাষায় ঘ্যাসড়া বলি। কবুতর দীর্ঘ সময় আকাশে থেকে কত কিছুই না ফেস করতে হয় তার এয়াত্বা নেই। যে সব কারনে কবুতর ভয় পেয়ে অনেক সময় উড়তে চায় না তার মধ্যে 
(০১). কালো মেঘ
 (০২). আবাবিল পাখি / চামচিকা,
 (০৩). ঘন কুয়াশা
 (০৪). আকাশে উড়ে যাওয়া প্লেন অথবা হেলিকপ্টার
 (০৫). উড়ন্ত বেলুন অথবা ঘুড়ি 
(০৬). হটাৎ করে অপরিচিত বাহির থেকে আসা কালো/বুনো রঙের কবুতর
 (০৭). চিল
 (০৮). চরম শত্রু বাজপাখি ইত্যাদি।

 কবুতর যদি একটু সাহসী প্রকৃতির না হয়, তাহলে দেখা গেছে হটাৎ করে ভয় পেয়ে ড্রপ করে যায়।তাই আমি মনে করি কবুতরের মধ্যে একটু সাহসী প্রকৃতির যেগুলো সেইগুলোই এই সব বিপদ মাথায় নিয়েই দীর্ঘ সময় দম করে। তবে এখানে একটি বিষয বলা প্রয়োজন, সেটা হলো, মানুষের ক্ষেত্রে একই মা-বাবার ভাইবোনেরা যেমন সমান সাহসী হয় না, তেমনি কবুতরের ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা গেছে। ট্রেনিং এর জন্য যে সকল কাজ করতে হয় তার মধ্যে অন্যতম সেটা হলো ভাল জাতের সুস্থ কবুতর নির্বাচন করা এবং পোষ মানানো।
 আমার কাছে ট্রেনিং এর সব থেকে কঠিন অধ্যায় মনে হয় কবুতরকে বাড়ী চেনানো। অনেকে অনেকভাবে কবুতরকে পোষ মানান। কিছুটা সহজ হয় (০-১) পাকের বাচ্চাদের পোষ মানানো, কেননা, (০-১) পাকের বাচ্চারা সহজে পোষ মানে কারন তারা চাইলেও বাসা ছেড়ে বেশী দূরে যেতে পারে না, ফলে বাসার আসে-পাশ্বে থাকতে হয়। কিন্তু (০-১) পাকের বাচ্চাদের চরম শত্রু কাক ও চিল। তাই অনেকে অল্প বয়েসি বাচ্চাদের চিল, কাকের চোখ থেকে বাচিয়ে সামান্য বাসা চেনানোর কাজ সম্পন্ন হলে আবারো বসায়ে রাখেন ৪-৫ পাক পর্যন্ত। বাসা চেনানোর সময় কবুতর যেনো বেশী দূর চলে যেতে না পারে এই জন্য অনেকে কবুতরের পাক সেফটিপিন, সুতা , টেপ দিয়ে আটকায়ে দিয়ে ড্যানার জোর কমায়ে দিয়ে ১০-১৫ দিন ছাদের উপর রেখে বাসার আসেপাশ্বে চেনানো হয়, এর পর যখন দেখা যায় বাসা চিনে ফেলেছে, তখন সেফটিপিন, সুতা, টেপ দিয়ে আটকানো থাকলে সেটা খুলে দেয়। অনেক সময় দেখা গেছে, সেফটিপিন, সুতা, টেপ ইত্যাদি খুলে দেওয়ার পরে ডানায় হটাৎ করে জোর পেয়ে যেয়ে দিক-বেদিক উড়া আরম্ভ করে, ফলে অনেক সময় হারায়ে যায়, তাই অনেক সময় গরম কালে পাকনা ভিজায়ে ছাড়া হয় ফলে পাক না শুকানো পর্যন্ত আর উড়তে পারে না এছাড়াও অনেকে ৯-১০ নম্বর পাক টেপ অথবা সুতা দিয়ে বেধে ড্যানার জোর সামান্য কমায়ে ছাড়া হয়। অবশ্য আমি একসময় আঠালো মাটি গুলায়ে পেষ্টের মত করে পাখায় প্রলেপ দিয়ে রোদ্রে শুকায়ে ড্যানার জোর কমায়ে রাখতাম এবং বয়সের সাথে সাথে পাক ঝেড়ে অথবা গোছল করার কারনে মাটির প্রলেপ ধুয়ে পরে সব ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যেত। বাসা চেনানোর জন্য অনেকে বাম ব্যাবহার করেন। বামের উপর কবুতর বসায়ে রেখে বাসার থেকে যতদূর কবুতর দেখতে পায় তার ব্যাবস্থা করা হয়। অনেক সময় দেখা গেছে বাম উচু হওয়াতে কবুতর বামে বসাতে অসুবিধা হয়, তাই অনেকে দুই তিনটা বিভিন্ন উচ্চতার বাম সেট করেন। আবার কেউ কেউ উন্নতমানের বিভিন্ন উচ্চতায় সেট করার জন্য লিফ্ট টাইপের বামও তৈরী করেন। বিভিন্ন উজ্বল রঙের পতকা বাসার উপর অনেক উচ্চতায় উড়ায়ে রাখা হয়, যাতে করে কবুতর বাসা হারায়ে ফেল্লেও দূর থেকে পতাকা দেখে ফিরে আসতে পারে। অবশ্য দেখা গেছে, সব থেকে লাল রঙের পতাকা বেশী ব্যাবহার করা হয়, কেননা, অনান্য রঙ থেকে লাল রঙ অনেক দূর থেকে দেখা যায়। ------------------ চলবে।।

