১। পিপিএমভি বা পিজন প্যারামক্সি ভাইরাস বা রানিক্ষেত
আলোচনার বিষয়ঃ Pigeon paramyxovirus (PPMV) পিপিএমভি বা পিজন প্যারামক্সি ভাইরাস বা রানিক্ষেত কি?
এর লক্ষণ গুলো কি কি? যে সকল মাধ্যমে এটা ছরাতে পারে? প্রতিরোধ এ কি কি ব্যবস্থা নিতে হবে? আক্রান্ত হলে করনীয় কি? এর চিকিৎসা?
*** পিপিএমভি বা পিজন প্যারামক্সি ভাইরাস বা রানিক্ষেত কি?
বিশ্বের সমস্ত কবুতর পালক গনই Paramyxovirus বা PMV এর নাম শুনেছেন, এই রোগ সালমোনেলা Typhimurium দ্বারা সৃষ্ট Paratyphiod ব্যাকটেরিয়া রোগ থেকে উৎপত্তি। এটি একটি ভাইরাল রোগ. পায়রার Paramyxovirus মানুষ বা প্রাণী প্রভাবিত করে না । Pigeon paramyxovirus (PPMV) পিপিএমভি বা পিজন প্যারামক্সি ভাইরাস সাধারন পারামক্সি ভাইরাস থেকে ভিন্ন একটি স্ট্রেইন যা সাধারনতঃ শুধুমাত্র কবুতরকেই আক্রমন করে। এটি Avian paramyxovirus type 1 (PPMV1) নামেউ পরিচিত।
PMV ঘনিষ্ঠভাবে Newcasle(রানিক্ষেত) অসুখ ঘটায় যা PMV1 ভাইরাস এর সাথে সম্পর্কিত। PMV1 ভাইরাস serotypes এক দ্বারা ঘটিত হয়। তবে PMV ও PMV1/ Newcasle(রানিক্ষেত) দুটো আলাদা রোগ, যদিও অনেকে PMV(Paramyxovirus) কে PMV1(NEW CASTLE) বলে ভুল করে থাকে। ১৯৭০ সালের দিকে PMV এর ভাইরাসের আবিষ্কার হয় । বর্তমানে পৃথিবীর সব জায়গায় এই রোগ এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এ রোগের ইনকিউবেশন কয়েকদিন থেকে শুরু করে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লাগতে পারে।
কখনো কখনো সংক্রমণ এবং ভাইরাস স্খলন হয় এবং ভবিষ্যৎ Lofts মধ্যে একটি বড় সমস্যা হতে পারে। এই রোগের প্রথমে কোনো ক্লিনিকাল লক্ষণ দেখায় না, তাই আপনার খামারে এই সমস্যা আছে তা আপনি জানার আগেই আপনার পুরো খামার আক্রান্ত হতে পারে।
ক্লিনিক্যাল লক্ষণ প্রাথমিকভাবে দুটি অঙ্গ সিস্টেমের সাথে সম্পর্কিত হয়।
১.কিডনি ও
২.স্নায়ুতন্ত্রের।
প্রথমত- এই ভাইরাস সবসময় কিডনির স্থানে একটি প্রদাহ ঘটায়,সেখানে জলের মত ফোঁটা ফোঁটা পরিবর্তন সাদা অংশ দেখা যায় এবং পরে এটি প্রায়ই এই নেভিগেশন জল পরে সবুজ বা বাদামী "কৃমি" আকারে স্বাভাবিক উপাদান হিসাবে দেখা দিতে পারে, আর এভাবেই পুরো খামারের কবুতরের মধ্যে সংক্রমিত হয়।
দ্বিতীয় অঙ্গ সিস্টেম স্নায়বিক সিস্টেম। দুটি প্রধান লক্ষণ একটি খোরানো বা ডানা অবনমিত, অথবা Torticollis (Twisted Necks) নার্ভ পক্ষাঘাত হয়. এই রোগ আঘাত বা স্নায়বিক লক্ষণ হিসাবে খুব প্রচলিত।
PMV1 তে মৃত্যুর হার খুব কম অন্যদিকে PMV AND PPMV হলে কবুতর বাঁচানো বলতে গেলে একেবারেই অসমম্ভব।
ভাইরাসের প্রভাবঃ
১.এটি একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ যার আবির্ভাবে দ্রুতই লফটে সব কবুতর আক্রান্ত হয়ে পড়তে দেখা যায় এবং কোন কোন লফটে ৫০% থেকে ১০০% পর্যন্ত মৃত্যু হার দেখা যায়।
২. এ রোগের ইনকিউবেশন কয়েকদিন থেকে শুরু করে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লাগতে পারে।
৩. আক্রান্ত লফটে ডিহাইড্রেশন এবং স্ট্রেস মৃত্যু হার বাড়িয়ে দেয়।
৪. ৬-১২ সপ্তাহের ভেতর স্বাভাবিক রিকভারী শুরু হয়ে যায়, তবে পূর্ন রিকভারী হতে আরো বেশী সময় লাগতে পারে।
৫. নার্ভাস লক্ষন আজীবন থেকে যেতে পারে কিংবা রিকভার করলেও স্ট্রেস কালীন সময় ফেরত আসতে পারে।
৬. রিকভারীর পরেও অনেক দিন কিংবা আজীবন কিছু কবুতরের সার্বক্ষনিক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত থেকে যেতে পারে।
বছরের বিভিন্ন সময়ে এ আক্রমন দেখা গেলেউ নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি,ফেব্রুয়ারি এই ৪মাস এই ভাইরাসের আক্রমণ ব্যাপক ভাবে লক্ষনীয়।
