About Me

My photo
A pigeon lover from a small town. Currently working on Oriental Frill pigeon. passing time with pigeons since 2006

Thursday, August 26, 2021

কবুতর চিকিৎসায় ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিক গুলোর জেনেরিক নেইম

 কবুতর চিকিৎসায় ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিক গুলোর জেনেরিক নেইম এর বংশ পরিচয় ও ডোজিং ফরমেট

কবুতর চিকিৎসায় ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিক গুলোর জেনেরিক নেইম এর বংশ পরিচয় ও ডোজিং ফরমেট নিয়ে আজ লিখছি কোন একজন সম্মানিত সদস্য জানতে চেয়েছিলেন। বিশেষ করে দেশের বাইরে যারা থাকেন তাদের দেশের ঔষুধ এর নামের সাথে আমাদের দেশের ঔষুধের নাম মিল না থাকার কারণে কনফিউজড হয়ে যান । বাট মোটামোটি সব দেশের ঔষুধ এর জেনেরিক নাম প্রায় 80% (আশি শতাংশ)মিল থাকে।  

 

ম্যাক্রোলাইড গ্রুপের:

ডক্সিসাইক্লিনঃ ডক্সিভেট, ডক্সি এ ভেট ইত্যাদি নামে বাজারে পাওয়া যায়, ইনফেকশাস করাইজা সহ বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের অসুখের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা হয়, প্রয়োজনে এর সাথে অন্যান্য এন্টিবায়োটিক যেমন টাইলোসিন, নিওমাইসিন সালফেট যোগ করা লাগে। ডক্সিসাইক্লিন এর মিনিমাম ডোজ একগ্রাম /লি থেকে সর্বোচ্চ দুই গ্রাম /লি দেয়া যায়। একগ্রাম /লি এর বেশি ডোজ দিলে অবশ্যই এর সাথে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যোগ করে দিবেন। 

 

টাইলোসিনঃ টাইলোভেট নামে বাজারে পাওয়া যায় এটি কবুতরের শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহের জন্য দায়ী অনুজীবের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এর ডোজিং ফর্মেট হলো একগ্রাম /লি। 

 

নিওমাইসিন সালফেটঃ নিওভেট নামে এটি বাজারে পাওয়া যায়। ফাঙ্গাস ও ইস্টের কারণে সৃষ্ট শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহের ক্ষেত্রে এটি সাজেশন দেয়া হয়। এর সর্বোচ্চ ডোজ হচ্ছে এক গ্রাম /লি 

 

অক্সিটেট্রাসাইক্লিনঃ রেনামাইসিন নামে বাজারে পাওয়া যায়, বর্তমানে বাংলাদেশ ভেটেনারি কাউন্সিল এটিকে ব্যান করেছে। 

 

ইরেথ্রোমাইসিনঃ এটি একটি কম্বিনেশনে বাংলাদেশে পাওয়া যায় এর সাথে থাকে সালফামেথোক্সাজোল ও ট্রাইমেথপ্রিম, ইরিকট, ইরাপ্রিম ইত্যাদি নামে এটি বাজারে পাওয়া যায়। শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ, সালমোনেল্লসিস, কোক্কাইডিস সহ বিভিন্ন চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়। এর ডোজ হচ্ছে একগ্রাম /লি 

 

পেনিসিলিনঃ 

এমোক্সিসিলিনঃ মক্সাসিল ভেট নামে এটি বাজারে পাওয়া যেতো, এর সাথে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যোগ করা ছিলো। বাংলাদেশ ভেটেনারি কাউন্সিল এটিকে ব্যান করেছে কিন্তু কবুতরের চিকিৎসায় এটি বেশ কার্যকর। শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ, সালমোনেল্লসিস সহ মাই প্লাজমার ইনফেকশনে ও এটি কার্যকর। ডোজ একগ্রাম /লি 

 

কুইনোলোনঃ 

সিপ্রোফ্লক্সাসিনঃ সিপ্রোসিন ভেট সল্যুশনস, সিভক্স ভেট ইত্যাদি নামে এটি বাজারে পাওয়া যায় ডোজ একটি সিংগেল কবুতরের জন্য ৪ ফোটা ১২ ঘন্টা পরপর ও একাধিক কবুতরের ক্ষেত্রে এক এমএল /লি। কবুতরের সবুজ চুনা পাতলা পায়খানা ও পানি পায়খানার সমস্যায় বেশ কা

 

লিভোফ্লক্সাসিনঃ লিভোম্যাক্স ভেট সল্যুশনস, লিভোস্কিন সল্যুশনস ইত্যাদি নামে বাজারে পাওয়া যায়। শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ, সালমোনেল্লসিস ইত্যাদি চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয় এবং ডোজ একটি কবুতরের ক্ষেত্রে ৪ ফোটা দৈনিক একবার ও একাধিক কবুতরের ক্ষেত্রে এক এমএল/লি কার্যকর। 

 

এনরোফ্লক্সাসিনঃ এনফ্লক্স ভেট সল্যুশনস, এনরোসিন ইত্যাদি বিভিন্ন নামে এটি বাজারে পাওয়া যায় একটি সিংগেল কবুতরের জন্য ৪ ফোটা দৈনিক একবার ও একাধিক কবুতরের নীচে এক এমএল /লি  এটি সালমোনেল্লসিস সহ, ফাউল কলেরা ইত্যাদির ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর। 

 

এন্টিপ্রুটোজোয়ান:

মেট্রোনিডাজোলঃ এমোডিস ভেট, ডাইরোভেট ইত্যাদি নামে এটি বাজারে পাওয়া যায় এর ডোজ হচ্ছে একগ্রাম /লি। 

