About Me

My photo
A pigeon lover from a small town. Currently working on Oriental Frill pigeon. passing time with pigeons since 2006

Monday, August 16, 2021

হাইফ্রাইয়ার ট্রেনিং (পর্ব ২১ -৩১)

ট্রেনিং পর্ব ২১

আজ সকালের ট্রেনিং ( পর্ব - 20 ) পোষ্টের পরে অনেকের ইনবক্সে কৌতুহলী প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য Eagle Eye কি এবং কি কাজে ব্যাবহার হয় তা জানানোর জন্য এখানে এড্রেস দেওয়া হলো, আপনারা চাইলে এ বিষয়ে আরো ভালভাবে জেনে নিতে পারবেন। https://birdbarrier.com/eagle-eye-system.html আমি আমার মত করে ইন্টারনেট থেকে যতটুকু Eagle Eye ডিভাইস সম্পর্কে বুঝেছি, তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হলো।
 Eagle Eye একটি ডিভাইস, যা বড় বড় বিল্ডিং এর ছাদে সেট করে দেওয়া হয়। Eagle Eye বিদ্যুৎ এর মাধ্যমে চলে। এই ম্যাশিনটার উপরে একটি চাকতির মত থাকে এবং তা কালো, হলুদ ও সাদা ইত্যাদি রঙের মোটা দাগ আঁকানো থাকে, যা চালু করে দেওয়ার পরে দূর থেকে মনে হবে ঈগল পাখির চোখ, ফলে পাখির রাজা ঈগল পাখির কৃত্তিম উপস্থিতি টের পেয়ে অনেক ছোটখাটো পাখি, কবুতর, কাক ও বাজপাখিও কাছাকাছি ভয়ে আসতে চাইবে না, এটাই Eagle Eye ডিভাইসের বৈশিষ্ট। বাহিরের দেশে বড় বড় হোটেল, কার পাকিং ও জাহাজে এই ডিভাইস লাগানো থাকে, ফলে কোনো কাক, কবুতর, সিগার্ল পাখি ঐ সকল জায়গায় ভয়ে বসতে চায় না। তাই এই পাখির বিষ্ঠা সহ উৎপাত এড়ানোর কাজে Eagle Eye ব্যাবহার করা হয়। এতদিন আমাদের চিন্তা করতে হতো কেউ প্রতারনার আশ্রয় ( ডপিং ) নিয়ে বেশী সময় হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর উড়াচ্ছে কিনা? এখন আবার নতুন দুঃচিন্তা আমাদের মাথায় ঢুকে গেলে, কেউ আবার গোপনে ছাদে প্রতিযোগীতার দিন ডিভাইস ব্যাবহার করছে নাতো? তাহলে এটা হবে অনেক দুঃখের ও লজ্জার ব্যাপার। -------- চলবে ।

 ট্রেনিং পর্ব ২২ 

২০-২১ পর্বে কবুতর ছাড়ার সংখ্যা এবং কিভাবে ছাড়তে হবে তার প্রাথমিক ধারনা নিয়ে ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলাম। আসলে আগেও বলেছি হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর ট্রেনিং দেওয়ার উপর লিখে লিখে কোনো পোষ্ট করা সত্যিই খুব দূরহ ব্যাপার। কেননা একজন কবুতর বাজ ট্রেনিং দেওয়ার সময় কি কি সমস্যায় পড়বেন তা আগের থেকে বুঝা এবং বলা সম্ভব হয়ে উঠে না। যেমন, আপনি প্রতিদিন একই রঙের ও একই জাতের কবুতর উড়ান, দেখা গেলো হটাৎ আপনি একটি নতুন জাতের নতুন আনকমন রঙের কবুতর উড়ালেন অথবা আপনার নিকট প্রতিবেশী উড়ালেন, আর তাই দেখে ভয় পেয়ে আপনার নতুন পোষ মানানো বাচ্চারা দিকবেদিক ছুটাছুটি করে কয়েকটা হারায়ে গেলো। তাই আমি অনেক আগের পর্বে বলেছিলাম কবুতরের জাতের মধ্যে সাহসও থাকতে হবে। তাছাড়া এই ধরনের উল্টাপাল্টা সমস্যা এড়ানোর জন্য বিভিন্ন রঙের কবুতর ছোট বেলার থেকে একত্রে রেখে ভয় কমানো যেতে পারে। কিন্তু আমি এর আগেে এটাও বলে এসেছি, একই জাতের ও উড়ার ধরন এক হলে কবুতর ট্রেনিং দিতে সুবিধা ও ভাল ফল পাওয়া যায়, তাই একজাত হোক, তাই এই ধরনের ছোটখাটো সমস্যা এড়ানোর জন্য কবুতরকে বিভিন্ন কৃত্তিম রঙ করা যেতে পারে। আর বিভিন্ন রঙের কবুতর হলে বাজপাখিকে কিছুটা বিব্রতকর করে ফেলে, ফলে নির্দিষ্ট টার্গেট করতে অসুবিধার সম্মুক্ষিন হয়। যাহোক, উড়ানোর জন্য অনেক কবুতর থাকলে ছোট ছোট দল করে ও আগে পিছে সময় করে কবুতর উড়ানো ভাল, তাতে করে সহজে কবুতরের দোষগুন নির্দিষ্ট করা যায়। আমাদেরকে অবশ্যই বুঝার চেষ্টা করতে হবে, দলের কোন কোন কবুতরটির কারনে অন্যরা পিছায়ে পড়ছে? কারন কবুতর ট্রেনিং এর প্রাথমিক পর্যায়ে প্রচন্ড অনুকরন প্রিয়। যখন বয়স হয়ে যায়. তখন নিজের জাতের রক্তের দোষগুন প্রকাশ পায়, তখন আর অনুকরনের বিষয়টা গুরুত্ব পায় না। যেমন, যে জাতের মধ্যে অতিরিক্ত বাজী আছে, তাকে চাইলেও সহজে বাজী কমায়ে উড়ানো সম্ভব হবে না। আবার যে জাতের মধ্যে দীর্ঘ সময় ড্যানা মেলে চিলের মত উড়ার অভ্যাস আছে, তা না চাইলেও ঐভাবে উড়বে। অনেকের কাছে এই ড্যানা মেলে উড়ার ব্যাপারটা খারাপ দৃষ্টিতে দেখা হয়, কিন্তু আমি দেখেছি এই ধরনের কবুতর আবার দীর্ঘ সময় উড়ার ক্ষমতা রাখে, আমার ধারনা এই পদ্ধতিতে কবুতর পাখার রেষ্ট নিয়ে আবার নতুন উদ্যমে উড়ে। কবুতর ট্রেনিং এর প্রাথমীক পর্যায়ে দলে অল্প উড়া ১-২ টা পুরানো বুড়ো কবুতর হলে বাচ্চাদের ট্রেনিং দিতে সুবিধা হয়। কারন হিসাবে দেখা গেছে নতুন ট্রেনিং দেওয়া বাচ্চারা ওদের অনুসরন করে উড়ে ও অনুকরন করার চেষ্টা করে। তবে অবশ্যই একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে, যেন বুড়ো কবুতরগুলির উড়ার মধ্যে যেন খারাপ কিছু লক্ষন না থাকে, যেমন, বাজী খেয়ে ফিনিসিং না দিয়ে হাফ মাজা ভাংগা, তারপর অতিরিক্ত ড্যানা পিটানো ইত্যাদি ইত্যাদি, তাহলে নতুনরাও অনুকরন করে এই সব খারাপ অভ্যাস গড়ে তুলবে।অনেকে এই ধরনের বুড়ো কবুতরগুলোকে ট্রেনার হিসাবেও আখ্যা দিয়ে থাকেন, হা হা হা। ---------------- চলবে । ধর্য্য ধরে সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। *** 