 ট্রেনিং পর্ব ১২ 

গত পর্বের ধারাবাহিকতা রেখে আবারও বলতে হচ্ছে, কবুতরকে ভালভাবে বাসা চেনানো আসলেই সত্যি একটা কঠিন কাজ, তারপর যদি না থাকে তেমন ভাল পরিবেশ। এযাৎকাল আমার অভিজ্ঞতায় দেখা সব থেকে কার্যকারী পদ্ধতি হচ্ছে, কবুতরকে চতুরদিক নেট দিয়ে ঘেরা একটা খাঁচায় পুরে মুল খোপ থেকে কিছুটা দূরে সারাটা দিন ৭-৮ দিন রেখে দিলে কবুতর ভালভাবে বাসা চেনার কাজটা সম্পন্ন করতে পারে। নতুন পোষ মানানো কবুতরগুলি দূরের থেকে মুল খোপের অন্য কবুতরদের দেখে দেখে বাসা চেনার কাজ সম্পন্ন করে এবং বাসায় ফেরার জন্য ছটপট করে। তবে অবশ্যই যখন বিকালের দিকে ছাড়া হবে, তখন অবশ্যই যেন প্রথম দিকে পাক বাধা থাকে অথবা টেপ / সেফটিপিন দিয়ে আটকানো থাকে, না হলে হটাৎ করে উপরে ইঠে যেতে পারে এবং হারায়েও যেতে পারে। হয়তো বা ধারনার উপর নির্ভর করে বুঝা গেলো নতুন কবুতরটি ভালভাবে পোষ মেনেছে, কিন্তু গ্যারান্টি দিয়ে আমরা কেউ বলতে পারবো না, কবুতরটি মাঝ আকাশ বা তার উপরে উঠে গেলে চিনে বাড়ী ফিরে আসতে পারবে কিনা? আর বেশীরভাগ ক্ষেত্রে এখানেই কবুতরের জাতের গুনের উপর নির্ভর করবে। আমি সব সময় মনে করি কবুতর পোষ মানানোটা সব থেকে কঠিন ও কষ্টের কাজ। এছাড়া আর একটি খুব কার্যকরী পদ্ধতি আছে, সেটা হলো, গরম কালে ঝড় বৃষ্টি না থাকলে কবুতরকে একটি খাঁচায় মুল খোপের থেকে দূরে যেখান থেকে স্পষ্ট দেখা য়ায় এমন জায়গায় সকাল পর্যন্ত রেখে দিতে হবে, কিন্তু রাত্রে মুল খোপে ঢুকানো যাবে না। আর কবুতর মুল খোপে ফিরে আশার জন্য সন্ধার থেকে অধির আগ্রহে ছটপট করবে এবং সকালে মুল খোপে ছেড়ে দিতে হবে। এই পদ্ধতিটা খুব বেশী কার্যকরী, কেননা, আমরা দেখেছি কোন কবুতর যদি দুই একদিন হারায়ে যেয়ে রাত্রে বাইরে থেকে পরে ফিরে আসে, এই ধরনের কবুতর আর হারানো সম্ভবনা থাকে না। এই পদ্ধতিটা শীতকালে ও বর্ষার সময় করা যাবে না এবং অবশ্যই রাত্রে পেচা ও বিড়াল সহ বিভিন্ন প্রাণীর হাত থেকে খেয়াল রাখতে হবে। যাহোক এর বাইরে যদি আর কোনো ভাল পদ্ধতি কারো জানা থাকে, তবে আশা করছি আমাদের জানাবেন, আমরাও উপকৃত হবো। লক্ষ্য করলে দেখা গেছে, বিভিন্ন জাতের কিছু কবুতর আছে, এদের কার্যকলাপ দেখলে মনে হয় যথেষ্ঠ পোষ মেনেছে, কিন্তু যখন আকাশে উপরে উঠে তখন দিক হারায়ে আর নামতে পারে না এবং মিসিং হয়ে যায়। যে সকল কবুতর সহজে বাড়ীর থেকে দূরে যায় না, এই ধরনের জাতের কবুতর ও যে গুলি অতিরিক্ত বাজি করে, এই ধরনের কবুতর হারানো পরিমান বেশী । বিশেষ করে যে কবুতরগুলি বাড়ীর উপর তাক করে উড়ে, এই সব কবুতর সামান্য মেঘে পড়লে আর ফিরে আসতে পারে না। এরা চলমান মেঘের উপরে তাল দিয়ে উড়তে উড়তে অনেক অজানা দূরে চলে যায়, আর চাইলেও ফিরে আসার ক্ষমতা রাখে না। -------------- চলবে । ধন্যবাদ, ধর্য্য ধরে সঙ্গে থাকার জন্য। *** 

কবুতর পোষ মানাতে যেয়ে আমরা অনেক সময় কবুতরকে অতিরিক্ত আদর যত্ন ও ছেনাচেটকা করি, ফলে কবুতর অনেক বেশী মানসে হয়ে যায় এবং আশানুরুপ পারফর্ম করে না। এই কারনে উড়ানি হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর যথাসম্ভব কম হাতে নিয়ে নড়াচড়া করা ভাল, তাতে ট্রেনিং এর সময় মালিক কবুতরের সম্পর্ক দূরত্ব বেশী হওয়ার কারনে দাবাড়াদাবড়ীর ব্যাপরটা ভাল কার্যকারী হয়।

 ট্রেনিং পর্ব ১৩ 

১২ তম পর্বে হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতরের বাড়ী চেনানোর বিষয় নিয়ে চেষ্টা করেছি আমার জানা বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি তুলে ধরার। কিন্তু তার পরেও আমার নিজের কাছে মনে হয়েছে ১০০% সঠিক কোন পদ্ধতি তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। যাহোক আরো একটি খুব বেশী ব্যাবহৃত পদ্ধতি উল্লেখ করছি, তা হলো কবুতরের মুল খোপ থেকে ধাপে ধাপে কয়েকটি নেট দিয়ে ঘেরা উচু ঘর তৈরী করে তার ভিতর কবুতর ছেড়ে রাখা হয়, ফলে কবুতর বাসা সহ আশেপাশ্বের যতদূর সম্ভব ভালভাবে দেখতে পারে ও যথেষ্ট পোষ মানে। এই পদ্ধতিটা খুব বেশী ব্যাবহার করেন পাকিস্তান, ভারত ও দুবাইয়ের কবুতর পালকরা।প্রয়োজনে আপনারা ইন্টারনেটে এই ধরনের আয়োজন করা অনেক ভিডিও দেখতে পারবেন। আর ইদানিং আমাদের দেশেও অনেকে আরম্ভ করেছেন এইভাবে কবুতর পোষ মানানোর ব্যাবস্থা। যাহোক বাসা চেনানো আর কবুতর উড়ানো কিন্তু এক কথা না। কেন এই কথা বলছি, আমরা যখন কবুতরকে বাসা চেনাই তা শুধু মাত্র একটা পর্যায় পর্যন্ত কবুতর দেখতে পারে, কিন্তু যখন আকাশে উড়ে, তখন নিশ্চয় কবুতর একই রকম দৃশ্য দেখে না, তাই তখন আবার বাসা ঠিক মত না চেনার কারনে হারায়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে, এইজন্য আমি একটি হাইফ্লাইয়ার কবুতরকে নুন্যতম চার ধাপে বাসা চেনানোর বিষয় হিসাবে ধরি। প্রথম ধাপ বাসার ছাদ সহ আশেপাশ্বের, দ্বিতীয় ধাপ ছাদের থেকে সামান্য উপরে, তৃতীয় ধাপ মাঝ আকাশ খেকে ও চতুর্থ ধাপ টিপ ও ভ্যানিস অবস্থা থেকে। প্রথম তিনটা ধাপ কবুতরকে বাসা চেনানোর ক্ষেত্রে আমাদের হাতে কিছু করনীয় থাকে, কিন্তু চতুর্থ ধাপটি থেকে ফিরে আসবে কি আসবে না এটা একমাত্র কবুতরের নিজেস্ব জাতের গুনে ফিরে আসতে হবে। তবে প্রথম থেকে ধীরে ধীরে বাসা চেনানোর কাজে কবুতরকে সহোযোগীতা করলে আশা করা যায় কবুতর চতুর্থ ধাপ অতিক্রম করে বাড়ীতে ফিরে আসবে। নতুন কবুতরকে বাসা চেনানোর জন্য আগের থেকে কয়েকটা পোষমানা সহোযোগী কবুতর দরকার হয়। পুরাতন আগের থেকে পোষ মানানো কবুতরের সাথে ছেড়ে দিয়ে ধীরে ধীরে বাসা সহ আসে পাশ্বের সাথে পরিচয় করায়ে দেওয়া শেষ হলে নতুনদের হালকা দাবড় দিয়ে ছাদের থেকে একটু উপরে উড়ায়ে তাড়াতাড়ি নামায়ে ফেলতে হয়। কোনো অবস্থাতে প্রথম দিকে বেশী দাবড় দেওয়া যাবে না, এতে দূরে কোথাও চলে যেতে পারে অথবা পাশ্বের উচু বিল্ডিং অথবা অনেক সময় উচু গাছে বসে পড়তে পারে এবং পরবর্তিতে সেই সব জায়গায় বসার খারাপ অভ্যাস হয়ে যেতে পারে। কবুতরকে সব সময় কঠিন ভাবে চেষ্টা করতে হবে, নিজের বিল্ডিং / চাল ছাড়া যেন আর কোথাও না বসে, তাহলে এই সব কবুতর নিয়ে ভবিসত্যে ভাল ট্রেনিং ও উড়া পাওয়া দুস্কর। আসল কথা কবুতরকে ছক বেধে কথনও পোষ মানানো যায় না, এবং এই ভাবে লিখে লিখে নির্দিষ্ট কোন পোষ মানানোর পদ্ধতিও জানানো সম্ভব না। আপনার কবুতর আপনাকেই বুদ্ধি করে ধর্য্য ধরে পোষ মানাতে হবে। আমি যে পূর্বে প্যারায় যে ৪টি ধাপের কথা উল্লেখ করেছিলাম, তার মধ্যে প্রথম ধাপ ২টিতে একজন কবুতর পালকের বুদ্ধি করে ধর্য্য ধরে কিছু করার থাকে আর তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে একজন কবুতর পালকের তেমন করার কিছুই থাকে না, একমাত্র ভাগ্য ছাড়া ও কবুতরের জাতের মধ্যে ভাল বাসা চেনার ক্ষমতার গুন ছাড়া। যাহোক নতুন পালকেদের শুধু এইটুকু বলবো, কবুতর ভাল উড়াতে চাইলে ও শেষ পর্যন্ত উড়ার পারফর্ম কি দাড়ায় তা দেখতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই কষ্ট করে কবুতরকে ভাল ভাবে পোষ মানাতে হবে এবং তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপ পার করার জন্য অবশ্যই সম্পূর্ন ভাগ্যের উপর নির্ভরশীল হতে হবে। -------------- চলবে । ধন্যবাদ, ধর্য্য ধরে সঙ্গে থাকার জন্য। *** 
আমাদের সময়, এই যেমন ৩০-৪০ বছর আগের ঘটনা বলছি, ঐ সময় যদি জানতাম কারোর গিরিবাজ কবুতর তার বাসায় ডিম-বাচ্চা করেছে, তাহলে কোনো অবস্থাতেই ঐ বুড়ো কবুতর বাসায় আনার কথা চিন্তাও করতাম না, কেননা, এমনও হতে দেখেছি দুই পাচ বছর পরেও ছাড়া পেলে প্রথম মালিকের বাসায় চলে যেত, কি ভায়াবহ মেমোরী ও বাড়ীর উপর টান। তাই আ