***Pigeon paramyxovirus (PPMV) পিপিএমভি বা পিজন প্যারামক্সি ভাইরাস বা রানিক্ষেত এর লক্ষন গুলা কি কি?
এ রোগের যে সব লক্ষন রয়েছে তা অন্য অনেক রোগকে নির্দেশ করতে পারে। একারনে প্যাথলজিকাল টেস্ট ছাড়া প্যারামক্সি ভাইরাস এর আক্রমন সনাক্ত করা খুব মুশকিল।
লক্ষণঃ
১. তরল ও সুবুজাভ আমাশামিশ্রিত মল।
২. চোখ বা মাথার কম্পন।
৩. টলটলায়মান ফ্লাইট।
৪. খাবার অথবা পানিতে ঠিক মত ঠোকর দিতে না পারা ।
৫. উল্টায়ে পড়ে যাওয়া ।
৬. ঘাড়, মাথা মোচড়ানো ।
৭. ডানা এবং/অথবা পা আংশিক প্যারালাইসিস হয়ে যাওয়া
৮. পিছনের দিকে ঊড়া ।
৯. বৃত্তের আকারে ঘুরতে থাকা ।
১০. তড়কা ।
১১. হঠাৎ ঘুম বন্ধ, মাথা সম্মুখে পড়ে যাওয়া।
১২. ওড়ার সময় অপ্রত্যাশিত ডিগবাজী, সোজা উড়তে না পারা,
১৩. প্রচুর মুত্র সম্বলিত মল (অধিকাংশ সময় সবুজ হলেও ভিন্ন রংও হহতে পারে),
১৪. বেশীরভাগ সময় প্রাথমিক পর্যায়ে পরিস্কার মুত্রের মাঝে সরু ভাঙ্গা ভাঙ্গা কঠিন মল (নুডুলসের ছোট টুকরোর মতো)
১৫. ঝিমানো: খাবারের প্রতি অনিহা, নড়াচড়ায় অনিহা।
১৬.বমি করা অথবা মাথা ঝাকিয়ে বমির চেষ্টা করা।
১৭. শ্বাস কষ্ট হওয়া বা হা করে শ্বাস নেয়া
১৮. চোখ দিয়ে পানি ঝড়া এবং/বা নাক দিয়ে পানি বের হওয়া।
***Pigeon paramyxovirus (PPMV) পিপিএমভি বা পিজন প্যারামক্সি ভাইরাস বা রানিক্ষেত যে সকল মাধ্যমে ছরাতে পারে ?
এই ভাইরাস উপযুক্ত পরিবেশে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে এবং প্রধানত পাখিদের গমনাগমনের মাধ্যমে ছড়ায়।
যে সকল মাধ্যমে ছরাতে পারেঃ
১. আক্রান্ত পাখির বিষ্ঠা।ঝড়ে পরা পালক বা যা কিছু তার দেহ নির্গত সব কিছু থেকে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে।
২. বন্য কবুতর বা পাখি থেকে।
৩. আক্রান্ত কবুতরের সাথে কবুতরের সরাসরি কন্টাক্টে ছড়ায়।
৪. আক্রান্ত কবুতরের ডিমেও ভাইরাস ছড়াতে পারে।
৫. ট্রান্সপোর্টার (খাচা, গাড়ী, বক্স) যা ঠিক মতো ডিস ইনফেক্ট করা হয় নি।
৬. কবুতর ফেন্সিয়ার এর দেহ বা কাপড়ের মাধমে
৭.খাবার এবং খাবার পানি
৮. লফটে ব্যবহৃত আসবাব পত্রের মাধ্যমে।
***Pigeon paramyxovirus (PPMV) পিপিএমভি বা পিজন প্যারামক্সি ভাইরাস বা রানিক্ষেত এর প্রতিরোধে কি কি ব্যাবস্থা গ্রহন করা যেতে পারে ?
প্রাথমিক প্রতিরোধঃ
উড়ানোর কবুতর বা যে সব কবুতর ছেড়ে পালা হয় তারাই সব থেকে বেশী আক্রান্ত হবার ঝুকিতে থাকে। কারন খোলা আকাশে বন্য কিংম্বা অন্য লফটের আক্রান্ত কবুতরের সংস্পর্শে খুব সহযেই এ রোগ ছড়াতে পারে।
প্রাথমিক অবস্থায় আপনার যা যা করনীয়ঃ
১.আক্রান্ত কবুতর দুরে সরিয়ে ফেলুন।
২.পরিস্কার খাবার ও পানি সরবরাহ করুন।
৩.খাবার ও পানির পাত্র নিয়মিত পরিস্কার করুন।
৪.লফট নিয়মিতভাবে পরিস্কার করুন।
৫.লফট এর ব্যবহার সামগ্রী নিয়মিত পরিস্কার করুন।
৬.বহিরাগত ব্যক্তি দের লফটে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করুন।
৭. লফটে ব্যবহার এর জন্য আলাদা সেন্ডেল, হাত গল্ফ,ও ক্লিনার ব্যবহার করুন।
৮. লফটে নিয়মিত ভাইরাস প্রতিরোধক স্প্রে ব্যবহার করুন।
৯. নিয়মিত ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ক্যালসিয়াম এবং মাল্টি ভিটামিন দিন। (আক্রাত্ত কবুতর কে কোন ভিটামিন দেয়া যাবে না ভিটামিন বি ছাড়া)।
১০. Aloe Vera (গ্রিতকুমারি)নিওমিত প্রদান করা।
১২. সপ্তাহে এক দিন রসুনপানি,লেবু ও চিনির,লবন এর মিশ্রন,তুলসিপাতা খেতে দিন।
১৩.মাঝে মাঝে কালোজিরা,জাউন,মেথি খাওয়ান।
১৪. সপ্তাহে একদিন দারুচিনি গুরা খাবারের সাথে পরিবেশন করুন।
দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধে এর জন্য আপনার করনীয়ঃ
১. দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধের জন্য প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে লফটের সকল কবুতরকে Pigeon PMV ভ্যাক্সিন দেয়া। আমাদের দেশে শুধুমাত্র ঢাকার রেসিং ক্লাবগুলতে এই ভ্যাক্সিন পাওয়া যায় যার নাম “চেভিভেক”। সাধারনত ৪/৫ সপ্তাহের বেবীকে প্রথম ডোজ দেবার পর ৪ সপ্তাহ বিরতী দিয়ে আবার বুস্টার ডোজ দেয়া হয়। ভ্যাক্সিন একবছর ক্রিয়াশীল থাকে। পরবর্তীতে এডাল্ট কবুতরকে বছরে ১ বার ভ্যাক্সিন করানো হয়।
যদিও পিজন প্যারামক্সি ভাইরাস পোল্ট্রির ND থেকে ভীন্ন একটি স্ট্রেইন, তারপরো অনেক ভেট বিশেষজ্ঞ Pigeon PMV ভ্যাক্সিন পাওয়া না গেলে বা ব্যবস্থা করা না গেলে ND ভ্যাক্সিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এ ব্যাপারে আপনার বিস্বস্ত ভেট ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে নিন।
২. ভ্যাক্সিনেশন কোন ভাবেই বায়ো সিকিউরিটির পরিবর্তক নয়। বরং ভ্যাক্সিনেশনের পাশাপাশি উন্নত বায়োসিকিউরিটি মেইন্টেন করাই পরস্পরের পরিপুরক। তাই ভেট ডাক্তার বা অভিজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করে আপনার লফটের জন্য একটি উন্নত বায়োসিকিউরিটি পদ্ধতি অবলম্বন করুন।