ফেসবুকে অনেককে দেখি আনাড়ীভাবে কবুতর ধরতে, আগে ভালভাবে কবুতর ধরা শেখেন। মনে রাখবেন উড়ানোর আগে আপনার আনাড়ী হাতে ধরার কারনে আপনার কবুতর খারাপ পারফর্ম করতে পারে। 

 ট্রেনিং পর্ব ২৩

 গত পর্বে বলেছিলাম, যদি কবুতরের সংখ্যা বেশী থাকে তাহলে ছোট ছোট দল করে, সময় আগে পিছে করে উড়লে প্রত্যেকটা কবুতর মনিটরিং করতে সুবিধা হয়, ফলে কোন কোন কবুতরের জন্য দলের অন্য কবুতর খারাপ হচ্ছে সেটা বের করা সহজ হয়। একটা বিষয় আমি লক্ষ্য করেছি, যেমন ৫-৬ ঘন্টা উড়া কবুতরের সাথে ১-২ ঘন্টা কবুতর সেট মিলায়ে উড়ালে যতটা না সমস্যা হয়, তার থেকে ৫-৬ ঘন্টা উড়া কবুতরের সাথে ২-৩ ঘন্টা উড়া কবুতর দিলে ৫-৬ ঘন্টা উড়া কবুতরগুলো খারাপ পারফর্ম করে। আমার ধারনা বেশী সময় একসাথে উড়ার কারনে ওদের নিজেদের মধ্যে যথেষ্ট তাল তৈরী হয়ে যায়, ফলে খারাপ গুলোর কারনে ভালগুলোও খারাপ হয়ে যায়। তাই আমার অভিজ্ঞতায় পেয়েছি, যদি খারাপ ভাল একসাথে উড়াতে হয় তাহলে ওদের পারফর্ম করার ক্ষমতার দূরত্ব যেন একটু বেশী থাকে। মোটামুটি সব কথাতো লিখে লিখে বুঝানোও কঠিন, এটা যার যার কবুতর উড়ানোর নিজেস্ব ধারার উপর নির্ভরশীল। অল্প কবুতর ট্রেনিং দিলে বাজপাখির হাত থেকে বাঁচার সংখ্যা ও হারানোর সংখ্যাও তুলনামূলক কম থাকে। যেমন দেখা গেলো, আপনি ১৫-২০ টা কবুতর একসাথে ট্রেনিং এ দিলেন, মানে আপনি বাজ পাখিকে বেশী করে আমন্ত্রন জানালেন। এতগুলো কবুতর দেখলে বাজপাখি স্বাভাবিকভাবে আপনার কবুতরের উপর বেশী টার্গেট করবে। দেখা গেলো বেশী কবুতরের মধ্যে আক্রমন করলো, ধরে নিলাম, ধরলোও একটা, বাকিগুলি ভয়ে দিকবিদিক ছুটাছুটি করলো এবং হারানোর সংখ্যা বেশী হলো, তেমনি মেঘে পড়ে হারায়ে যাওয়ার সংখ্যাও বেশী হওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই আমার মতামত, প্রয়োজন মত কম কম করে কবুতর ট্রেনিং দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। তাছাড়া যদি আপনি প্রতিযোগীতায় কবুতর উড়াতে চান, সেখানেও বড়জোর ৫-৭ টা কবুতর এক সাথে উড়াতে পারবেন, তাই অহেতুক বেশী কবুতর ট্রেনিং এ দিয়ে নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। আমি সাধারনত, অল্প সংখ্যক কবুতর ট্রেনিং দিয়ে যেটা যেটা ভাল হয় সেইগুলোকে আলাদা করে রেখে পরে চুড়ান্ত প্রতিযোগীতায় উড়ানোর আগে ২-৩ দিন ভাল গুলোকে একসাথে সেট মিলায়ে ট্রেনিং দিয়ে কনফর্ম হয়ে প্রতিযোগীতায় উড়ায়ে দেই। অবশ্য অনেকেই সরাসরি অনেকগুলি কবুতর ট্রেনিংএ পাঠান আর তার থেকে যেগুলো ভাল হয় সেইগুলির থেকে কমায়ে ভাল গুলো প্রতিযোগীতায় উড়ায়ে দেন। ---------- চলবে ।। ধর্য্য ধরে সংগে থাকার জন্য ধন্যবাদ