 ট্রেনিং পর্ব ১৪ 

এই পর্বে যে বিষয়টির উপর আমি বেশী গুরত্ব দিতে চাচ্ছি সেটা হলো “বাম”।অবশ্য ইচ্ছা ছিল “বাম” সহ অনান্য খুটিনাটি বিষয় নিয়ে আমার যত অভিজ্ঞতা আছে তা শেষের দিকে তুলে ধরার চেষ্টা করবো, কিন্তু মাঝ পথে অনেকেই অধির আগ্রহে প্রায় মেসেজবক্সে জানতে চাচ্ছেন, কেন বাম হাইফ্লাইয়ার কবুতরের জন্য খারাপ। কেননা, আমি কোনো এক পর্বে বলেছিলাম বাম হাইফ্লাইয়ার কবুতরের জন্য ক্ষেত্র বিশেষ খারাপ। তার আগে একটা জরিপ আপনাদের মাধ্যমে করে নিতে চাই, সেটা হলো, এই যে খুলনাতে এত বড় বড় অনেকগুলো রেজাল্ট বিগত দিনে অনেকে করে ফেলেছেন, তাদের কয়জনার বাড়ীতে “বাম” সেট করা আছে? আমার জানা মতে একদুইজন ছাড়া কারো বাসায় “বাম” নেই। এছাড়া ভারত, পাকিস্তান ও দুবাইতে যে সকল বড় মাপের কবুতরপালক আছেন, তাদের কয়জনার ছাদে “বাম” সেট করা আছে? বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভিডিও দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে খুবই কম সংখ্যক পালক “বাম”ব্যাবহার করেন। আমার ধারনা কেউ বুঝে “বাম” ব্যাবহার করেন আবার হয়তো কেউ না বুঝে “বাম” ব্যাবহার করেন। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি “বাম” ব্যাবহারে ভাল মানের কবুতরের থেকে বড় মানের পারফর্ম বের করা কঠিন। কেন কঠিন, সে ব্যাপারে আমি একটু পরেই আমার মত করে বিশ্লেষন করবো, কারো ভাল ও মনঃপুত হলে হবে, না হলে না হবে, এটা যার যার বুদ্ধি বিবেচনার বিষয়। আমি এই নিয়ে কোনো বিতর্কে জড়াতে চাই না। শুধু এইটুকু বলবো মধ্যম সারীর সর্বচ্চো ৪-৫ ঘন্টা উড়া কবুতরের উপর এই সব সুক্ষ ব্যাপার কতটা ফলপ্রুসু জানি না, তবে এই টুক বলতে পারবো বড় মাপের উড়া কবুতরের ক্ষেত্রে অনেক কিছুই মেনেঝুনে চলতে হয়। সেটা বুঝে হোক আর না বুঝে হোক, হা হা হা, সামান্য কোনো কিছুতে ছাড় নেই। আমরা “বাম” কেন ব্যাবহার করি? সবাই এক বাক্যে বলবেন, কবুতর যেন উচুতে বসে বাসার সব কিছু দেখে ভাল ভাবে পোষ মানতে পারে এবং রোদ পোহাতে পারে, এছাড়া আর একটি বড় বিষয় যদি কারো বাসার পাশ্বে বড় অট্টালিকা থাকে, যেন তাতে না বসে সরাসরি তার নিজের বাড়ীতে বসে।এই আর কি। এইতো গেলো “বাম” ব্যাবহারের টুকটাক কারন গুলি যা আমরা সচারচার দেখি। কিন্তু আমরা একটা বিষয় কখনও অনুধাবন করার চেষ্টা করি না, যেটা আমি পূর্বে বহুবার বলেছি, কবুতর অনুকরন প্রিয় ও অভ্যাসের দাস।এই যে অনেক সময় আমরা আমাদের কবুতরকে ছোট বেলার থেকে সারা দিন “বামে” বসায়ে রেখে বাসা চেনানো সহ রোদ পোহানোর জন্য রেখে দেই, ফলে কবুতর এইটা অবশ্যই বুঝতে সক্ষম ও অভ্যাসে পরিনত হয় যে, ঐ “বাম” নামক জায়গাটা রেষ্ট নেওয়ার জায়গা এবং ওখানে বসতে পারলে নিশ্চিন্তে দিন পার করে দেওয়া যাবে, ফলে আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি কবুতর সামান্য কষ্টে তাড়াতাড়ি “বামে” নেমে আসে । আমার সামান্য অভিজ্ঞতায় দেখেছি, কবুতরের কাছ থেকে ভাল ও উচুমানের রেজাল্ট বের করে আনতে গেলে কবুতরকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উড়ে নেমে আসার পরে খোপে ঢুকায়ে দেওয়া উচিৎ। বিষয়টা এমন হবে উড়া এবং খোপ, এর বাইরে অন্য কিছু না। কোনো খারাপ অভ্যাস করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। ব্যাপারটা এই রকম, খোপের বাইরে যতক্ষন থাকবে, মানে তাকে উড়তে হবে। ------------------------ চলবে। ধন্যবাদ, ধর্য্য ধরে সঙ্গে থাকার জন্য। *** যদি কারো আমার এই “বাম” বিষয়ক নেগেটিভ অভিজ্ঞতা সঠিক মনে না হয়, তবে আশা করছি উনি ওনার মত করে আমাদের সাথে অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন, এবং আমরা আরো কিছু জানতে পারবো । 