***Pigeon paramyxovirus (PPMV) পিপিএমভি বা পিজন প্যারামক্সি ভাইরাস বা রানিক্ষেত দ্বারা আক্রান্ত হলে যা যা করনীয়?
অসুস্থ কবুতর এর জন্য নাসিংঃ
১. আক্রান্ত কবুতরকে আলাদা খাচায় উষ্ণ পরিবেশে রাখতে হবে। খাচার পাটাতনে নরম কাপড় বা টাওয়েল বিছিয়ে দেয়া দরকার। গভির বাটিতে খাবার দেয়া হলে খাবার খেতে কিছুটা সুবিধা হবে, বিশেষ করে যে সব কবুতর ঠোকর দিতে সমস্যা হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে হ্যান্ড ফীদিং জরুরী হবে। হ্যান্ড ফীডিং এর জন্য নরম খাবার উপকারী হবে। পর্যাপ্ত খাবার এবং পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। হ্যান্ড ফিডিং এর ক্ষেত্রে সব সময় উষ্ণ খাবার দিতে হবে।
২. আক্রান্ত কবুতরের কক্সিডিওসিস, ট্রাইকোমোনিয়াসিস, এস্পারজিলোসিস ইত্যাদি রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই স্ট্রেস, শ্যাতশ্যাতে পরিবেশ থেকে দূরে রাখতে হবে। এবং এসব রোগের লক্ষন দেখা মাত্র দ্রুত চিকিৎসা দেয়া দরকার।
৩. সাধারনত ৬ সপ্তাহে রোগ তার চক্র পূর্ন করে এবং এ সময় পরে আক্রান্ত কবুতর আর রোগ ছড়ায় না এবং অন্য কোন কবুতরকে আক্রান্ত করবে না তবে নার্ভাস লক্ষন এবং গ্যাস্ট্রো-ইন্টেস্টিনাল সমস্যা আরো লম্ব সময় পর্যন্ত থেকে যেতে পারে।
৪. ইমিউন সিস্টেম বাড়াবার জন্য মাল্টিভিটামিন দেয়া যেতে পারে
৫. ডিহাইড্রেশন রোধে ইলেক্ট্রোলাইট স্যালাইন দেয়া জরুরী
৬. খারাপ গাট ব্যক্টেরিয়া দূর করার জন্য প্রোবাইওটিক এর বব্যবহার কিছু উপকার দদিতে পারে।
বিঃদ্রঃ
অভিজ্ঞ ভেট ডাক্তার এর পরামর্শ ছাড়া যে কোন এন্টিবাইওটিক ব্যবহার না করাই ভালো হবে। কারন এন্টিবাইওটিক রোগের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
আবশ্যিক বিষয়ঃ
১. যেহেতু এটা সংক্রামক রোগ তাই আক্রান্তকে আলাদা রাখা দরকার।
২. প্রতিদিন লফট এবং খাবার পাত্র, পানির বাটি ইত্যাদি ডিসিনফেক্ট করা দরকার।
৩. সুস্থ কবুতরের দেখাশুনার পর অসুস্থ কবুতরের পরিচর্যা করা উচিত। এতে ভাইরাস বহন কম হবার সম্ভাবনা আছে।
৪. অসুস্থ কবুতর পরিচর্যার পর হাত মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলা দরকার। অসুস্থ কবুতর ধরার পর হাত না ধুয়ে আপন চোখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। এই ভাইরাস সাধারনতঃ মানুষের মাঝে সংক্রমিত হয় না তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিচর্যা কারী মৃদু জ্বর এবং চোখে অস্বস্থি অনুভব করতে পারেন।
৫. অসুস্থ কবুতরের দেহ নির্গত কোন কিছু যাতে না ছড়াতে পারে তার ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনে মাটি চাপা দেয়া।
৬. কোন কবুতর মারা গেলে সেটি মাটি চাপা দেয়া।
***Pigeon paramyxovirus (PPMV) পিপিএমভি বা পিজন প্যারামক্সি ভাইরাস বা রানিক্ষেত এর চিকিৎসা কি?
বছরের পর বছর পরীক্ষায় দেখা গেছে কোন ভাইরাস এর ওপর কোন এন্টিবাইওটিকই কাজ করে না। পিজন প্যারামক্সি ভাইরাসও এর ব্যতিক্রম নয়। অর্থাৎ এ রোগে আক্রান্ত কবুতরের কার্যতঃ কোন চিকিৎসা নেই।
আক্রান্ত কবুতরকে চিকিৎসা করার থেকে নার্সিং এবং সাপোর্টিভ কেয়ার এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সেকেন্ডারী ইনফেকশন এর চিকিৎসা জরুরী। এসময় অপ্রয়োজনী এন্টিবাইওটিক এর ব্যবহার কবুতরকে আরো দুর্বল করে দেয়। তাই সাপোর্টিভ চিকিৎসার জন্য ভেট ডাক্তার,যারা পিজন প্যারামক্সি ভাইরাস হ্যান্ডেলে দক্ষ তাদের পরামর্শ নেয়া জরুরী।
মনে রাখতে হবে যে কবুতরটি পিজন প্যারামক্সি ভাইরাসাক্রান্তের লক্ষন প্রকাশ করছে না অথচ নিয়মিত ভাইরাস ছড়াচ্ছে সেটা অন্য সব কবুতরের জন্য সবথেকে বেশী বিপদজনক। যতদিনে সে লক্ষন প্রকাশ করা শুরু করবে ততদিনে লফটে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই খুব ভালো করে প্রতিদিন আপনার কবুতরগুলোকে নিরীক্ষা করুন ভয়াবহ বিপর্যয় এড়াতে।.