 
ট্রেনিং পর্ব ২৪ 

ট্রেনিংএ আমাদের অনেকেরই কবুতর উড়ায়ে দিয়ে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সময়ের অভাবে দেখা সম্ভব হয়ে ওঠে না, অথবা দেখি না, ফলে আমরা ভালভাবে জানতেই পারি না, আমাদের কবুতর কেন ভাল উড়লো? অথবা খারাপ উড়লো। তাই অনেকেই তার নিজের কবুতর নিয়ে দ্বিধাদন্দে ভোগেন, আমরা সাধারনত বেশীরভাগ ক্ষেত্রে অন্যের কথার উপর বিশ্বাস করে কবুতর সংগ্রহ ও পালন করি, ফলে অনেক সময় রেজাল্ট জানা সঠিক হয় না এবং হতাশায় ভুগি। সেক্ষেত্রে নতুনদের প্রতি আমার জানানো, আপনারা আর যাই করেন, হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর নিজের বাসায় নিজে উড়ায়ে তারপর পছন্দ হলে জাত বৃদ্ধি করবেন , না হলে পরবর্তিতে সমস্যায় পড়বেন। কারন একজনের বাসায় ভাল উড়লো মানে এই না যে, আপনার বাসায় আপনার কাছে ভাল উড়বে। সব কিছু নির্ভর করে ছোট ছোট ভুলভ্রান্তি অতিক্রম করে ভাল রেজাল্ট বের করে আনা, তবে এটাও সত্য, কবুতরের জাতের মধ্যে যদি দীর্ঘ সময় উড়া থাকে তবে অবশ্যই একদিন না একদিন আপনাকে উড়া দেখাবেই, ইনসাআল্লাহ। যা হোক, আমি আজ যে বিষয়টির উপর আমার ছোটখাটো অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো, সেটা হয়তোবা অনেকের মতের সাথে মিল নাও থাকতে পারে, অথবা আমি হয়তো আমার চিন্তাধারা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারবো না। আমি দেখেছি, যে কবুতর ছোটো বয়সে দ্রুত তৈরী হয়, মানে হটাৎ করে অধিক সময় দম করে, সেই কবুতর দ্রুত তার পারফর্ম নষ্ট করে ফেলে। অনেকেই কবুতরের এই অল্প বয়েসে অধিক উড়াটাকে অনেক বড় মাপের গুন হিসাবে দেখেন ও তারা মনে করেন, মাত্র (১-২) পাকে এই পরিমান উড়েছে, না জানি পুর্নবয়স্ক হলে কতই না উড়বে? বাস্তবিক বেশীরভাগ ক্ষেত্রে তা ঘটে না। আমার ধারনা, আমরা ঐ বাচ্চা কবুতরটিকে প্রায় প্রত্যেকদিন দিন উড়ায়ে নষ্ট করে ফেলি এবং এক সময় এসে দেখা যায় ধীরে ধীরে দম কমে আসে। এব্যাপারে অবশ্য আমার একান্ত নিজের একটি ধারনা কাজ করে, সেটা হলো, অতিরিক্ত উড়ানোর কারনে, বাচ্চা কবুতরের অপরিপক্ক হাড়ের জয়েন্টের যে মর্জ্জা আছে, তা দ্রুত শুকায়ে যায়, ফলে দিন দিন খারাপ হয়ে যায়। তাই আজ আমি অভিজ্ঞদের কাছে সবিনয় জানতে চাইবো, এই অতিরিক্ত উড়া ও হাড় মজ্জার আমার নিজেস্ব ধারনার বিষয়টি সঠিক কিনা?, তাছাড়া এটাও জানার আগ্রহ থাকবে, কি ধরনের খাদ্য খাবার খাওয়ালে এই ধরনের মর্জ্জা সঠিক রাখায় সাহায্য করবে? আমি ক্ষেত্র বিশেষ এ্যাপেল সিডার ভ্যানিগার পানির সাথে উড়ানি কবুতরকে খাওয়ায়ে দেখেছি, কবুতর অনেক সুস্থ থাকে ও প্রথম দিকে খাওয়ানোর ফলে উড়ানোর সময় অনেক ভাল পারফর্ম করে, কিন্তু পাশ্বাপাশি এটাও দেখেছি, উড়া কবুতর দিন দিন পারফর্ম খারাপ করেছে। তার পরে বিভিন্ন সুত্র থেকে এ্যাপেল সিডার ভ্যানিগার সম্পর্কে যা জেনেছি, তা হলো এ্যাপেল সিডার ভ্যানিগার নাকি হাড় নমনীয় করে এবং মজ্জা শুকায়ে ফেলে? -------- চলবে । 