ট্রেনিং পর্ব ১৫ 

“বাম” রাখা না রাখা কবুতর পালকের নিজেস্ব ব্যাপার। আমি শুধু এইটুকু জোর দিয়ে বলবো, আমি সেই সকল কবুতর পালবো না, যেটা তার ইচ্ছায় আমাকে চলতে বাধ্য করবে। মাত্র পনের বিশ হাত নামতে যার সারা দিন চলে যায় সেই সকল কবুতর আর কেউ পালন করলেও আমি অনন্ত পক্ষে পালবো না। আমি শুধু ‍এইটুকু বুঝি, যে কবুতর সহজে বামে নামতে পারে সেই কবুতর ১০-১৫ হাত নিচে ছাদে অথবা টিনের চালেও নামতে পারে। আর না পারলে, তার জন্য কবুতরকেই ট্রেনিং এর মাধ্যমে অভ্যাস করাতে হবে। অনেকের কাছে মনে হয়, বামে বসা আর নামা একটা সাধারন ব্যাপার কিন্তু আমার কাছে তা মনে হয় না। আমি মনে করি কবুতর উড়ে এসে ছাদে নামবে এবং সামান্য লাঠির ইশারায় খোপে ঢুকে যাবে এবং এইভাবেই ট্রেনিং দেওয়ার চেষ্টা করাই আসল ট্রেনিং। আর য়দি প্রতিযোগীতায় উড়ানোর ইচ্ছা না থাকে তাহলে অন্য কথা। আমি এযাবৎ যে ১৪টি পর্বে ট্রেনিং বিষয়ে অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করার চেষ্টা করেছি, সেগুলি ৭-৮ + ঘন্টা উড়া কবুতরের ট্রেনিং এর বিষয় মাথায় রেখে পোষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কল্পনা করেন, আপনার একটা কবুতর প্রতিযোগীতায় ঘন্টা থানেক উড়ে বামে নেমে পড়লো আর তার সগোযোগী ২-৩ টা তখনও আকাশে সুন্দর অবস্থানে উড়ে বেড়াচ্ছে, আর এই উড়ে নামা কবুতরটি তখনও বাসায় নামতে পারছে না এবং কিছুক্ষন পর পর বামের থেকে খোপে নামার চেষ্টা করছে কিন্তু টেম্পারের কারনে অথবা বাজির কারনে নামতে পারছে না। এই দৃশ্য দেখার পরে কিভাবে উপরে উড়া কবুতরগুলি স্থির থাকবে? যদি একান্তই খুব ভাল মানের কবতুর না হয়, তবে উপরের গুলোও নেমে আসার সম্ভবনা খুব বেশী খাকে। তাই আমি সব সময় বলে এসেছি, উড়া যেমন একটা কবুতরের গুন, তেমনি সুন্দরভাবে বাসায় নামাও একটা গুন। এই সব চিন্তা তারাই করেন, যারা প্রতিযোগীতায় কবুতর উড়ানোর জন্য কবুতর রেডী করেন, আর যারা প্রতিযোগীতায় উড়াবেন না, তাদের কথা আলাদা। কেননা, বামে বসা না বসাতে কিছু যায় আসে না। অনেকের কাছে হয়তো বা খুব সুন্দর সুন্দর কিছু বাখ্যা আছে, কিভাবে বামে বসা কবুতর তাড়াতাড়ি বাসার ছাদে ও খোপে ঢুকাতে হয়। কিন্তু আমার কাছে এই সব পদ্ধতি মোটেও যুক্তিযুক্ত মনে হয় না। যেমন, একটা পদ্ধতি অনেকে বলেন, বামে বসা কবুতরটি যদি নর হয় তাহলে ছাদে মায়া একটি কবুতর ছেড়ে দিলে নেমে আসবে। এই যক্তিটা আমার কাছে মোটেও গ্রহনযোগ্য মনে হয় না। কেননা, অনেকেই জানেন না, যারা প্রতিযোগীতায় কমবেশী কবুতর উড়ানোর চেষ্টা করেন, তাঁরা সাধারনত কথনই চান না প্রতিযোগীতার ট্রেনিং এর সময় মায়া ও নর কবুতর যেন একে অপরকে দেখতে পায়, তাতে করে উভয়ে আঞ্চলিক ভাষায় গরম হয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে, ফলে প্রতিযোগীতায় খারাপ প্রভাব পড়ে। তাছাড়া বামে বসা কবুতর যে সব সময় পুর্নবয়স্ক হবে তার কোনো মানে নেই, অল্প বয়সি কবুতরও হতে পারে।তাছাড়া বর্তমান যে প্রতিযোগীতর হাড্ডাহাড্ডি কঠিন অবস্থা, তাতে, অনেকেই প্রতিযোগীতার জন্য ২-৩ টা কবুতর নিয়ে ট্রেনিং এর কাজ হাতে নেন না, তাঁরা নুন্যতম ১৫-২০ টা কবুতর নিয়ে আরম্ভ করেন, সে ক্ষেত্রে এই ধরনের কবুতরের মধ্যে যেগুলোর বামে নামার পরে আর সহজে ছাদে নামতে কষ্ট হয় এবং ঘন্টা দিন পার করে দেয়, সেই সকল কবুতর নিয়ে ট্রেনিং পরিচালনা করা সত্যি কষ্টের হয়ে দাড়ায়, তাই আমাদের সেই ধরনের জাতের কবুতর নিয়ে অগ্রসর হতে হবে, যে সকল কবুতর বাম ছাড়া সহজে ছাদে নামতে পারে এবং সহজে খোপে ঢুকানো যায়। তারপর অনেকে মনে করেন, বাম না থাকলে কবুতর সহজে না নামার কারনে প্রতিযোগীতায় অনেক সময় ডিসকলি হয়, এই কথাটা না হয় আমি মেনে কিছুটা নিলাম এবং এটাও মেনে নিলাম যে কবুতরটা সন্ধায় নীচে নেমে এসেও বাম না থাকায় সহজে নামতে না পারার জন্য ডিসকলি হয়েছিল। এইবার সেই কবুতর পালককে অনুরোধ করবো, আপনি বাম লাগান এবং ডিসকলি হওয়ার মত মানের কবুতর তৈরী করেন, দেখেন আগের থেকে বাম লাগানোর পরে ডিসকলি হওয়ার মত মানের কবুতর তৈরী করা কত কষ্টের ব্যাপার এবং তখন বুঝবেন ট্রেনিং এ আপনার বাম কতটা উপকার দিয়েছিল। যেটা ডিসকলি হওয়ার জাত, সেটা বাম লাগালেও হবে আর না লাগালেও হবে। সর্বশেষে আবারও বলবো বাম সেট করা না করা সবই একজন কবুতর পালকের নিজেস্ব ব্যাপার ও তার বাসস্থান ও অবকাঠামো ও তার কবুতরের জাতের বৈশিষ্টের উপর নির্ভরশীল। আর আমি আমার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছি, যদি কারো মনঃপুত না হয় ওনারা ওনাদের মত করে চলবেন, তাতে আমার কি বলার থাকতে পারে। ------------------------ চলবে। ধন্যবাদ, ধর্য্য ধরে সঙ্গে থাকার জন্য। ***
 সারাটা দিন পার করে দেবে আর বামে বসে টেম্পার দেখাবে এবং কি করে আকাশ থেকে তাড়াতাড়ি নামতে হয় তাও শিখে ফেলবে, ঐ রকম কঠিন কবুতর দিয়ে ভাল পারফর্ম করা ওস্তাদি জ্ঞান সবার থাকে না, যিনি পারেন তাকে স্যালুট ।। তাছাড়া, আমি দেখেছি ফেসবুকে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, কিন্তু কেউ প্রতিযোগীতায় উড়ানোর জন্য উপযোগী অভিজ্ঞতা সহজে শেয়ার করেন না।