২। সাল্মোনেল্লোসিসঃ
আমরা ছোট বড় সকল কবুতর পালোক ভাই এই বিষয় টা নিয়ে অনেক টাই ভীত। এমন কোন কবুতর পালক নেই যাকে কম বেশি সাল্মোনেল্লোসিস এর মোকাবেলা করতে হয় নি।আজ আপনাদের সম্মুখে এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করতে চেষ্টা করবো,কোথাও কোন ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো। আজকের আলোচনাকে আমি তিনটি প্রশ্নে ভাগ করেছি।আসা করি এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর পেলে সমস্ত কবুতর পালোক ভাইদের অনেক উপকারে আসবে।
চলুন তাহলে আলোচনায় যাওয়া যাক।
প্রশ্ন গুলে হলোঃ
১. সাল্মোনেল্লোসিস কি?
২. সাল্মোনেল্লোসিস এর লক্ষন গুলো কি কি?
৩. সাল্মোনেল্লোসিস এর প্রতিরোধে কি কি ব্যবস্থা গ্রহন করা যেতে পারে?
***১. সাল্মোনেল্লোসিস কি?
Ans: সাল্মোনেল্লোসিস হলো ইনফেকশাস ব্যাক্টেরিয়া টাইপের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি লক্ষণীয় সংক্রমণ। সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ ডায়রিয়া, জ্বর, এবং বমি। কবুতরের সবথেকে মারাত্মক রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান রোগ হচ্ছে এই সাল্মোনেলাসিস। ইনফেকশাস ব্যাক্টেরিয়াল রোগগুলোর মধ্যে এ রোগে মৃত্যুর হার সব থেকে বেশী। দ্রুত এর চিকিৎসা না করালে ৪/৫ দিনের মধ্যে কবুতর মারা যেতে পারে।
যে সকল মাধ্যমে সাল্মোনেলা ছড়াতে পারে:
১. জীবানু সম্বলিত ধুলিকনা মিশ্রিত শ্বাস গ্রহন এর দ্বারা।
২. পোকামাকড়, মাছি, ইদুর ইত্যাদি দ্বারা দুষিত খাদ্য গ্রহনের মাধ্যমে।
৩. অপরিষ্কার খাবার পাত্র এবং পানির পাত্র থেকে।
৪. মেটিং বা রতীক্রিয়া থেকে।
৫. আক্রান্ত পিতা মাতা থেকে ডিমে সংক্রমন এর মাধ্যমে।
৬. ছোট বেবীকে ক্রপ মিল্ক খাওয়ানোর মাধ্যমে এবং বিলিং এর মাধ্যমে।
৭. বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে বাবা-মা দুজনে অথবা কোন একজন "ক্যারিয়ার" বা জীবানূর "বাহক" হিসেবে কাজ করে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে ইকোলাই, সাল্মোনেলাসিস কিংবা মাইকোপ্লাজমোসিস রোগের জীবানূ বহনকরী বাবা-মা থেকে ডিম এবং ভ্রুন আক্রান্ত হয়। সাল্মোনেলাসিস বাহক প্যারেন্টস এর বেবী অল্প বয়সেও মারা যেতে পারে।
৮. সাল্মোনেল্লা আক্রান্ত কবুতর এর বিষ্টা বা নিশ্বাস এর মাধ্যমে।
****২. সাল্মোনেল্লোসিস এর লক্ষন গুলো কি কি?
Ans:
১.আন্ত্রিক প্রদাহের সাথে নরম, মিউকাস (আমাশয়) সমৃদ্ধ সবুজ ড্রপিংস।
২.লিভার, কিডনী আক্রান্ত হবার পর স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিহীনতা, দুর্বিলতা/ক্লান্তি।
৩.সাল্মোনেলা আক্রান্ত ভ্রুন সাধারনত ডিমের খোশার ভেতরেই মৃত্যু বরন করে কিংবা বেবী জন্ম নেবার প্রথম কয়েকদিনের ভেতরে মারা যায়।
৪.ইনফ্লামেশনের কারনে হাড়ের জয়েন্ট ফূলে ওঠে বিশেষকরে ডানা বা পা এর প্যারালাইসস ও ভারসাম্যহীনতা এবং গলা বাকানো(টাল)।