ট্রেনিং পর্ব ২৫

 কবুতর দিনের কোন সময়টা ট্রেনিং এর জন্য ভাল? এই প্রশ্নটা কমবেশী সবার মাথায় ঘুরপাক খায়। অবশ্য আমার নিজের ধারনা, এই ধরনের নির্দিষ্ট কোনো বাধা ধরা নিয়ম নেই। তবে, সাধারনত শীতকালে দুপুর বা বিকালের দিকে না উড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ, যদি কবুতর মোটামুটি উড়ার জন্য তৈরী হয়ে যায়। যখন একদম প্রথম ট্রেনিং আরম্ভ করা হয়, তখন অবশ্য বিকাল ও দুপুরে উড়ালে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা যায়, আমি প্রায় সময় বলি, ট্রেনিং এর প্রাথমিক অবস্থায় কবুতরের ওজন যেন বেশী থাকে, তাহলে ওজনের কারনে কবুতর বাসা ছেড়ে বেশী দূরে যেতে পারবে না, ফলে হারায়ে যাওয়ার সম্ভবনা কম থাকবে। পাশাপাশ্বি দুপুর অথবা বিকালে নতুন কবুতর হারালে, বাড়ী খোজার সময় ও সুযোগ কম পায়, ফলে রাত্রে মানুষের হাতে ধরা পড়ার সম্ভবনা বেশী থাকে, তা ছাড়াও ভুতুম প্যাচাসহ বিড়ালের আক্রমনের শংকা থাকে। আসলে সব দিকেই বিপদ, একমাত্র ভাগ্য ভাল না থাকলে কিছুই করার থাকে না। অনেকে ট্রেনিংএ বিকালে ছেড়ে উড়াতে উড়াতে দুপুরে উড়ানো আরম্ভ করেন, তারপর আরো ভাল হলে ধীরে ধীরে সকালের দিকে কবুতর ছাড়ার অভ্যাস করান। এই কারনে দেখা গেছে, বিকালে উড়ালে সন্ধায় নামানো, আবার দুপুরে উড়ায়ে সন্ধায় নামানো এবং সর্বশেষে সকালে উড়ায়ে সন্ধায় নামানোর অভ্যাস করান। কবুতর এই যে প্রথম থেকে সন্ধায় নামার অভ্যাস গড়ে তোলার ফলে ধীরে ধীরে বিকাল থেকে দুপুরে, দুপুর থেকে সকালে ছাড়ার ফলে কবুতর অভ্যাসের কারনে অনেক ভাল পারফর্ম করে। সোজা কথায়, কবুতরকে সময় জ্ঞান দিয়ে বোকা বানানো, আর কি, হা হা হা, ওর অভ্যাস হয়ে যাবে অন্ধকার হলে বাসায় নামতে হয়, তার আগে না। তবে যা কিছুই করা হোক না কেন, অবশ্যই জাতের মধ্যে উড়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। আমি এটাও দেখেছি এই পদ্ধতিকে খুব ভালভাবে ট্রেনিং করানোর ফলে, অতিরিক্ত মেঘ আসায় আকাশ অন্ধকার হওয়ার ফলে কবুতর নীচে নেমে আসতে। কবুতরকে ভয় দেখানোর জন্য আমরা অনেকেই লাঠির সাথে কালো অথবা বিভিন্ন রঙের কাপড় বেধে নেই, যাতে করে কবুতর ভয় পায় এবং উপরে উঠে যায়। অনেকে মনে করেন, এই পদ্ধতিতে শুধু মাত্র কবুতরকে দাবড়ানোই প্রধান কাজ, আমি কিন্তু সেটা মনে করি না, আমি এটাও মনে করি নতুন ট্রেনিং এর সময় কবুতরগুলি অনেক দূরের থেকে হাতে থাকা নাড়ানো লাঠির মাথায় কাপড় দেখে বাসা চিনতে সহজ হয়, তাই কবুতর যখন উপরে উঠে যায়, তখন মাঝে মাঝে লাঠিটা মাথার উপর ধরে দেখানো ভাল। অবশ্য অনেকেই স্থায়ীভাবে বাশের মাথায় লাল সহ বিভিন্ন রঙের কাপড় পতাকার মত বেধে ছাদের উপর লটকায়ে রাখেন, যেন কবুতর উপর থেকে দেখে বাসা চিনতে পারে। ইদানিং অবশ্য এই পদ্ধতি অনেকেই ব্যবহার করার ফলে, কবুতর বিভ্রান্তিতে পড়ে যাচ্ছে, তাই উপকার শতভাগ পাওয়া যাচ্ছে না। ----------------- চলবে । ধর্য্য ধরে সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। *** নতুন পালকরা সাবধান, এখন নতুন বৃষ্টি আরম্ভ হয়েছে, তাই নতুন কবুতর লফ্টে ঢুকানোর আগে মূল লফ্টের থেকে দূরে ১৫-২০ দিন মত পালন করার পর যদি মনে হয় নিরোগ তবেই মূল্য লফ্টে দেওয়া উচিৎ। তাছাড়া প্রত্যেক বিক্রেতা ও দাতার নৈতিক দ্বায়িত্ব যদি তার লফ্টে রোগ ব্যাধি আক্রান্ত থাকে অথবা অতিক্রম করেছে, সেটা সংগ্রহকারক কে খোলা মেলা জানানো, তাতে সংগ্রহকারক সতর্ক থাকবেন এবং সেই মোতাবেক পদক্ষেপ নেবেন।