 ট্রেনিং পর্ব ১৬ 

আমি কিন্তু আগেই বলেছি, “বাম” সেট করা এটা যার যার নিজেস্ব অবকাঠামোর উপর নির্ভরশীল। যদি একান্তই আপনার কবুতরের টেম্পারের কারনে সরাসরি বাসায় নামতে না পারে এবং পাশ্বের বড় বিল্ডিং এ বসে পড়ে সেক্ষেত্রে কিছুই করনীয় নেই। একটু ভাল করে পূর্বে পোষ্টগুলি পড়লে দেখবেন, আমি আমার কবুতরের জাত পছন্দের ক্ষেত্রেও আমার একান্ত নিজের মতামত প্রকাশ করেছিলাম। সহজ কথা যে জাতের কবুতর নামা নিয়ে বেশী সমস্যা করবে আমি সেই সকল জাত থেকেও দুরে থাকবো। ট্রেনিং এ যদি এই সব ঝামেলা মাথায় নিয়ে আগাতে হয় তাহলে সারাদিন কাজকর্ম বাদ দিয়ে কবুতর নিয়ে পড়ে থাকতে হবে। আর আমার ক্ষেত্রে এই ধরনের সমস্যা হলে, আমি যেটা করতাম, সেটা হলো, কবুতরটিকে কয়েক দিন মোটেও আর উড়াতাম না এবং চেষ্টা করতাম তার এই বদ অভ্যাস ঠিক করার, যদি না হতো তাহলে ওটাকে দিয়ে আর উড়ানোর চেষ্টা করতাম না। যেভাবে যান্ত্রিক জীবনে হাইরাইজ বিল্ডিং এ শহরে ভরে যাচ্ছে, তাতে করে আমাদের বর্তমানে টেম্পার ও অতিরিক্ত বাজিছাড়া কবুতর পালন করা ছাড়া উপায় নেই। অবশ্য আর একটি ব্যায়বহুল পদ্ধতি আছে, যদি একান্তই বাম ছাড়া কবুতর নামানো সম্ভব না হয়, তাহলে একচ একটা বাঁশের বদলে এক ধরনের লৌহার পাইপের মধ্যে পাইপ ঢুকায়ে দিয়ে বাম তৈরী করা হয়, যেটা প্রয়োজন মত ধীরে ধীরে উচ্চতা বাড়ানো কমানো যায়, কিছুটা রেডিও এন্টিনা ও ফোল্ডিং মাছ ধরা ছিপের মত। ফলে কবুতর বামে নামার পরে, ধীরে ধীরে বামের উচ্চতা নীচের থেকে কমায়ে ফেলে ছাদের খবু কাছাকাছি আনা হয় এবং তখন কবুতর সহজে ছাদে নেমে ঘরে ঢুকতে পারে। যা হোক বাম বিষয়ে আর কোনো আলোচনা এখানেই সমাপ্ত। কবুতর উড়ানোর ট্রেনিং আমার কাছে সব থেকে সোজা এবং সহজ কাজ, কারন আমি মনে করি একজন কবুতর পালকের কিছুই করার থাকে না, যদি তার কবুতর ভাল ব্লাড লাইনের না হয়। আমার কাছে ট্রেনিং মানে কবুতরের কিছু খারাপ অভ্যাস যাতে না হয় এবং কিছু ভাল অভ্যাস তৈরী করায়ে দেওয়া। একজন কবুতর পালক কবুতরের জাতের কিছু খারাপ দোষ কখনই ১০০% পারবে না বদলে দিতে অথবা কোনো ভাল গুন তৈরী করতে, যদি না ব্লাড লাইনে এইসব গুন থাকে। আমি ধরে নিচ্ছি, এ পর্যন্ত আমরা যে কয়টি পর্ব অতিক্রম করেছি, তাতে নতুন কবুতর পালকরা কিছুটা হলেও ধারনা করতে পেরেছেন, কি ধরনের হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর নিয়ে সহজে ট্রেনিং দেওয়া যাবে এবং ভাল ফল বের করে আনা সম্ভব। তবে আমাদের সবারই একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, শূধু ভাল জাতের কবুতর হলেই যে ভাল ফল পাওয়া সম্ভব তা কিন্তু না, যেমন একজন ভাল কবুতরবাজ কে খুটিনাটি সহজ কয়েকটি বিষয় অবশ্যই জানতে হবে, যেমন, যেদিন কবুতর উড়াবেন, সেই দিনটা মোটামুটি কেমন যাবে? এবং সুস্থ ও ফিট কবুতর উড়ানোর জন্য উপযোগী কিনা? তার মানে ভাল রাস্তা না হলে আপনি যতভাল গাড়ী নিয়ে রাস্তায় বের হোন না কেন, ভাল গাড়ী চালাতে পারবেন না। দিনের কখন? সকালে, দুপুরে অথবা বিকালে কখন কবুতর ট্রেনিং আরম্ভ করা হবে, সেটাও বিভিন্ন দিক মাথায় রেখে আমাদের নির্ধারন করা দরকার হয়ে পড়ে। তাছাড়া ট্রেনিং এ সহজ কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হয়, যেমন, কবুতরের জাত, বয়স, আবহাওয়া, তাপমাত্রা, দিনের দৈর্ঘ্য, ফ্লাইং স্টাইল কেমন? ইত্যাদি ইত্যাদি।সর্বপরি কবুতর যদি নতুনভাবে সংগ্রহ করা থাকে, তবে অবশ্যই যার কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, তার দেওয়া গাইড লাইন অনুযায়ী মেনে ট্রেনিং দেওয়া উচিৎ, তাহলে ফল অনেক ভাল হবে এবং সমস্যা হওয়ার সম্ভবনা কম থাকে। ---------------- চলবে । ধন্যবাদ, ধর্য্য ধরে সঙ্গে থাকার জন্য। ***

 বস্তা দাবড়া দিয়ে কবুতরকে ১-২ ঘন্টা উড়ানো যায় কিন্তু যত ভাল চেহারার ও ভাল মার্কিং এর কবুতর হোক না কেন, জাতের রক্তের মধ্যে উড়া না হলে ভাল মানের উড়ানো সম্ভব না।