৫. তীব্র দুর্গন্ধময় আমাশয় যুক্ত ড্রপিংস।
৬. ডাইরিয়া দেখা দেয় এবং মলদ্বারের আশে পাশের পালকে বিষ্টা লেগে থাকে।
৭. কবুতর ঝীমায়।
৮. স্বাস কষ্ট হয়।
৯. গারো সবুজ পায়খানা করে ।
১০. বমি করে।
১১. খাবার কম খায় , পানি বেশী খায়।
১২.অনেক সময় এক চোখ গাড় হলুদ বরন হয়ে অন্ধ হয়ে যায়।
***৩. সাল্মোনেল্লোসিস এর প্রতিরোধে কি কি ব্যবস্থা গ্রহন করা যেতে পারে?
Ans:
প্রতিরোধঃ
সাল্মোনেল্লোসিস প্রতিরোধ ও প্রতিকারক হিসাবে লেবু,চিনি ও লবনের মিশ্রণ। এটাই সর্বত্তম ব্যবহার।
ক. পানিঃ ১ লিটার।
খ.লেবুর রস, মাঝারি সাইজ এর অর্ধেক।
গ. চিনি: ৫ চা চামচ।
ঘ. লবন: ৫ চিমটি।
#লেবু,#চিনি,#লবন এর ব্যবহার-
ভালোভাবে মিক্স করে কবুতরকে প্রতি সপ্তাহে ১ দিন করে খাওয়ান।
পাশাপাশি ১ চামচ রসুনের রস ১লিটার পানির সাথে মিশিয়ে কবুতরকে খেতে দিবেন
সপ্তাহে এক দিন।
দারুচিনি গুড়া করে ১টেবিল চামচ সাথে ( ছোট ১টা লেবুর হাফ করে অথবা ১ চামচ অ্যাপলসিডার ভিনেগার) ১ কেজি কবুতরের খাবারের সাথে মিক্স করে দিবেন সপ্তাহে ১\২ দিন ।
বিস্তারিত #দারুচিনি -
অথবাঃ
২ টেবিল চামচ শাফি + ২ টেবিল চামচ ফেবনিল + ১ টেবিল চামচ মারবেলাস ১ লিটার পানিতে মিক্স করে ৪-৫ দিন সাধারণ খাবার পানি হিসাবে পরিবেশন করতে হবে।
অথবাঃ
হেমিকো পিএইচ ২ মিলি ১ লিটার পানিতে মাসে ৪/৫ দিন।
আক্রান্ত হলে ২.৫ মিলি ১ লিটার পানিতে।
অথবাঃ
হোমিও ব্যাপ্তেসিয়া ৩০, ১ সিসি =১ লিটার পানিতে মিক্স করেও ৫ দিন।
অথবাঃ
অপরিশোধিত অ্যাপল সিডার ভিনেগার(ACV) ৫ মিলি এক লিটার পানিতে সপ্তাহে ১ দিন।
(বিঃদ্রঃ এই কোর্স চলাকালীন কবুতর সবুজ পায়খানা করতে পারে, এতে ভয়পাবার কিছু নেই। দীর্ঘ মেয়াদে কবুতরকে সাল্মোনেল্লা মুক্ত রাখতে ভেক্সিন এর কোনো বিকল্প নেই।
সাল্মোনেল্লা এর চিকিৎসাঃ
১.অসুস্থ কবুতর কে দ্রুত সুস্থ কবুতর থেকে আলাদা করুন।
২.অসুস্থ কবুতরের বিষ্টা,পানির পাত্র জীবাণুমুক্ত করুন।
৩.রাইচস্যালাইন খাওয়ান।
সর্বপরি সঠিক চিকিৎসার জন্য অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি ডাক্তার এর পরামর্শ নিন।
৩। কৃমিঃ
কৃমি এর খুব পরিচিত একটা নাম।এটি বিভিন্নভাবে আমাদের কবুতরের ক্ষতি করে থাকে।এটি কবুতরের অভ্যন্তরীন একটি রোগ। কবুতর এর শরীরের সাধারণত দুই ধরনের কৃমি বসবাস করে।
১. Round worms
২. Thread worms
Roundworm বা গোলকৃমি মুলত কবুতর এর অন্ত্রের প্রাচিরের মদ্ধে বসবাস করে। এবং কবুতরের শরীর থেকে খাদ্য গ্রহন করে।ডিম পারার সময় হলে এরা অন্ত্রের উপরের অংশের প্রোভেন্টিকুলাসের কাছা কাছি জরো হয় এবং সংক্রমণ ঘটায়।ভারী সংক্রমণ এর সময় এরা সমগ্র অন্ত্রের ট্র্যাক বরাবর ছরিয়ে পরে তখন সেগুলো ডিম কবুতর এর পায়খানার সাথে বাইরে আসে এবং অন্য কবুতরের শরীরের প্রবেশ করে।এটি কবুতর এর শরীরের খুব কম সময় অবস্থান করে তবে এদের ডিম স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে আনেক দিন বাঁচতে পরে।এবং খুব দ্রুত অন্যদের মাঝে ছরিয়ে পরে এবং সংক্রমণ এর পুনরাবৃত্তি ঘটায়। এরা আকারে ১.১/২" থেকে ২" পর্যন্ত বড় হতে পারে।
অপর দিকে Threadworms কৃমি গুলো আকারে অনেক ছোট হয়। এরা সাধারণত ১/৪" পর্যন্তুু লম্বা হতে পারে।দেখতে ছোট আর পাতলা হলেউ এরা কবুতর এর অন্ত্রে খুব কঠিন ভাবে অবস্থান করে।এই কৃমি গুলো কবুতরের অন্ত্রের সম্মুখ প্রাচিরে অবস্থান করে এবং কবুতর এর টিস্যুকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতি করে।এবং এর প্রভাবে কবুতরের ডায়রিয়া হয় এবং ওজন হ্রাস হয়।এরা সাধারণত শীতল ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে জন্মগ্রহন করে এবং পুনরাবৃত্তি ঘটায়।
কবুতর কৃমিতে আক্রান্ত হবার কারনঃ
১. লফ্ট এর স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ।
২. পর্যাপ্ত আলোবাতাস এর ব্যাবস্থা না থাকা।
৩. অপরিস্কার খাবার ও পানি।
৪. অপরিচ্ছন্ন লফ্ট ও চারিপাশ।
যেভাবে ছরায়ঃ
১. পানির মাধ্যমে।
২. খাবারের মাধ্যমে।
৩.আক্রান্ত বাবা মায়ের মাধ্যমে।
৪. অপরিস্কার পরিবেশের কারনে।
কৃমি আক্রান্ত কবুতরের লক্ষনঃ
১. ডায়রিয়া হওয়া।
২. দিনে দিনে শুকিয়ে যাওয়া।
৩. খাদ্য হজমে সমস্যা হওয়া।
৪. কবুতর ঝিম ধরে বসে থাকা।
৫. গায়ের পালক ফোলানো।
৬. বমি করা।
৭. ডিম এর উৎপাদন কমে যাওয়া।
৮. পাখা ঝুল যাওয়া।
৯. খাবার কম খাওয়া।
১০. বিষ্টার সাথে কৃমির টুকরা দেখা যাওয়া
১১. ফিতা কৃমির আক্রমন হলে শ্বাস কষ্ট হতে পারে।
প্রতিরোধে করনীয় কাজ গুলোঃ
১. লফ্ট পরিস্কার রাখা।
২. পরিস্কার পানি ও খাবার পরিবেশন।
৩. লফ্ট এর চারিপাশ পরিস্কার রাখা।