 ট্রেনিং পর্ব ২৬ 

আমাদের সামান্য ভুলের কারনে অনেক সময় অনেক ভাল মানের কবুতর নষ্ট হয়ে যায়। যেমন, ট্রেনিং এর সময় বাজপাখির তাড়া খেয়ে ফিরে আসা কবুতর যদি ভয় না ভাঙ্গায়ে আবারও ট্রেনিং এ দেওয়া হয়, দেখা গেছে সেই কবুতর আর উড়তে চায় না এবং এইভাবে প্রত্যেক দিন চেষ্টা করার ফলে আগে যে ভাল পারফর্ম করতো, তা একদম নষ্ট করে ফেলি। যদি জানা যেত ভয় পাওয়া কবুতর কতদিন মনে রাখতে পারে তার ভয়ের ঘটনা? তাহলে আমি বলতাম, বাজের তাড়া খাওয়া কবুতর যেদিন তাড়া খেয়েছে, তার থেকে এতদিন পরে উড়ালে তার ভয় ভেঙ্গে উড়বে। চিন্তা করেন মৃত্ত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা একটি পাখি কিভাবে সহজে ভুলে যাবে? আর যদি আমরা তার পরে আবারো তাকে সেই মৃত্ত্যুমুখে ঠেলে দেই, তাহলে সে কিভাবে সেটা ভুলে যেয়ে ভাল পারফর্ম করবে? আমার ধরানা, যখন বাজের উৎপাত অনেক বেশী থাকে তথন কোনো না কোনো ভাবে আমাদের কবুতর বেশীরভাগ ক্ষেত্রে বাজের তাড়া খায়, যা আমরা অনেক সময় দেখতে পারি না, ফলে অনেক সময় আমাদের অনেকের কবুতর হটাৎ করে খারাপ পারফর্ম করে, যেটা আমরা না দেখার কারনে ধরতেও পারি না। এই কারনে ভাল উড়া কবুতর যখন অদেখা কারন ছাড়া দিন দিন খারাপ পারফর্ম করে, তখন আমার সাজেশন, বাজের তাড়া খাক বা না খাক, কবুতরকে বেশ কিছু দিন একদমই উড়ানো বন্ধ রাখা ভাল। ধরে নিচ্ছি উপর আকাশে তাড়া খেয়েছিল এবং ভয় পাওয়ার জন্য আর আগেরমত উড়তে চাইছে না, তাই ভয় ভাঙ্গানোর জন্য কিছু দিন বন্ধ রেখে আবার উড়ালে ভাল ফল আশা করা যায়। আমার আরো সাজেশন, বাজপাখির তাড়া খাওয়া কবুতরকে খোলা আকাশের নীচে ছেড়ে অথবা খাঁচায় না রাখা ভাল। যে কয়দিন না উড়ানো হবে, সেই কয়দিন খাবার দেবার সময় ছাড়া সব সময় দিনের বেলায় অন্ধকার লফ্টে বা অন্ধকার বাক্সে রাখা ভাল, এতে করে কবুতরের আলোর প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ তৈরী করে এবং উড়ার জন্য জেদ তৈরী হয়। -------------- চলবে । ধর্য্য ধরে সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। **** ভয় পাওয়া উড়ানি কবুতরকে ভয় ভাঙ্গানোর জন্য তেমন কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি আমার জানা নেই। তবে আমি যেটা করি, যদি কবুতরটি পুর্নঃবয়স্ক হয়, তবে কয়েক দিনের জন্য জোড় দিয়ে দেই। আর যদি অল্প বয়স্ক হয়, তবে দেখা গেছে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে নিজেরা্ই ভুলে যায়।

