গ্রিড হচ্ছে ইটের কণা,নুড়ি পাথর,ডিমের খোসা,লবন,লাইমষ্টোন,ঝিনুক গুড়ো ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত কবুতরের একটি গুরুত্বপূর্ন খাবার। এটি কবুতরের হজম শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।
আদর্শ গ্রিডে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্লোরিন এবং oligo উপাদানগুলি বিদ্যামান।এছাও কবুতর এর জন্য প্রয়োজনীয় লোহা, তামা, ম্যাঙ্গানিজ, দস্তা, আয়োডিন, সেলেনিয়াম বিদ্যামান।
গ্রিড এর উপকারিতাঃ
১. গ্রিট কবুতরের হজম শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।
২. বীজ বা শস্যদানার খোলস কবুতরের হজমের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে । গ্রিট এই প্রতিবন্ধকতা দূর করে এবং হজমে সাহায্য করে । অনেকে মনে করে যে গ্রিট কবুতরের ডিম উৎপাদনে সাহায্য করে আসলে এই ধারণাটা সঠিক না । তবে গ্রিট কবুতরের বহুমুখি উপকার করে থাকে । কবুতররের হজম শক্তি ঠিক রাখা কবুতর সুস্থ রাখার অন্যতম প্রধান শর্ত ।
৩. গ্রিডে বিদ্যামান খনিজ এবং অলিগো উপাদানগুলি পেশী, হাড়ের গঠন, ত্বক এবং পালকগুলি বিকাশের মতো গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৪. কবুতরের বাচ্চাদের বেড়ে উঠার জন্য গ্রিটের লবন খুব গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।
৫. ডিমের খোসা মজবুত করতে সাহায্য করে।
গ্রিড এর মিশ্রনঃ
গ্রিট সাধারণত দুই ধরনের মিশ্রণে তৈরী করা হয়,
১. দ্রবণীয়
২. অদ্রবণীয়
১. দ্রবণীয়ঃ সামুদ্রিক ঝিনুকের খোলার গুঁড়ো ,লবণ, কাঠকয়লা, ঝিনুক শেল, সুমুদ্রের ফেনা(cat fish), পোড়া মাটি, ডিমের খোসা, ইত্যাদি । এসব দ্রবণীয় উপাদান শরীরে হজম হয়ে যায়।
২. অদ্রবণীয়ঃ ইটের গুরা(চালের সমান), চুনা পাথর (লাইম স্টোন) ইত্যাদি । এসব অদ্রবণীয় উপাদান পড়ে পায়খানার সাথে বের হয়ে যায়।
সতর্কতাঃ ঝিনুক শেল, কাঠকয়লা, সামুদ্রিক ঝিনুকের খোলার গুঁড়ো, সুমুদ্রের ফেনা(cat fish), ডিমের খোসা, ইত্যাদি তে সাল্মলিনা সহ নানা রোগের জীবাণু থাকতে পারে, তাই এগুলো মিক্স করার আগে ১/২ ঘণ্টা ভাল করে গরম পানিতে ফুটিয়ে নিতে হবে অথবা ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।
গ্রিড তৈরির প্রস্তুত প্রনালীঃ
প্রথমে আপনাকে ইটের গুড়া ভাল করে ৩ ধরনের চালনি দিয়ে ভাল করে চেলে ( চাউল এর সাইজ রাখতে হবে) ডাস্ট ফেলে নিতে হবে । এবার সেগুলোকে লবন বা পটাস পানিতে ভাল করে ধুয়ে নেবার পর তা চুনের পানিতে (খাবার চুনে - ২৫০ গ্রাম উপাদান এর উপর ভিত্তি করে) ভিজাতে হবে । পানি পুরোপুরি শোষিত হলে, এর পর সেটাকে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে যাতে কোন ভিজা না থাকে । এরপর ঝিনুক শেল, সামুদ্রিক ঝিনুকের খোলার গুঁড়ো, কাঠকয়লা, সুমুদ্রের ফেনা (cat fish), ডিমের খোসা, ইত্যাদি মিক্স করতে হবে , অবশ্যই খেয়াল করে এই জিনিসগুলো আগে রোদে ভালোভাবে শুকাতে হবে । তারপর সেগুলোকে ভেঙ্গে ছোট করে নিতে হবে যাতে চালের মত আকার হয় । পরে সেগুলো শুকিয়ে সেগুলোর সাথো পোড়া মাটি ও লবন মিক্স করতে হবে ।
নিম্নে কোন উপাদান কি পরিমান মেশাবেন তার বর্ণনা দেয়া হলো ।
পরিমাণঃ
১. ইটের গুরা -------------৩ কেজি
২. পোরা মাটি ------------৩ কেজি
৩. লাইম স্টোন পাথর---৩ কেজি
৪. ঝিনুক গুরা ------------১ কেজি
৫. ডিম এর খোসা -------২৫০ গ্রাম
৬. কাঠ কয়লা-------------৫০০ গ্রাম
৭. বিটলবণ ----------------২৫০ গ্রাম
৮. আয়োডিন লবন ------২৫০ গ্রাম
৯. সমুদ্রের ফেনা----------১০০ গ্রাম
১০. লাল শুকনা মরিচ গুরা-----২৫০ গ্রাম
১১. কালো মরিচ গুরা---২৫০ গ্রাম
১২. হলুদ গুরা-------------২৫০ গ্রাম
১৩. সজিনা পাতা গুরা--৫০০ গ্রাম
১৪. মৌরিদানা গুরা -----২৫০ গ্রাম
১৫. জাউন গুরা ----------২৫০ গ্রাম
১৬. খুসকুদরত গুরা-----২৫০ গ্রাম ( বানতি দোকানে পাবেন)
সমস্ত উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে কৌটার সংরক্ষণ করুন।
( উপাদান মিশ্রণ টি পাকিস্তান ও ইন্ডিয়া তে কবুতর এর জন্য ব্যবহারিত হয়)
উপরোক্ত উপাদান ও পরিমাপ আপনার চাহিদা আনুয়াযী ঠিক করে নিতে পারেন।
১-৯ নং উপাদান দিয়েউ গ্রিট তৈরি করতে পারেন। আর একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে যে গ্রিট মাঝে মাঝে রোদে দিয়ে শুকিয়ে নেয়া ভাল, এতে ফাঙ্গাস হবার ভয় থাকে কম।
গ্রিট ব্যবহার এর নিয়মঃ
সপ্তাহে ২/৩ দিন কবুতর কে গ্রিড দিন।অথবা ক্যালসিয়াম এর পরিমান কমিয়ে প্রতিদিনই দিতে পারেন।
বর্তমানে অনেকে গ্রিটের সাথে বিভিন্ন মেডিসিন ইউজ করছে কবুতরকে অধিক পরিমাণে ভালোবেসে।
কিন্তু ইহা অনুচিত। গ্রিট প্রাকৃতিক খাদ্য ,একে মুডিফাই করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। ধন্যবাদ
ভালোমানের গ্রিট পেতে যোগাযোগ করুন https://www.facebook.com/profile.php?id=100004200614872

No comments:
Post a Comment