৪. লফ্ট এর স্যাঁতস্যাঁতে ভাব দুর করা।
৫. আক্রান্ত কবুতর কে সঠিক সময়ে চিকিৎসা করা।
৬. নিয়মিত কৃমি কোর্স করানো।
চিকিৎসা ও নিয়মিত কোর্সঃ
দুইভাবে এটা করা যেতে পারে এক ঔষুধ এর মাধ্যমে। দুই ন্যাচারাল উপাদান এর মাধ্যমে।
ঔষুধঃ- কৃমিনাশক।
প্রাকৃতিক উপাদানঃ নিমপাতা।
৪। ইকোলিঃ
ই- কোলি কবুতরের অন্ত্রের মধ্যে বসবাসকারী সাধারণ ব্যাকটেরিয়া জীব।এটা কবুতরের শরীরে এবং অন্ত্রের সিস্টেমে চিরস্থায়ী বসবাস করতে পারে। তবে এরা মাঝে মাঝে কবুতরের শরীরে মারাত্মক ভাবে প্রভাব বিস্তার করে যা কবুতরের জন্য অনেক বড় ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়ায়।ড্রপিং পরিক্ষার মাধ্যমে এটা সনাক্ত করা সম্ভাব তবে সাধারণ ড্রপিং এউ ই- কোলি এর নমুনা পাওয়া যেতে পারে কিন্তুু এর অতিরিক্ত উপস্থিতি কবুতর এর জন্য বড় সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।E-Coli কবুতর এর অনান্য রোগ কেউ প্রভাবিত করতে পারে এবং গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া হবার কারনে সংক্রমণ যুক্ত ধুলাবালি এর মাধ্যমে এরা খুব দ্রুত লফ্টয়ে ছরিয়ে পরতে পারে।
এ ব্যাকটেরিয়া কবুতর এর শরীরের যে কোন অংশে আবস্থান করে সংক্রমণ ঘটাতে পারে এবং সংক্রমণ এর লক্ষণে ভিন্নতা থাকবে।এরা মুলত প্যারাটাইফয়েড এর মত কবুতরের শরীরের জয়েন্ট গুলোকে নিস্তেজ করে দেয় এবং জয়েন্ট গুলো ফুলে যায় ফলে কবুতর নিস্তেজ হয়ে পরে এবং চলাফেরা কম করে। ই- কোলি এর ফলে নর কবুতর ব্যাপক ভাবে ক্রেজি হয়ে পরে তখন মাদি কবুতরের ডিম্বাশয়য়ে সংক্রমণ ঘটাতে পারে এবং ভ্রন মেরে ফেলতে পারে বা বাচ্চা কবুতর গুরুতর ভাবে ই- কোলিতে আক্রান্ত হতে পারে। এতে আক্রান্ত কবুতরের ডায়রিয়া হওয়াটা স্বাভাবিক। ই- কোলির সবথেকে বড় বিপদ হলো ডিমে সংক্রমণ।এতে আক্রান্ত বাচ্চা কবুতর হঠাৎ করেই কোন লক্ষণ ছারা মারা যেতে পারে।
ই-কোলি সংক্রমণ এর লক্ষণঃ
১. ক্ষুদামন্দা।
২. পালোক ফুলিয়ে বসে থাকা।
৩. দূর্গন্ধ যুক্ত পাতলা পায়খানা করা।
৪. ডিমের মদ্ধে ভ্রুণ মারা যাওয়া।
৫. প্রচুর পরিমাণ পানি পান করা।
৬. বমি করা।
৭. কবুতর এর শরীরের জয়েন্ট ফুলে যাওয়া।
৮. শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।
৯. বাচ্চা কবুতর হটাৎ করে মারা যাওয়া।
১০. কবুতর চঞ্চলতা হারাবে।
১১. কবুতর এর চেহারায় সবুজ বা হলুদ বর্ণ হয়ে যাবে এবং সাভাবিক সৌন্দর্য্য হারাবে।
রোগ সনাক্তকরণঃ
প্রাথমিক লক্ষণ এর পাশাপাশি ড্রপিং,বমি টেষ্ট করা।
যে সকল মাধ্যমে ছরায়ঃ
১. আক্রান্ত কবুতর এর মাধ্যমে।
২. সংক্রমিত ধুলাবালি এর মাধ্যমে।
৩. বন্য প্রানীর অবাদ চলাচলের মাধ্যমে।
৪. ভিটামিনের অভাবে বিশেষ করে ভিটামিন - A এর অভাবে।
৫. লফ্টএর অপরিচ্ছন্নতার কারনে।
প্রতিরোধে করনীয়ঃ
১. লফ্ট এ জৈব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
২. প্রো - বায়োটিক এর দীর্ঘ মেয়াদি ব্যবহার।
চিকিৎসাঃ
রোগ সনাক্ত হলে অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি ডাক্তার এর পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা প্রদান করুন।
ন্যাচারাল চিকিৎসাঃ ওরেগানো পাতার ব্যবহার।
১ কেজি খাবার বা গ্রিড সাথে ২ টেবিল চামচ।
৫। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণঃ
কবুতরের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ কবুতর এর সাধারণ সাধারণ রোগ গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক একটি রোগ।মুলত এটা একটা ব্যাকটেরিয়া শ্রেণীবদ্ধ রোগ যা Mycoplasmosis এবং Ornithosis এই রোগের জন্য দ্বায়ি। এ রোগে প্রায়শই খামারিদের মোকাবেলা করতে হয়। সাধারণত বযস্ক কবুতর এর থেকে বাচ্চা বয়সের কবুতরের এ রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ অত্যান্ত ভয়াবহ এতে কবুতরের শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি সহ কবুতর এর শারীরিক ক্ষমতা কে বিকলাঙ্গ করে দেয়।এই রোগে আক্রান্ত হলে কবুতর হা করে শ্বাস নিতে চেষ্টা করে এবং চোখ বন্ধ করে ফুসে ওঠে, খাওয়া ছেরে দেয় এবং শেষ পযন্তুু মৃত্যুর কলে ঢলে পরে।অনেক কিছুই শ্বাস যন্ত্রের সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে যেমনঃ ফুসফুস, ভাইরাস,ব্যাকটেরিয়া,মাইট,ইত্যদি এই রোগ সৃষ্টিতে দায়ী। সংক্রমণ এর করনে ফুসফুস, বায়ুথলী, সাইনাস,এবং অনান্য আংশ আক্রান্ত হতে পারে।এবং আক্রান্ত কবুতর দ্রুত মারা যেতে পারে।
শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এর লক্ষণ সমূহঃ
১. মুখে বা নাকের ভেতর সাদা লালা থাকবে।
২. চোখে সাদা ময়লা আসতে পারে।