 ট্রেনিং পর্ব ২৭

 অনেকে জানতে চেয়েছেন, কবুতর গাছে বসার বদঅভ্যাসের হাত থেকে কিভাবে রক্ষা পাবেন? আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি, কবুতর অভ্যাসের দাশ ও অনুকরন প্রিয়, তাই আমার কাছে ট্রেনিং মানে কবুতরের কিছু খারাপ অভ্যাস নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা ও কিছু ভাল অভ্যাস গড়ে তোলা। আর অবশ্যই জাতের মধ্যে দীর্ঘ সময় উড়ার গুন থাকতে হবে। আমাদের পাড়ার চায়ের দোকাদার, নাম খলিল। আমাদের থেকে ৩-৪ বছরের বড়। আমরা কখনও খলিল অথবা খলিলভাই বলে সম্ভোধন করতাম। যখন ঠেকা পড়তাম, বাকীতে চা খাওয়ার দরকার হতো তখন, খলিল ভাই, হা হা হা। আর যখন কবুতর নিয়ে গপ্পসপ্প হতো তখন খলিল। আর যদি কোনো কারনে খলিলের কবুতর ভাল উড়তো, তখন খলিল ভাই খলিল ভাই। ৮০/৮১ সালে মেট্রিক পরীক্ষা দিয়ে অফুরন্ত অবসর পার করছি আর খলিলের দোকানে দিন নেই রাত নেই আড্ডা । খলিলের মাত্র একজোড়া কবুতর। একটা চকরা বকরা খয়ে রঙের নর পারমানেন্ট থাকতো আর মায়া কবুতর প্রায় পাল্টে যেতো। আমাদের কাজ ছিল বেঞ্চে বসে থেকে চা খাওয়া আর কবুতর নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গল্প করা। আর খলিলের সংসার বলতে, একজোড়া কবুতর, একটা বিড়াল আর একটা কথা বলা শালিক। শালিক পাখিটাও সব সময় ছাড়া থাকতো। বিড়াল, শালিক ও ৩-৪ টা কবুতর বিশাল সংসার, হা হা হা।খলিল যখন চা বানাতো, তখন প্রায় সময় নর কবুতরটি মাঝে মধ্যে খলিলের কাধে বসে থেকে ডাকাডাকি করতো। মাঝে মাঝে খলিলকে অনুরোধ করতাম তার নর কবুতরটি উড়ায়ে দেখানোর জন্য। খলিলও বুঝে ফেলেছিল আমরা তার চায়ের দোকানে একটা কারনেই আসি ওর ঐ নর কবুতটার উড়া দেখার জন্য, চা খাওয়াটা মুখ্য ব্যাপার ছিল না। ৩-৪ কাপ চা পান করার পরেই খলিলের মন গলতো, হা হা হা। whispering যে একটা কবতুর কতটা বুঝে সেটা খলিলের নর কবুতর আর খলিলের মধ্যে কথোপকথন না হলে কেউ বিশ্বাসই করতে পারবে না। যা হোক, কিছুক্ষন পরে খলিলের ঘাড়ের থেকে বাজী ধরতো আর সোজা উপরের দিকে যতক্ষন চোখে মিলায়ে না যাবে ততক্ষন বাজী চলতে থাকতো। তাই দেখে আমরা যে আনন্দ পেতাম তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কবুতরটি খুব বেশীক্ষন উড়তো না, বড়জোর আধা ঘন্টা, তার পর ড্যানা ছেড়ে দিয়ে সোজা দোকানের পাশ্বে বড় আম গাছের ডালে এসে বসতো, আর যতক্ষন খলিল এ্যালমুনিয়ামের চায়ের বাটিতে চামুচ দিয়ে নিজেস্ব ভঙ্গিতে না ডাকবে ততক্ষন বসে থাকবে। মুখে ডাকলেও আসবে না। আর ঘাড়ে নেমে আসার পরে খলিল চায়ের চামুচে সামান্য পানি ধরবে, সেটা খেয়ে আবারো খলিল মৃদু স্বরে ফিস ফিস করে কি যেন বলতো, কখনো খোপে অথবা আবারো আম গাছে বসে ডাকাডাকি করতো। যা হোক, খলিল ও আমাদের কাছে এই কবুতরটির গাছে বসার বিষয়টি কোনো দোষের ছিল না। কিন্তু একটা অপবাদ ঐ কবুতরটির ছিল, সেটা হলো “গ্যাছো কবুতর” ------------------------ চলবে । ধর্য্য ধরে সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। *** 
যারা বই পড়ে সাতার কাটা শিখতে চান, তারা ভুল করবেন। অনেকেই প্রথম থেকে আমার পোষ্টগুলো না পড়ে অথবা না বুঝে এখনও ভাল কবুতর চেনার পদ্ধতি কি? জানতে চাচ্ছেন, তাদের আবারও বলি ভাল কবুতর চেনার থেকে খারাপ কবুতর চেনা সহজ, আর ভাল কবুতর কতটা ভাল তা আকাশে না দিয়ে চেনা সম্ভব না। এই সহজ কথাটা যদি কেউ না বুঝতে চান অথবা বিশ্বাস না করেন, আমার কিছু করনীয় নেই, কেননা, আমি সব সময় খারাপ কবুতর চিনে সে গুলো বাদ দিয়ে দেই এবং অন্যগুলি আকাশে দিয়ে উড়ায়ে পরিক্ষা করে ১০০% নিশ্চিৎ হই কতটা ভাল?

 ট্রেনিং পর্ব ২৮ 

গ্যাছো কবুতর সাধারনত দুই তিনটা কারনে হয়, অনুকরন ও অভ্যাসের কারনে, আরও একটি কারন আছে, যেটার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আমার কাছে নেই, যেটা আমি আজকে তুলে ধরছি। গত পর্বে আপনারা অনেকেই মনে করেছেন, খলিলের কবুতর “গ্যাছো” এটা জানাই বোধ হয় আমাদের সব জানা হয়ে গেছে, আসলে তা না, ঘটনা আরো বাকি আছে। খলিল সহজে তার ঐ নরের বাচ্চা তুলতো না আর বিক্রি করতো না, করলেও চড়া দামে বিক্রি করতো। যতদূর মনে পড়ে বাজারে তখন ৪-৫ টাকা জোড়া হিসাবে গিরিবাজ কবুতর পাওয়া যেত এবং Gold Point হিসাবে ১০০-১২০ টাকা জোড়া পড়তো, সেখানে খলিল ১০-১৫ জোড়া হিসাবে বাচ্চা বিক্রি করতো। আমরা দুই বন্ধুও পর পর ২ জোড়া বাচ্চা খলিরের কাছ থেকে কিনেছিলাম, এপর্যন্ত ঠিক আছে, কিন্তু যেটা অবাক হওয়ার বিষয় সেটা হলো আমরা দুজনেই বাচ্চা যখন সবে মাত্র খাবার ঠোক দেওয়া শিখেছে এবং ঘরের থেকে একদিনের জন্যও বের হয়নি, যে তারা তাদের মা-বাবার চলাফেরা গতিবিধি লক্ষ্য করবে এবং বাবা-মাকে অনুকরন করবে, এই বয়সে নিয়ে এসেছিলাম। এত ছোট বয়সে নেওয়ার কারন ছিল, যদি অন্য কেউ আমাদের আগে নিয়ে নেয়। যাহোক, বাচ্চাগুলি যখন উড়তে শিখলো তার কিছুদিন পরে আশ্বেপাশের নারিকেল গাছ সহ বিভিন্ন গাছে বসা আরম্ভ করলো, এমন না যে শুধু আমার গুলো, পরের বাচ্চাগুলিও যেগুলো আমার এক বন্ধু নিয়েছিল সেগুলোও একইভাবে বিভিন্ন গাছে বসা আরম্ভ করেছিল। এখানে আরো একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, সেটা হলো আমাদের বাসা তখন ৫ তলা, অথচ ২-৩ তলা সমান নারকেল গাছে যেয়ে বসতো। তাই আমার মোটা মাথার ধারনা, যদি কোনো কবুতরের ব্লাড লাইনের মধ্যে যদি গাছে বসার অভ্যাস থাকে, তাহলে সে গাছে বসতে পারে। অবশ্য এই ধরনের মনগড়া ধারনা করার কারন, পাখি সাধানরত গাছে বসে, তেমনি কবুতর, চড়ুইপাখি এরা সাধারনত বাসা বাড়িতে বসবাস করে এবং বাসাবাড়িতেই থাকতে পছন্দ করে, অবশ্য এটাও দেখা গেছে, যেগুলো জংলি বুনো কবুতর, তাদের গাছে বাসা বেধে বাচ্চাকাচ্চা করতে। ------------ চলবে। ধর্য্য ধরে সংগে থাকার জন্য ধন্যবাদ। *** সকলকে অনুরোধ করবো, গ্যাছো কবুতর বিষয়ে যার যা অভিজ্ঞতা আছে তা আমাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে, তাহলে কেন কবুতর গাছে বসে তার যথার্থ কারন আমরা বের করতে পারবো। 


