আমরা ইতিপূর্বেই জেনে এসেছি যে পুরুষ কবুতরকে (নর) এবং মেয়ে বা স্ত্রী কবুতরকে মাদি বলা হয়ে থাকে।
নর এবং মাদি কবুতরের মধ্যে বেশ কিছু শারীরিক এবং স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য ও পার্থক্য রয়েছে। যেটি সনাক্ত করার পর আমরা কবুতরের নর এবং মাদিকে আলাদ করতে সক্ষম হবো। আমরা এখানে কবুতরে শারীরিক এবং স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য কে দুইটি আলাদা ভাগে ভাগ করে আলোচনা করবো।
ক)শারীরিক বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যঃ-
১/ নর বা পুরুষ কবুতরের মাথা, ঘাড় এবং দেহ তুলনামূলক মোটাসোটা ও লম্বা এবং দৃঢ় হয়।অপরদিকে মাদি বা স্ত্রী কবুতরটির মাথা ও ঘাড় দেহর কাছাকাছি অবস্থান করে এবং নর এর তুলনায় ক্ষীণ বা ছোট হয়।
২/ পুরুষ বা নর কবুতরের গলার রগ মোটা হয়।
অপরদিকে স্ত্রী বা মাদি কবুতরের গলার রগ তুলনা মূলক ভাবে একটু চিকন হয়।
৩/ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পুরুষ বা নর কবুতর আকারে বড় হয়। অপরদিকে স্ত্রী বা মাদি কবুতর আকারে তুলনামূলক ছোট হয়।
৪/ পুরুষ বা নর কবুতরের মাথা বড় এবং চ্যাপ্টা হয়।
অপরদিকে স্ত্রী বা মাদি কবুতরের মাথা ছোট এবং লম্বা হয়।
৫/ পুরুষ বা নর কবুতরের চোখ টানা হয়।
অপরদিকে স্ত্রী বা মাদি কবুতরের চোখ বৃত্তাকার হয়।
৬/ পুরুষ বা নর কবুতরের পা ও এর আঙ্গুল সমান ও অমসৃণ হয়।অপরদিকে স্ত্রী বা মাদি কবুতরের পা ও এর আঙ্গুল প্রায় সমান ও মসৃণ হয়।
৭/ পুরুষ বা নর কবুতরের ঠোঁট ধরে হালকা করে টান দিলে ছাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করে এবং গলা ফুলায়।
অপরদিকে স্ত্রী বা মাদি কবুতর সাধারণত চুপ করে থাকে বা কোন চেষ্টা করে না।
৮/ পুরুষ বা নর কবুতরের ঠোঁট ধরে নিচের দিকে নিলে নর কবুতর টি তার লেজ নিচু করে ধরবে।
অপরদিকে স্ত্রী বা মাদি কবুতরটিকে এমন করলে সে তার লেজ উঁচিয়ে ধরবে।
৯/ উভয় হাতে কবুতর ধরে বুকের খাঁচার মাঝ বরাবর মলদ্বারের কাছাকাছি হাত দিলে দেখা যাবে হাড়ের শেষ প্রান্তে একটি স্পেস আছে, তারপর উক্ত স্পেস এর মধ্যে একটি আঙ্গুল দিয়ে দেখলে ২ টি ছোট পাতলা হাড় পাওয়া যাবে যেটি দেখতে "V"এর মত লাগবে।উক্ত "V" এর মধ্যে যদি একটি ছোট আঙুল বা তার বেশি ফিট কয়, তবে এটি স্ত্রী বা মাদি কবুতর।
অপরদিকে যদি উক্ত হাড়ের মাঝে ১ বা -২ মিলি ফাঁক থাকে তাহলে এটি পুরুষ কবুতর।