 ট্রেনিং পর্ব ১৭

 ট্রেনিংটা কে নেবে, কবুতর না কবুতর পালক? হা হা হা। আমারতো বরাবরি মনে হয় কবুতরকে ট্রেনিং দেওয়ার কিছুই নেই। কবুতরের পালককে কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়, যার মাধ্যমে সতর্কতার সাথে অবুঝ কবুতরকে পরিচালনা করেন মাত্র, কারন কবুতরের নিজেস্ব তেমন বুদ্ধি নেই যে নিজের থেকে করে দেখাবে। কবুতর অনুকরন ও অভ্যাসের দাস এবং জাতের রক্তের মধ্যে উড়ার ক্ষমতা যত বেশী থাকবে, সেই কবুতর ততবেশী উড়বে। একজন ভাল কবুতর বাজকে অবশ্যই ভাল একজন আবহাওয়াবিদ হতে হয়, তাকে জানতে হয় সারাটা দিন কেমন যাবে? এবং কবুতর উড়ার জন্য কতটা উপযোগী ও নিরাপদ? তাই আমার অভিজ্ঞতায় বলে, আবহাওয়া সম্পর্কে ভাল ধারনা পাওয়ার জন্য সকালের আকাশ থেকে অথবা বিগত দুই-তিনদিনের থেকে ধারনা করা যেতে পারে। বর্তমানে ইন্টারনেটের যুগ তাই আগাম আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা অনেকটা সহজ। এছাড়া আমাদের বাংলা পঞ্জিকা দেখেও মোটামুটি ধারনা করা সম্ভব। ভাল কোনো আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানার সাইটে গেলে আমরা আবহাওয়া সম্পর্কে অনেক তথ্য পাবো, এখন কথা হচ্ছে কোনটা কত মাত্রায় থাকলে একটি কবুতরের উড়ার জন্য ভাল? যেমন, Temp, RealFeel, Wind, Gust, Humidity, Dew Point, UV Index, Cloud Cover, Rain, Snow, Ice, Visibility, Ceiling, Wet Bulb ইত্যাদি ইত্যাদি। আশা করছি ট্রেনিং পর্বের একদম শেষে যতটা পারি এই বিষয়ে আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা শেয়ার করার চেষ্টা করবো অথবা আপনারাও নিজেরা এই ব্যাপারে এখন থেকে জানার চেষ্টা করেন। আমারতো চাহিদা আগামীতে যথন কোনো প্রতিযোগীতায় কবুতর উড়বে, তখন যদি আয়োজক কমিটির মাধ্যমে উড়া কবুতরের আকাশে অবস্থানের ঐ সময়ের আবহাওয়ার এই সব খুটিনাটি জানা সম্ভব হয়, তাহলে ঘরে বসেই বুঝতে পারবো একটি কবুতর কতটা ফাইট করে নিজ যোগ্যতায় উড়ছে? নাকি ঘোলা মেঘে পড়ে হারায়ে দম করছে? আমার এখন এটাও মনে হয় হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর প্রতিযোগীতায় উড়ানো আর প্রচন্ড মেধা নির্ভর ক্রিকেট খেলার থেকে কোনো অংশে কম না, যদি আমরা সেইভাবে বুঝতে ও উপস্থাপন করতে পারি । আমার আশা আগামীতে বিভিন্ন প্রতিযোগীতাগুলি আরো বেশী বাস্তব বিজ্ঞানসম্মত ও প্রানবন্ত হবে। ভাল মানের ৯-১০ ঘন্টা উড়া কবুতরকে দিনের অনেকগুলি বিপদ সামনে রেখে উড়তে হয়, তাই একজন ভাল কবুতরবাজকে দিনের সব সময়টুকু কি ঘটতে পারে তার একটি মোটামুটি ভাল ধারনা থাকা খুবই দরকার, যেটা ২-৪ ঘন্টা উড়া কবুতরের ক্ষেত্রে দরকার নাও হতে পারে। বিশেষ করে আমাদের দেশ নদী ও সাগর বেষ্ঠিত, তাই জোয়ার ভাটার উপর আবহাওয়ার তারতম্য খুব বেশী প্রভাব পড়ে। সব সময় একজন হাইফ্লাইয়ার কবুতরবাজকে একটি জিনিস মাথায় রাখা উচিৎ যত কসরত সব আকাশে, অতএব আকাশ উপযোগী হতে হবে। অবশ্য অনেকে খারাপ আবহাওয়া ও আকাশকে কাজে লাগায়ে প্রতিযোগীতার নিয়মে ফেলে রেজাল্ট বের করে আনেন, সেখানে কবুতরের বাড়ীতে ফিরে আসার যোগ্যতাটা প্রাধান্য পায়। আমি নিজেও দুই একবার এইভাবে সুযোগ নিয়েছি। আবার অনেকে এটাও জানেন না, অতিরিক্ত পরিচ্ছন্ন আকাশও কবুতর উড়ার জন্য ভাল না, হটাৎ করে কবুতর ড্রপ করে। কেন ড্রপ করে? এব্যাপারে পরবর্তিতে সময় সুযোগ পেলে আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো। ----------- চলবে । ধন্যবাদ, ধর্য্য ধরে সঙ্গে থাকার জন্য। আর কয়েকটা দিন ধর্য্য ধরেন, ভাল করে রাস্তাঘাট চিনে নেই, হা হা হা, তার পর গাড়ী যদি ভাল থাকে এবং আমি যদি সময় পাই ও সুস্থ থাকি দ্রুতগতিতে ছুটাবো, ইনসাআল্লাহ। **
 অনেক সময় দেখা যায় কবুতর অসুখ ছাড়া শরীর ফুলায়ে বসে আছে, তখন ধারনা করার চেষ্টা করি, হয়তো বা সামনে বড় ধরনের ঝড় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা থাকতে পারে।

 ট্রেনিং পর্ব ১৮ 

হাইফ্লাইয়ার কবুতর পালকরা লফ্ট তৈরীর ক্ষেত্রে কিছু কিছু জিনিস বুঝে করি অথবা অন্যেরটা দেখি করি। অনেক সময় আমরা নিজেরাও জানি না সুক্ষ হিসাবে কোনটা হাইফ্লাইয়ার কবুতরের জন্য ভাল, অথবা কোনটা খারাপ। আমি নিজেও অনেক ভুল করে বসে আছি। তাছাড়া আমার লফ্ট অন্যদের মত এতটা গোছালে না্, আজ খোপের এটা পছন্দ হলো তো কাল অন্যটা পছন্দ হলো। আজ এই দেয়াল টেনে দিলাম তো দুইমাস পরে মনে হলো এটা ঠিক হয়নি, তাই ভাংগো, এইভাবেই আমার ফ্লাইং লফ্ট তৈরী করেছি। এখনও আমার মনের মত বিজ্ঞান সম্মত ও সুন্দর হয়নি। আশা করি সময় সুযোগ পেলে আগামীতে করবো। আজ এমনই একটি খুবই সুক্ষ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো, যেটা হয়তো অনেকের কাছে খুব নগন্য ব্যাপার মনে হবে, কিন্তু আমি মনে করি আসলেই ব্যাপারটা এতটা ছোট ব্যাপার না। আমরা ইদানিং লফ্টে হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর থাকার জন্য অনেকেই প্রত্যেক কবুতরের জন্য আলাদা আলাদা ষ্টান্ড দেই, যাতে করে কবুতর সাচ্ছন্দে বসে থেকে রেষ্ট নিতে পারে এবং একে অন্যকে যেন বিরক্ত না করে। আমি উড়া কবুতরের জন্য এই ধরনের সিংগেল ষ্টান্ডের পক্ষে না, আমি কবুতর বসার জন্য টানা তক্তা থাকবে আর তাতে কবুতর নিজেরা নিজেদের দখল বুঝে নিয়ে যে যার মত থাকবে। আমার কথা হচ্ছে যে জিতবে সেই সেকেন্দার, আর যে দুর্বল সে সরে দাড়াবে। অনেক কবুতরের মধ্যে তাদেরকে খুজে নিতে আমার অসুবিধা হবে না এবং ট্রেনিং সহ প্রতিযোগীতায় উড়ানোর জন্য নির্বাচন করা আমার জন্য সহজ হবে। যে ঘোড়া দাড়ায়ে ঘুমাতে পারবে না, সে আপতত মাথার থেকে বাদ। অবশ্য, অতিরিক্ত উড়ার কারনে যদি দুর্বল হয়ে থাকে, সেটা অন্য কথা। শীতকালে এই পদ্ধতিতে কবুতর পালন করলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়, সেটা হলো যখন রাত হয়, তখন কবুতর কলোনি ফর্ম করে একে অন্যের সাথে শরীর মিলায়ে একজায়গায় থাকার চেষ্টা করে এবং নিজেদের শরীরের তাপমাত্রা ভাগাভাগি করে থাকার চেষ্টা করে। এছাড়া এই পদ্ধতিতে নিজেদের মধ্যে চেনা পরিচয়টা বোধ হয় ভালই হয়, তাই মনে হয় ঝাক বেধে একত্রে উড়ার চেষ্টা করে। ------------------ চলবে । ধন্যবাদ ।। *** 
ভারত পাকিস্তান দুবাইয়ের ওস্তাদদের কি টাকা পয়সা কম আছে? যে তাঁরা সামান্য তক্তা বিছায়ে কবুতর পালবেন? তাঁরাও তো পারতেন সিঙ্গেল ষ্টান্ড করে দিতে। আমার কথাতো বিশ্বাস হবে না, হা হা হা, প্রয়োজনে তাঁদের লফ্টের ভিডিও গুলো দেখেন। আমার ধারনা সিঙ্গেল ষ্টান্ড গুলি সৌখিন ও ব্রিডার কবুতরের জন্য ভাল ।। মুল কথা, ভাল মানের উড়ানি কবুতর সব সময় মুভমেন্টের মধ্যে থাকবে, কোনো জড়তা কাজ করলে হবে না। 