ট্রেনিং পর্ব ২৯ 

আজ যে বিষয়ের উপর আলোক পাত করবো, সেটা হলো ট্রেনিং কালীন সময়ে কবুতরের সামান্য কয়েকটা পাখ কেটে দেওয়া প্রসংগে। আমরা কম বেশী সবাই ভুক্তভুগী, যখন কবুতর ট্রেনিং এর প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে। আমরা প্রায় সময় লক্ষ্য করছি বিশেষ করে বাচ্চা কবুতর ট্রেনিং এর প্রাথমিক পর্যায়ে অতিরিক্ত হাইট নেওয়ার কারনে হারায়ে যায়, আর এর থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য অনেক সময় আমাদের কবুতরের কিছু পাখ ( যেমন 5,4,3,2,1) কেটে পাখার জোর কমায়ে দিলে অনেক সময় ভাল ফল পাওয়া যায়। আর এই ভাবে পাখ কেটে দেওয়ার ফলে, কবুতর চাইলেও পাখার জোর কম থাকায় বেশী হাইট নিয়ে উড়তে পারে না এবং সামান্য সময় উড়ে বাসায় নেমে আসে। দেখা গেছে, এইভাবে অল্প হাইট নিয়ে অল্প সময় উড়তে উড়তে কবুতর ভালভাবে পোষ মানে ও সহজে হারায় না। তারপরেও যে সকল কবুতরের একদমই স্মরনশক্তি কম তাদের ব্যাপার ভিন্ন, পাখ কাটলেও যা না কাটলেও তাই। এইভাবে কাটা পাখ নিয়ে একা ধারে ট্রেনিং এ উড়তে থাকবে আর বয়সের সাথে সাথে পাক ঝরে নতুন পাক গজাবে অথবা প্রয়োজন হলে কাটা পাখ গুলো টেনে তুলে দিয়ে দ্রুত নতুন পাখ গজাতে দেওয়া হয়। যাহোক, এইভাবে এই পদ্ধতিতে ব্যাবহার করে অনেক সময় ট্রেনিং চালানো হয়। ------ চলবে । ধর্য্য ধরে সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। *** দিনের বেলায় তো চোখের সামনে অনেক কিছু আমরা দেখতে পাই, কিন্তু আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে কবুতর সঠিকভাবে রাত্রে ঠিকমত রেষ্ট পায় কিনা? যেমন আপনার কবুতরের লফ্টে ইদুর বিড়ালের উৎপাতে কবুতর সার্বক্ষনিক ভয়ে অস্থির থাকে কিনা? এবং ঘুমাতে ও রেষ্ট নিতে সমস্যা হয় কিনা না? ফলে পরের দিন ভাল পারফর্ম করে না। 

 
ট্রেনিং পর্ব ৩০

 আজকের বিষয় গিরিবাজ কবুতরের বাজি সংক্রান্ত। কম বেশী সবাই বলেন, গিরিবাজ কবুতর মানে তার ভিতর বাজি থাকতে হবে, তা না হলে অনেক সময় অনেকেই গিরিবাজ কবুতর হিসাবে মানতে নারাজ। একথা সত্যি, এক সময় গিরিবাজ কবুতরের প্রধান মানদন্ড ছিল বাজি, আর এখন এমন অবস্থা কত দীর্ঘ সময় উড়লো? সেটা দিয়েই একটি গিরিবাজ কবুতরের মান নিরুপন করা হয়। কেননা, প্রতিযোগীতায় বাজিকে কোনো হিসাবের মধ্যে ধরা হয় না, তাই বোধ হয়, এই অবস্থা। ট্রেনিং এ কখন কোন বয়সে বাজি ঘুরবে? সেটা জানা প্রয়োজন, তাই বিক্রেতা ও দাতার নিকট থেকে আগেভাগে জানা থাকলে ভাল হয় এবং বয়স ভেদে বাজি ঘুরার পরে ও কি ধরনের বাজি হবে জানা থাকলে কবুতরের ভালমন্দ বুঝতে কিছুটা হলেও সহজ হয়। যেমন, যদি জানা যায় খুব অল্প বয়সে বাজি ঘুরবে এবং বাজির মাত্রা বেশী হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে খারাপ হওয়ার সম্ভবনা থাকে, আর যদি জানা যায় দেরীতে বাজি ঘুরবে, তাহলে ধারনা করা হয় ভাল উড়ার সম্ভবনা বেশী। জাতে অতিরিক্ত বাজি দীর্ঘ সময় উড়ার জন্য বাধা, আমার ধারনা অতিরিক্ত বাজির কারনে কবুতর দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে কম দম করে, তাছাড়া অতিরিক্ত বাজিওলা কবুতর বাজপাখির শিকার বেশী হয়। ট্রেনিং এ বাজি ঘুরানো একটি সমস্যা, যদি জাতের মধ্যে ভাল মানের বাজি না থাকে। তাই তখন অনেক সময় ছোটদের সাথে দুই একটা বয়স্ক বাজিওলা কবুতর সাথী হিসাবে দেওয়া হয়, যেন অনুকরন প্রিয় কবুতর দেখে অনেক সময় বাজি খাওয়ার চেষ্টা করে। -------- চলবে । ধর্য্য ধরে সংগে থাকার জন্য ধন্যবাদ। *** যদি কখনও দেখা যায় কবুতরের কোনো কারনে কোনো এক ড্যানার দুই একটি পাখ কোনো কারনে পড়ে গেছে, অথচ অন্য ড্যানায় সেই পাখগুলি তখনো বহাল আছে, তাহলে উচিৎ হবে, যদি পাখ কাঁচা না থাকে, তাহলে ঐগুলিও তুলে ফেলে ব্যালান্স করে দেওয়া। তাতে কবুতরের উড়তে সাচ্ছন্দ বোধ করবে। 