টল্টাজুরিলঃ কক্সিট্রিল ও রেনাজুরিল নামে এটি বাজারে পাওয়া যায়। এর ডোজ হচ্ছে এক এমএল /লি তিন দিন থেকে সর্বোচ্চ ৫ দিন।

 

নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। কবুতর পালকদের কঠিন সময় যায় কবুতর অসুস্থ হলে ৷ বাংলাদেশে কবুতরের চিকিৎসা বিষয়ে সঠিক পরামর্শ দেবার তেমন কেউ নাই ৷ তবে অসুখ হয়েছে এন্টিবায়োটিক খাওয়ান এমন মরামর্শ দেবার লোকের অভাব নাই ৷ মনে রাখতে হবে রোগ মারাত্বক হলে তবেই এন্টিবায়োটিক দিতে হবে এবং মধ্যম মাত্রার এন্টিবায়োটিক , রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে এন্টিবায়োটিক দেয়া যাবে না ৷ ঠান্ডা, পাতলা পায়খানায় এন্টিবায়োটিক কাজ করে না ৷ অথচ অনেকেই ঠান্ডা লাগলে এন্টিবায়োটিক দিতে পরামর্শ দেন ৷ সাধারণ ঠান্ডা, পাতলা পায়খানা, অনেক সময় এমনিতেই ঠিক হয়ে যায় ৷ এতে এন্টিবায়োটিকের কোন বাহাদুরী নাই ৷ অতি মাত্রায় এন্টিবায়োটিক প্রদান কবুতরের ন্যাচারাল রেজিস্ট্যান্ট নষ্ট করে দেয় যা পরবর্তীতে বিভিন্ন পার্শপ্রতিক্রিয়ার কারণ হয়ে দাড়ায় এবং মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনে। তাই এন্টেবায়োটিক প্রদানের ক্ষেত্রে আগে প্রাকৃতিক ঔষুধ বা এন্টেবায়োটিক নয় এমন কোন ভেট ঔষুধ বা মানুষের ঔষুধ (ডোজ ফরমেটিং মেনে) প্রয়োগ করে দেখুন। যদি কাজ না হয় সেক্ষেত্রে এন্টেবায়োটিক অতি মাত্রায় না দিয়ে মধ্যম মাত্রায় সঠিক ডোজ মেনে চলে সময়মত কোর্স এর দিন পুরণ করবেন (মিনিমাম 7 দিন একটানা)।  অবশ্যই এন্টেবায়োটিক প্রদানের পরে প্রবায়োটিক প্রদান করবেন।

জরুরী কথা: একই রোগে, একই ঔষুধ একইভাবে খাওয়ানোর পর একেকজনের অভিজ্ঞতা একেক রকম হতে পারে ৷ ধরুন, রক্ত আমাশয়ে ৫ দিনের চিকিৎসাতেই আমার কবুতর সুস্থ হতে পারে ৷ আর আপনারটা ১০ দিনের চিকিৎসাতেও পুরো সুস্থ নাও হতে পারে ৷ তাই চিকিৎসা ভুল হয়েছে এমন না ভেবে পরবর্তীতে কি করতে হবে, তা ভাল জানে এমন কারও কাছ থেকে জেনে নিতে হবে ৷ 

ঔষুধ নির্বাচন করতে যে কারও ভুল হতে পারে ৷ কারও পরামর্শে কোন ঔষুধ প্রয়োগে কবুতর সুস্থ না হলে বা সম্যসার সমাধান না হলে, পরামর্শ দাতা জানেন না, এমনটা মনে করবেন না ৷ আবার সঠিক ঔষুধ সঠিকভাবে প্রয়োগের পরও কবুতর মারা যেতে পারে ৷ যদি এই কথা মেনে না নিতে না পারেন, তবে আর সামনে না যেয়ে এখানেই FULL STOP দিন ৷ এরপর আপনার যা ইচ্ছা করুন ৷ ইচ্ছে করে ভুল পরামর্শদাতা ব্যতিত, কবুতরের ক্ষতির জন্য পরামর্শ দাতা না,পরামর্শ গ্রহীতা দায়ী ৷ পরামর্শ গ্রহীতার দায়িত্ব, সঠিক পরামর্শ দিতে পারবে, এমন কারো কাছ থেকেই পরামর্শ নেয়া ৷

তবে পরিশেষে রোগের প্রতিকার বা চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ উত্তম ৷ তাই কবুতরের রোগ প্রতিরোধের দিকে গুরুত্ব দিন ৷

বিশেষ কিছু জায়গায় সৃংগ্রহীত এবং এবং নিজ অভিজ্ঞতা থেকে পরিমার্জিত করা হয়েছে।

আর হ্যা –ভাই, আমি কোন পশু ডাক্তার না। আমি একজন কবুতর প্রেমী। কবুতরকে ভালোবাসি নিজের সন্তানের মত করে। তাই ওদের ভালো মন্দ নজর রেখে ওদের পরিচর্যা করার চেষ্টা করি মাত্র। 

সম্মানার্থে ও কৃতজ্ঞতা: শ্রদ্ধেয় আরিফুর রহমান সরকার, ভাই

No comments:

Post a Comment

মিসমার্ক কবুতরই যখন তুরুপের তাস

আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরবো আমার লফটের এক ফাটা বেবির হিষ্ট্রি। কবুতরের কালার মিউটেশন সম্বন্ধে আমার জ্ঞান খুব সামান্যই বলা চলে। গত নভেম্বর...