আপনার খামারের কয়েকটি কবুতর খুবই অসুস্থ, নিজে নিজে খেতে পারে না, বা খাবার খাইয়ে দিলে উপড়ে ফেলে দেয়। সে ক্ষেত্রে আপনি কি করবেন, সকালবেলা ঔষধ ও খাবার পানি খাইয়ে অফিসে চলে গেলেন, এবং বিকেল বেলা বাসায় এসে আর খাবার ও ঔষধ পানি খাওয়ালেন। কিন্তু মাঝখানে যে লম্বা সময় অতিবাহিত হল। ওই সময় কবুতর গুলো আরো কয়েক বার বমি করল। শারীরিকভাবে আরো দুর্বল হয়ে পরল। সর্বপরি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও কমে গেল। এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণে রোগ থেকে সেরে ওঠার সম্ভাবনা আরও কমে গেল।
কিংবা সেরে উঠলেও টাল হবার সম্ভাবনা ও প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হবার সম্ভাবনা রয়ে গেল।
এক্ষেত্রে করণীয় কবুতরের ন্যাচারাল খাবার, অর্থাৎ ফ্যাট, মিনারেল, আয়রন, ও ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার।
যেমনঃ- ভুট্টা, ছোলা বুট, গম, চিনাবাদাম, কিংবা পেস্তা বাদা,দের থেকে দুই ঘণ্টা ভিজিয়ে বেলেনডারে লিকুইড করে তার সাথে ইলেক্ট্রোমিন স্যালাইন, লাইসোভিট, কিংবা গ্লুকোজ, এনজাইম, ও সামান্য লেবুর রস মাঝে মাঝে। মিক্স করে খাওয়ানো জরুরী।
তবে একবারে বেশী না খাইয়ে বারবার অল্প অল্প করে, অর্থাৎ ৫ কিংবা ১০ মিলি করে দিনে চারপাঁচ বার খাওয়ানো ভালো। কারন এধরনের অসুস্থ কবুতরের ডাইজেস্ট ক্ষমতা কম থাকে। তাই একবারে বেশী খাওয়ালে বমি করে ফেলে দেয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং এভাবে বারবার বমি করার কারনে কবুতর আরো বেশি দুর্বল হয়ে পরে। প্রতিবার খাবার খাওয়ানোর দশমিনিট আগে টক্সস্লিন মিশ্রিত পানি খাওয়ানো দরকার। কারন টক্সস্লিন মিশ্রিত পানি খাওয়ানো হলে কবুতরের পেটের ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় থাকে।
ফলে মেডিসিনের কার্যকারিতা বেরে যায় এবং বমি করাও আস্তে আস্তে কমে আসে।
অনেকেই ধারণা করে কবুতর বমি করলে মটিগার্ড কিংবা এমোডিস খাওয়ালে বমি কমে যায় এটা সম্পুর্ণ ভুল ধারনা। আসলে কবুতর বমি করে যখন কবুতরের পেটে ব্যাকটেরিয়া সচল থাকে ফলে ডাইজেস্ট ক্ষমতা কমে যায় ।
তখনই কবুতর বমি করে, অনেক সময় কৃমি সচল থাকলেও বমি করতে পারে।
মনে রাখবেন এধরণের অসুস্থ কবুতরের ক্ষেত্রে মেডিসিনের চেয়ে নার্সিং বেশী জরুরী।
কৃতজ্ঞতায়ঃ খন্দকার আসাদুজ্জামান কাজল ভাই
No comments:
Post a Comment