৩. শব্দ করে শ্বাস নিবে।
৪. শ্বাসকষ্ট থাকবে।
৫. কাশি থাকতে পারে বা গর গর করে শব্দ করবে।
৬. চোখের চারিপাশ ফুলে যেতে পারে।
৭. অতিরিক্ত সংক্রমণে পক্ষাঘাত হতে পারে।
সাথে ডায়রিয়া দেখাদিতে পারে।
৮. মাথায় কম্পমান হতে পারে।
৯. আক্রান্ত কবুতর চোখ বন্ধ করে ফুফে উটবে।
১০. খাওয়াদাওয়া ছেরে দিবে।
প্রতিরোধে করনীয়ঃ
১. খামারে দুষিত ধুলাবালি প্রবেশ বন্ধ করতে হবে।
২. পর্যাপ্ত আলোবাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
৩. বহিরাগত পাখি বা কবুতর এর চলাচল বন্ধ করতে হবে।৭০% বন্য কবুতর এই জিবানু বহন করে।
৪. পরিস্কার খাবার ও পানির ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. বাসি খাবার পরিহার করতে হবে।
৬. সর্বপরি খামারে জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
চিকিৎসাঃ
আক্রান্ত কবুতর কে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি ডাক্তার এর পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।
৬। Avian Influenza;
কবুতরের এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা মুলত ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট। একে বার্ড ফ্লু ও বলা হয়ে থাকে। তবে এই ভাইরাস কবুতরের মাঝে সংক্রমণ ঘটায় কিনা এটা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা কবুতর এর জন্য কতটা ক্ষতিকর তা নিচের আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরতে চেষ্টা করবো।
Avian Influenza মুলত ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি রোগ। ঐতিহাসিক ভাবে এটা ফাউল প্লাগ নামে পরিচিত। এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা মুলত তিন টাইপের হয়ে থাকে, টাইপ - এ, টাইপ -বি, এবং টাইপ -সি। এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এর বেশিরভাগ ফর্মই মানুষের সাথে সম্পর্ক যুক্ত তবে (টাইপ - এ) ভাইরাসটি শুধুমাত্র ঘোরা,এবং মাঝে মাঝে পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রানির মধ্যে পাওয়ায়। টাইপ - বি শুধুমাত্র মানব শরীরে পাওয়া যায়।
এই ভাইরাসের মুলত দুইটি মাত্রায় সংক্রমণ ঘটায়।
১. Highly Pathogenic Avian Influenza
২. Low Pathogenic Avian Influenza
Highly Pathogenic Avian Influenza - সব থেকে ভয়ংকর রুপ নেয় এবং খুব দ্রুত সংক্রমণ ঘটায়।এক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ১০০% পর্যন্তুু হতে পারে।এক গ্রাম সংক্রামিত ড্রপিং ১,০০,০০০ পাখি নতুন করে সংক্রমিত হতে পারে।
Low Pathogenic Avian Influenza- এই ভাইরাস টির প্রভাব তেমন একটা নয় এর সংক্রমণ ঘটানের ক্ষমতা খুব কম। মৃতের হার ১০% পর্যন্তুু হতে পারে।
এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা UK তে এটি একটি উল্লেখ যোগ্য রোগ এবং প্রানী স্বাস্থ্য আইন ১৯৮১ এর ধারা ৮৮ তে তালিকা ভুক্ত।
এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা পাখির চোখ,শ্বাসপ্রশ্বাস, ড্রপিং এর মাধ্যমে স্রতের গতিতে ছরিয়ে পরে।এবং কিছু কিছু ট্রেন্ড মানুষ ও অনান্য প্রানির মাঝেউ ছরিয়ে পরতে পারে।
এভিয়ান ভাইরাসটি কবুতর ও অনান্য পাখি থেকে আলাদা করার প্রচেষ্টায় ৪১৩২ টি পাখির থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল যার মদ্যে ৪৭৩ টি কবুতর ছিল।তবে ৪৭৩ টি কবুতরের মদ্যে ৩৮৩ টি কবুতরের রক্তের নমুনা এন্টিবডির জন্য নেতিবাচক ছিলো।এন্টিবডি গুলি এমন সংক্রমণ পদার্থ যা সংক্রমণের শরীরের রক্ষাকারী নেটওয়ার্কের দ্বারা উৎপাদিত হয়।১৯৯৬ সালে প্রকাশিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে গবেষণার দেখা গেছে কবুতরের এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ছোঁয়াচে নয় এবং কবুতরের সংক্রমণ ছরানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
সংক্রমণ এর লক্ষণঃ
যেহেতু কবুতর এর সংক্রমণ এর সম্ভাবনা নেই বল্লেই চলে সেহেতু এর তেমন কোন লক্ষণ চিহ্নিত করা সম্বাবপর হয়নি।
সবুজ পাতলা পায়খানা,ঝিমানো,ক্ষুদামন্দা, হটাৎ করে মারা যাওয়া এসব সাধারন লক্ষণ হিসেবে ধরাহয়। প্যাথলজিক্যাল পরিক্ষা ছারা এ রোগ নির্ণয় সম্ভব নয়।
প্রতিরোধে ও চিকিৎসার করনিয়ঃ
যদিও এ রোগে কবুতর সংক্রমিত হবার সম্ভাবনা নেই বল্লেই চলে তথাপিও আমাদের কিছু বারতি সতর্কতা প্রয়োজন।
১.লফ্টএ বহিরাগত পাখির চলাচল বন্ধ করা।
২. সঠিক পরিমানে ভিটামিন, মিনারেল, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি প্রয়োগ করা যাতে করে কবুতরের শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা অক্ষুন্ন থাকে।