 ট্রেনিং পর্ব ৩১ 

গত পর্বে কবুতরের বাজী সংক্রান্ত আলোচনার মাঝ পথে শেষ করা হয়েছিল, যাহোক, আপনার কবুতর যদি নিজের পরিচিত জাতের হয়, তাহলে কখন কোন বয়েসে বাজি ঘুরবে সেটা জানা থাকলে আর সমস্যা হয় না। আর না হলে (০) পাকের থেকে উড়ানো আরম্ভ করে কখন বাজি ঘুরে সেটা জেনে রাখলে পরবর্তিতে ঐ একই প্যারেন্টস্ এর বাচ্চাদের ট্রেনিং দিতে কিছুটা সহজ হয়। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, সব বাচ্চাই যে একই বয়সে ও একই সময় বাজি ঘুরবে এটা শতভাগ সঠিক নাও হতে পারে। এমনও দেখা গেছে একই পারেন্টের বাচ্চা কোনো কোনো সময় ভাল মানের বাজি খেতে এবং খারাপ মানের বাজি খেতে। আমার অভিজ্ঞতায় খারাপ মানের বাজি সেই গুলি, যার কারনে হাইফ্লাইয়ার গিরিবাজ কবুতর দীর্ঘ সময় উড়ার জন্য অন্তরায়। সব থেকে খারাপ বাজী আমি সেইগুলিকে নির্দিষ্ট করেছি, তার মধ্যে বাজি ফিনিশিং না দিয়ে হাফ বাজি খেয়ে নীচে নেমে আসার কাজে ব্যাবহার করে। এছাড়াও যে সকল বাজি কবুতরকে উপরে ঊঠতে বাধা গ্রস্থ করে, যেমন পা ছেড়ে দিয়ে কবুতর আকাশে প্রচন্ড শব্দ করে বাজি করে। যা হোক এত কথাতো আর লিখে লিখে আমি আপনাদের বুঝাতে পারবো না, বরংচ আপনার পরিচিত অভিজ্ঞ কবুতরবাজদের সাথে মেলামেশা করে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। ট্রেনিং এ বাজি ঘোরার সময় সাধারনত শরীষা দানা খাওয়ালে বাজির খাওয়ার প্রবনতা বৃদ্ধি পায় ফলে বাজি তাতাড়ি থায়, এছাড়াও অনেক সময় বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় যাতে সহজে বাজি দেওয়া শিখতে পারে। তার মধ্যে একটি অন্যতম পদ্ধতি হলো, কবুতরের লেজের মাঝখান খেকে কিছু লেজ উপড়ে ফেলে দিয়ে ফাঁকা করে দেওয়া, যেমন, লেজের দুই পাশ্বে চারটা চারটা লেজ রেখে মাঝখান থেকে চারটা লেজ তুলে দিলে অনেক সময় বাজি তাড়াতাড়ি ঘুরতে ;দেখা গেছে। তাছাড়াতো আছেই ট্রেনিং এর সময় একটি বয়স্ক কবুতর সাথে দিয়ে উড়ানো, যেটা সুন্দর বাজি খায় এবং ওটার দেখাদেখি অনেক সময় নতুন বাচ্চা কবুতরগুলিও অনুকরন করার চেষ্টা করবে। অবশ্য এখানে যা কিছু বলা হচ্ছে, কবুতরের জাতের মধ্যে অবশ্যই ভাল মানের বাজি থাকতে হবে, নতুবা কিছুই হবে না। ---------- চলবে। ধর্য্য ধরে সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। **** এখন মাঝে মাঝে বলা নেই কওয়া নেই বৃষ্টি হচ্ছে, তাই আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, ছাদে বা উঠানে, যেন, এমন কোনো অপ্রয়োজনীয় পাত্র না থাকে, যাতে বৃষ্টির পানিতে ভরে থাকবে এবং কবুতর যখন তখন এই সব অপরিচ্ছন্ন পানি পান করে অসুস্থ হয়ে যেন না পড়ে। তাছাড়া আমরা অনেকেই অনেক সময় কবুতরের নামা পর্যন্ত ছাদে থাকা সম্ভব হয়ে উঠে না, তাই দেখা গেলে কবুতর দীর্ঘ সময় উড়ে এসে নেমে তাৎক্ষনিক এইসব পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

No comments:

Post a Comment

মিসমার্ক কবুতরই যখন তুরুপের তাস

আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরবো আমার লফটের এক ফাটা বেবির হিষ্ট্রি। কবুতরের কালার মিউটেশন সম্বন্ধে আমার জ্ঞান খুব সামান্যই বলা চলে। গত নভেম্বর...