 ট্রেনিং পর্ব ১৯ 

একজন জানতে চেয়েছিলেন, আপনি এই যে হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর সম্পর্কে ট্রেনিং এর যে পোষ্ট দিচ্ছেন, এই ভাবে মেনে চললে কি তাঁর কবুতর ৯-১০ ঘন্টা উড়বে? হা হা হা, আমি তাঁকে জানিয়েছিলাম, ২ ঘন্টার কবুতর ২ ঘন্টা, ৫ ঘন্টার কবুতর ৫ ঘন্টা, আর ১০ ঘন্টার কবুতর ১০ ঘন্টাই উড়বে, এর বেশী এক মিনিটও উড়বে না, বরংচ কপাল খারাপ থাকলে কম উড়বে। তখন উনি আমাকে বল্লেন, তাহলে লাভ হলো কি? তখন তাকে আমি বুঝায়ে বল্লাম, দেখেন, আমি সব সময় বলে এসেছি, কবুতরকে ট্রেনিং দেওয়ার তেমন কিছুই নেই, আমরা শুধু পারি কবুতরের ২ টি বিষয় কাজে লাগায়ে কবুতরের কাছ থেকে যতটা সম্ভব তার জাতের মধ্যে যতটা উড়ার ক্ষমতা আছে, তা বের করে আনার, যদি জাতের মধ্যে দম না থাকে তাহলে হাজার চেষ্টা করলেও তার থেকে ভাল ফল বের করা সম্ভব না। কবুতরের ২ টি বিষয় হচ্ছে অভ্যাস ও অনুকরন করার প্রবনতা। আর আমরা এই দুইটি বিষয়কে ব্যাবহার করে কবুতরকে সর্বচ্চো ভাল পারফর্ম করানোর চেষ্টা করি। কবুতর যেন কোন খারাপ অভ্যাস না করে, যেমন গাছে বসা, পাশ্বের বাড়ীর ছাদে বসা, কবুতর দেখে যতটা সম্ভব না উড়ে নেমে আসা ইত্যাদি। আর অনুকরন বলতে, ভাল কবুতরের সাথে উড়ায়ে ভাল করার চেষ্টা আবার খারাপ কবুতরের সাথে উড়ে যেন খারাপ না হয়ে যায় সেই দিকে লক্ষ্য রাখা ইত্যাদি ইত্যাদি। যা হোক, ট্রেনিং মানে আমি যেটা বুঝি, কিভাবে কবুতরের কাছ থেকে সর্বচ্চো পারফর্ম বের করে আনতে পারবো। তবে অবশ্যই কবুতরের জাতের মধ্যে ভাল উড়ার গুন থাকতে হবে। কবুতর ট্রেনিং দেওয়ার আগে সব খেকে ভাল হয় কবুতরের জাতের আগের উড়ার ইতিহাস জানা, তাহলে কথন, কোন বয়সে কি কি ধরনের পারফর্ম করেছে, সেইভাবে কবুতর উড়াতে পারলে দ্রুত ফল বের করে আনা সম্ভব। যেমন কয় পাকে বাজী ঘুরবে? কয় পাকে এই পরিমান দম পাওয়া যাবে? ইত্যাদি ইত্যাদি। কবুতর ট্রেনিং এর প্রথম দিকে যদি বডি ওয়েট একটু বেশী থাকে, তাহলে মনে হয় ভাল হয়। আমার ধারনা তাতে করে কবুতর বাড়ী ছেড়ে বেশী দূরে যেতে পারে না, ফলে হারানোর সম্ভবনা কম থাকে। পরবর্তিতে ধীরে ধীরে উড়ায়ে কবুতরের বডি ওয়েট কমায়ে ফেলতে হয় এবং যেটা উড়ার জন্য সহায়ক, সেই পর্যায়ে বডি ওয়েট ধরে রাখানোর জন্য আবহাওয়ার সাথে তাল রেখে প্রয়োজনীয় সুষম খাবার দেওয়া হয়। ট্রেনিং এর প্রাথমিক পর্যায়ে কয়টা কবুতর নিয়ে আরম্ভ করলে ভাল হয়? এ প্রশ্নটা আমাদের সবার মাথায় থাকে। ------------------- চলবে । ধন্যবাদ, ধর্য্য ধরে সঙ্গে থাকার জন্য ।। *** 
 ভাল মানের কবুতর বেশী বাজপাখির দ্বারা আক্রান্ত হয়ে খোয়া যায়। আমরা বোধ হয় অনেকেই জানি না, যত ভাল উড়া হাইফ্লাইয়ার কবুতর ততবেশী খোয়া যাওয়ার সম্ভবনা। দিনের কিছু নির্দিষ্ট সময় আছে, যখন বাজপাখি খাবারের জন্য বেশী তৎপর হয়। একদম ভোর বেলা, সকাল ৭টা থেকে ৮ টার ভিতর, সকাল ১০টার থেকে ১২টা পর্যন্ত, দুপুর ৩টা খেকে ৪ টা পর্যন্ত আর সন্ধার আগে আগে। তাই একটা ভাল মানের কবুতর সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত উড়তে যেয়ে দিনের অনেক গুলি বিপদ সীমার ধাপ পার করতে হয়। কবুতর সকাল ১০ থেকে ১২ টা পর্যন্ত সব থেকে বেশী আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে, কেননা, আমার ধারনা বাজপাখি তখন বেশী ক্ষুধার্ত থাকে ও হিংস্র হয়ে যায়। উড়ন্ত কবুতরের সকালের দিকে শক্তি থাকায় ও ক্ষ্রিপ্ততার কারনে কিছুটা হলেও বেঁচে ফিরে আসতে পারে কিন্তু দিন যত বাড়তে থাকে ততবেশী দুর্বল হওযার কারনে ধরাশায়ী বেশী হয়। এই বিষয়গুলি একান্ত আমার দেখা অভিজ্ঞতা, স্থান কাল পাত্র ভেদে হয়তো বা সময় আগে পিছে হতে পারে, ফলে অন্যদের অভিজ্ঞতার সাথে ১০০% নাও মিলতে পারে। 