১০/ বাচ্চা জন্ম নেবার ৩ থেকে ৪ দিন পর যদি আপনি কবুতরের বাচ্চাকে ধরে তার পায়খানা নির্গমনের(vent hole) পথের দিকে খেয়াল করেন তাহলে পুরুষ বা নর কবুতরের পায়খানার রাস্তার মুখ একটু চ্যাপ্টা বা smile সিম্বল এর মত দেখবেন।
অপরদিকে সদি কবুতরটি স্ত্রী বা মাদি কবুতরের হয় তবে পায়খানার রাস্তা সোজা বা গোলাকার বা Happy সিম্বল এর মত দেখাবে।
১১/ রেসার কবুতরের ক্ষেত্রে,সুন্দর করে মাথা হাতের উপর রেখে কবুতরটিকে উল্টিয়ে রাখা হলে যদি কবুতরটি উঠতে চেষ্টা করে বা উঠে যায় তবে সেটি পুরুষ বা নর কবুতর।
অপরদিকে এভাবে করার পর যদি কবুতরটি চুপচাপ শুয়ে থাকে বা উঠতে চেষ্টা না করে তবে তা স্ত্রী বা মাদি কবুতর।
খ) স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যঃ-
১। পুরুষ বা নর কবুতর সাহসী এবং রাগী হবে।
অপরদিকে স্ত্রী বা মাদি কবুতর টি চঞ্চল ও লাজুক কোয়ালিটির হবে।
২। পুরুষ বা নর কবুতরে শরীর অপরিষ্কার থাকে।
অপরদিকে স্ত্রী বা মাদি কবুতরের শরীর তুলনামূলক পরিষ্কার থাকবে।
৩। পুরুষ বা নর কবুতর খুব ঘন ও জোরে জোরে ডাকবে।এবং ডাকার সময় গলা ফুলিয়ে ঘুরে ঘুরে ডাকবে।
অপরদিকে মেয়ে কবুতর থেমে থেমে ও আস্তে আস্তে ডাকবে।
৪। পুরুষ বা নর কবুতর মাদি কবুতরকে হুমকি দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে একটি প্রয়াস চালানোর চেষ্টা করে বা মাদীকে চার্জ করবে বা সাধারণত তার মনোযোগ পেতে হালকা ঠোকড় দেয় এবং আঘাত করে যদিও এটি ইচ্ছাকৃত ঠোকর নয়।পাশাপাশি পুরুষ কবুতর গলা ফুলিয়ে এক জায়গা থেকে লেজ নামিয়ে মাদিকে আক্রমন করে আর মাদি মাখা নাড়িয়ে মাথা উপর নিচ করে একই জায়গায় থাকে।
৫। পুরুষ বা নর কবুতর পুরো ঠোঁট ডুবিয়ে পানি পান করে।
অপরদিকে স্ত্রী বা মাদি কবুতর অল্প বা অর্ধেক ঠোঁট ডুবিয়ে পানি পান করে।
৬। পুরুষ বা নর কবুতর সূর্যাস্ত যাবার আগে বেশি অস্থির থাকে।
অপরদিকে স্ত্রী বা মাদি কবুতর শান্ত থাকে।
৭। ডিমে তাপ দেবার সময়কালে পুরুষ বা নর কবুতর সূর্য উঠার পর অর্থ্যাৎ সকালে ডিমে তাপ দেয়ার জন্য অবস্থান নেয় বা বসে।
অপরদিকে স্ত্রী বা মাদি কবুতর সারারাত ডিমে তাপ দিয়ে থাকে।
৮। ব্রিডিং এর আগে পুরুষ বা নর কবুতর মাদির বা স্ত্রী কবুতরের পায়ের কাছে বসে এক ধরনের শব্দ করে।
অপরদিকে স্ত্রী বা মাদি কবুতর নর কবুতরের মুখে, ঘাড়ে ও গলায় ঠোঁট দিয়ে গ্রুমিং করে দেয়। আর মেটিং এর আগে ঠোঁট দিয়ে খাইয়ে দেয়।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা মোটামুটি নর মাদি চিনতে সক্ষম হব।

No comments:
Post a Comment