৩. কবুতর অসুস্থ হলে অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ নেয়া।
৭। Coccidiosis;
occidiosis -বা রক্তমাশয় কবুতর এর একটি অভ্যন্তরীন রোগ যা কেসিসিডিয়ান প্রোটোজোয়া নামক এককোষী প্রানীর কারনে হয়ে থাকে এবং কবুতরের অন্ত্রকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।এটি সাধারনত রেসিং মৌসুমে বা উষ্ণ আদ্র মৌসুমে কবুতর কে বেশি আক্রমন করে থাকে।
সাধারণত কবুতরকে এ রোগে প্রভাবিত করার জন্য কোকসিডিয়া ইমিরেয়া কলম্বামাম এবং ইমিরিয়া ল্যাবেবিয়ানা দুই ধরনের কোকসেডিয়া কাজ করে।এর প্রধান লক্ষণ গুলোর মধ্যে পায়খানার সাথে রক্ত অন্যতম। এ রোগ সাধারণত কম বয়সি কবুতরকে বেশি আক্রমন করে এবং মৃত্যু ঘটায়।
Coccidiosis সংক্রমণ এর সবথেকে বড় মাধ্যম হলো, সংক্রামিত কবুতর এর সরঞ্জামাদি, দুষিত পানি,নতুন কবুতর,অনান্য কীটপতঙ্গ এমন কি মানুষের মাধ্যমে ছরাতে পারে।আক্রান্ত কবুতর এর সাধারন লক্ষণ ৪/৮ দিন এর মধ্যে প্রকাশিত হয়।এ রোগের সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষণ নেই তবে সাধারণ কিছু লক্ষণ বিদ্যামান।
রোগের সাধারণ লক্ষণঃ
১. খাওয়াদাওয়া ছেরে দিবে বা কমে যাবে।
২. পালক উস্কখুস্ক হয়ে যাবে এবং ছেরে দিবে।
৩. পাতলা পায়খানার সাথে রক্তের উপস্থিতি থাকবে।
৪. প্যারালাইস্ড হয়ে যেতে পারে।
৫. হা করে নিশ্বাস নিবে।
৬. কবুতর উরবার ক্ষমতা হারাবে বা কমে যাবে।
৭. মলদ্বার ফুলে যেতে পারে এবং মল লেগে থাকবে।
যে ভাবে রোগ নির্ণয় করবেনঃ
সাধারণ লক্ষণ প্রকাশিত হবার সাথে সাথে ফিজিক্যাল পরিক্ষা জরুরী।
প্রতিরোধে করনিয়ঃ
১. লফ্ট বা খামার পরিস্কার রাখা।
২. খাবার ও পানির পাত্র নিয়মিতভাবে পরিস্কার করা।
৩. নিয়মিত জীবাণু নাশক স্প্রে করা।
৪. কবুতর এর পায়ে যাতে পায়খানা লেগে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা।
৫. নতুনদের সাথে মেলামেশায় সর্তকতা অবলম্বন করা।
৬. নিয়মিত এ্যান্টি কোকসিডিয়াল এর ব্যবহার করা বিশেষ করে ব্রিডিং এর পূর্বে।
চিকিৎসাঃ
লক্ষণ প্রকাশিত হবার সাথে সাথে অভিঙ্গ কারো পরামর্শ নেয়া বা ভেটেরিনারি ডাক্তার এর পরামর্শ নেয়া।
৮।সর্দিজনিত রোগঃ
কবুতর বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হতে পারে, কবুতরের রোগ গুলোর মদ্ধে Infectious catarrh একটি যাকে আমরা শ্লেষ্মাজনিত বা সর্দিজনিত রোগ বলে থাকি। শ্লেষ্মাজনিত বা সর্দিজনিত রোগ মুলত শ্বাসতন্ত্রের একটি রোগ যা মাইকোপ্লাজমা, ভাইরাস,ছত্রাক, ত্রিকোযোমাডস এর সংমিশ্রণে কবুতরের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ঘটায়।এ রোগ এর কারনে কবুতরের রোগ প্রতিরোধ ব্যকটেরিয়া সংক্রামিত হয় এবং লফ্টের মধ্যে ছরায়।
এ রোগ এর লক্ষণ ও উপসর্গঃ
প্রথমিক পর্যায়ে যে সকল লক্ষণ দেখা দিবেঃ-
১. ড্রপিংএ পানির পরিমান বেশি থাকবে।
২.মুখ হা করে শ্বাস নিবে।
৩.ঝিম ধরে বসে থাকবে।
তীব্র পর্যায়ে যে সকল লক্ষণ দেখা দিবেঃ-
প্রাথমিক লক্ষণ গুলোর সাথে এগুলো থাকবে
১. ড্রপিংয়ের রং সাদা এবং হলুদ বাদামি হবে।
২. অতিরিক্ত পানি পান করবে।
৩.খাওয়া কমে যাবে।
৪. উরতে অনীহা প্রকাশ করবে।
৫. ঠোঁটের কনায় ও নাকের ছিদ্রের রং ধুসর বাদামী হয়ে যাবে।
৬. মুখের ভেতর লালা থাকতে পারে।
উন্নত বা চুরান্ত পর্যায়ে যে সকল লক্ষণ দেখা দিবেঃ-
তীব্র পর্যায়ের লক্ষণ গুলোর সাথে এগুলো থাকবে।
১. প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হবে।
২. শ্বাসতন্ত্রের আওয়াজ বাসির মত শোনাবে।
৩. গর গর করে শব্দ করবে যা দূরথেকেও শোনা যাবে।
৪. খাওয়াদাওয়া ছেরে দিবে।
৫. নাক দিয়ে বা মুখ দিয়ে লালা পরতে পারে।
সংক্রামিত কবুতরের জন্য করনীয়ঃ
১. কবুতরকে গোসল করানো যাবে না।
২. ক্যালসিয়াম বা এই জাতীয় ঔষুধ প্রয়োগ করা যাবে না।
৩. অসুস্থ কবুতরকে আলাদা করে চিকিৎসা করতে হবে এবং উক্ত কবুতরের ব্যবহার্য সকল কিছু জীবাণু নাশক দ্বারা পরিস্কার করতে হবে।
প্রতিরোধে করনীয় বিষয়ঃ
১. খামারে পযাপ্ত আলো বাতাস চলাচলের ব্যবস্হা করতে হবে।
২. খামারে যাতে গ্যাস জমতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৩. খামারের জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. সপ্তাহে কমপক্ষে ১দিন তুলসীপাতা ও আদার দ্রবণ খাওয়ানো।
চিকিৎসাঃ-
প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেবার সাথে সাথে অভিজ্ঞতা সম্পর্ন কারো পরামর্শ নেয়া বা দ্রুত ভেটেরিনারি ডাক্তার এর পরামর্শ নেয়া।
প্রাথমিক চিকিৎসা হিসাবে তুলসীপাতার রস ও মধু একত্রিত করে খাওয়ানো যেতে পারে।
No comments:
Post a Comment