 ট্রেনিং পর্ব ২০ 

ট্রেনিং এ কতগুলি কবুতর এক সঙ্গে উড়ালে ভাল হবে? এটার কোনো ধরা বাধা নিয়ম নেই, যার কবুতর যত বেশী তিনি সেইভাবেই ট্রেনিং দিবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যত বেশী কবুতর হয় ততবেশী কবুতর টিপে যাওয়ার প্রবনতা কম হয়, এবং নীচ দিয়ে উড়তে পছন্দ করে এবং বেশী কবুতর একত্রে উড়ার কারনে অতিরিক্ত বাতাসের চাপের সৃষ্টি হয়, ফলে কবুতর দ্রুত দুর্বল হয়ে অল্প উড়ে বাসায় নেমে পড়ে। তাই আমার হিসাবে হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর ৫-৬ টা সর্বচ্চো ১০-১২ টা কবুতর নিয়ে ট্রেনিং এর ব্যাবস্থা করলে ভাল হয়। এছাড়া কম কবুতর নিয়ে ট্রেনিং আরম্ভ করলে কবুতরের দোষ ত্রুটি সহজে ধরা পড়ে, ফলে সেই ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া যায়। আমরা অনেকেই কবুতর ট্রেনিং এ উড়ায়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে বসে থাকি এবং মাঝে মাঝে দেখার চেষ্টা করি কবুতর কি অবস্থায় আছে, কিন্তু এটা কোনো ভাল কবুতর বাজের নিরিক্ষন করার পদ্ধতি না। একজন ভাল কবুতরবাজকে ট্রেনিং এর সময় যতটা সম্ভব কবুতরের উড়া দেখা উচিৎ, তাহলেই তিনি খুব ভালভাবে কবুতরের প্রতিটা স্তরের উড়ার দোষত্রুটি দেখতে ও বুঝতে পারবেন। আর এইভাবে সার্বক্ষনিক কবুতর দেখার ফলে শরীরের উপরও আমাদের অনেক খারাপ প্রভাব পড়ে এবং যেটা অপুরোনীয় ক্ষতি, সব থেকে বড় ক্ষতির সম্মুক্ষিন হয়, সেটা হলো ঘাড়ের নার্ভের। আমি নিজেও এই ধরনের ক্ষতির সম্মুক্ষিন হয়েছি, তাই যারা এই ভাবে কবুতর দেখার জন্য বসে বসে বা দাড়ায়ে দাড়ায়ে আকাশের দিকে দীর্ঘক্ষন তাকায়ে থাকেন, তাদেরকে বলবো, আপনারা অনন্তপক্ষে ছাদে মাদুর বা খাট বিছায়ে তাতে শুয়ে কবুতর দেখার অভ্যাস করুন, নতুবা ভবিসত্যে ঘাড়ের নার্ভের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। এছাড়াও আর একটা পদ্ধতিতে আকাশে সার্বক্ষনিক না তাকায়ে একটি গামলায় সচ্ছ পানি রেখে আকাশের প্রতিবিম্ব দেখেও কিছুটা ঘাড়ে চাপ না ফেলেও কবুতর দেখা যেতে পারে। যাহোক, আপনার কবুতর যদি অধিক থাকে তাহলে একসাথে না ছেড়ে আগে পিছে সময় করে ছাড়লে ভাল ফল পাবেন। মনে করেন আপনার পূর্বে দ্বিতীয় ধাপ পর্যন্ত পোষ মানানো ও উড়ানো আছে এবং ১৫-২০ টা মত কবুতর তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের ট্রেনিং দিবেন। তাহলে বয়স ও উড়ার ষ্টাইল জাত দেখে ৩-৪ টা করে ছোট ছোট দলে ভাগ করুন ও এক একটি দলে ৩-৪ টা করে ছেড়ে কবুতর উড়ান। মনে করেন প্রথম দলটি ছাড়লেন এবং কবুতরটি মাঝ আকাশে উঠে গেলো এর কিছুক্ষন পর নীচ থেকে আরো একটি দল ছাড়লেন এবং এর কিছুক্ষন পর আরো একটি দল এইভাবে কবুতর আকাশে দেন। মোট কথা নীচের থেকে উৎসাহিত করা হয় উপরের গুলোকে আরো উপরে উঠার জন্য। আর আপনারা নিশ্চয় জানেন, ভাল মানের হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর নিচেয় কবুতর দেখলে টেম্পার / বাজির কারনে ফুলে ফুলে আরো উপরে উঠতে থাকে, আর এই গুনটাকে কাজে লাগায়ে আমাদের কবুতরকে ট্রেনিং এর সময় উপরে উড়ার জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়। আর যে সকল কবুতরের জাতের মধ্যে এই ধরনের গুন নেই তাদের ক্ষেত্রে লাঠির মাথায় কাল কাপড় বেধে শব্দ করে দাবড় ও ভয় দিয়ে উড়াতে হবে। কবুতর হাতে ধরে ছুড়ে উড়ানোর থেকে ভাল হয় যদি কবুতর উড়ানোর আগে মুল লফ্ট থেকে বের করে একটি ছোট খাঁচায় ছাদের উপর ৪-৫ মিনিট একত্রে আটকে রেখে একসাথে খাঁচার মুখ খুলে উড়ানো হয়, তাহলে দেখা যায় কবুতরগুলি আকাশে একত্রে দল বেধে উড়ার প্রবনতা বেশী থাকে। আমার ধারনা এই সংক্ষিপ্ত সময় একত্রে রাখার ফলে ওরা নিজেদের মধ্যে পরিচিত হয় যে, ওরা একই মালিকের ও একই বাসার কবুতর। এতে আরো একটি বড় সুবিধা পাওয়া যায় আপনার প্রতিবেশীর কবুতরের সাথে না উড়ে নিজেরাই দল করে উড়তে থাকে, ফলে প্রতিবেশীর কবুতরের উড়ার দোষ-গুনের প্রভাব আপনার কবুতরের উপর পড়ার সুযোগ কম থাকবে। -------------- চলবে ।। ধন্যবাদ, ধর্য্য ধরে সঙ্গে থাকার জন্য। *** 

আমার ধরনা এইভাবে ছাদে সার্কেল আঁকায়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য, কবুতর যাতে অনেক উপর থেকে নিজের বাসা আলাদাভাবে চিনতে পারে এবং আমার আরো একটি ধারনা, ছাদে এইভাবে সার্কেল আঁকায়ে দেওয়ার কারনে হয়তোবা বাজপাখির উৎপাত কম হবে, কেননা ছবির এই সার্কেল গুলি উপর থেকে eagle eye এর মত ভীতির সঞ্চার করতে পারে। কেননা, যেখানে ঈগল পাখির উপস্থিতি থাকবে ঐ এলাকায় বাজ পাখি খুব একটা থাকে না ভয়ের কারনে। ফলে কবুতর ভয় পেয়ে জীবনমরন এক করে যতটা সম্ভব উড়বে এবং বাজপাখির উৎপাত ও থাকবে না। তাই হয়তোবা আঁকানো সার্কেল থেকে বাজপাখির উৎপাত এড়ানো ও কবুতর বেশী উড়া ও বাসা ভালভাবে চেনা এই তিনটি প্রধান উপকার পাওয়ার জন্য এটা কোনো নতুন উদ্ভাবন। *** এই যে ভারত পাকিস্তান দুবাইতে ওঁনারা কবুতর উড়ানোর জন্য যেভাবে সাজায়ে গুছায়ে আয়োজন করে বিজ্ঞান সম্মত ভাবে উড়ান তাতে করে একটি কবুতরের সর্বচ্চো পারফর্মনেস বের করা অনেক সহজ। এটাই, ট্রেনিং বলেন আর যাই বলেন।

No comments:

Post a Comment

মিসমার্ক কবুতরই যখন তুরুপের তাস

আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরবো আমার লফটের এক ফাটা বেবির হিষ্ট্রি। কবুতরের কালার মিউটেশন সম্বন্ধে আমার জ্ঞান খুব সামান্যই বলা চলে। গত নভেম্বর...