✨শুরুতে খাদ্য উপাদান নিয়ে আলোচনা করা যাক:
👉 খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। এ রাসায়নিক উপাদানগুলোকে খাদ্য উপাদান বলা হয়। এভাবে উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে #তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
✨১। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার ঃ
💎 কার্বোহাইডেট শর্করা বা শ্বেতসার - শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে।
✨২। প্রটিন জাতীয় খাবার ঃ
💎আমিষ বা প্রটিন
ক্ষয়পূরন,বৃদ্ধিসাধন ও দেহ গঠন করে।
✨৩। ফ্যাট জাতিয় খাবার
💎 স্নেহ বা চর্বি - তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে।
এছাড়া তিন প্রকার অন্যান্য উপাদান বিশেষ প্রয়োজন। যথা-
💎 ১. খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন - রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়, বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়।
💎 ২. খনিজ লবণ - বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
💎 ৩. পানি - দেহে পানির সমতা রক্ষা করে, কোষের গুণাবলি নিয়ন্ত্রণ।
#বিস্তারিতঃ
👉 আপনার কবুতরের জন্য দামী খাবার নয়, দরকার পুষ্টিকর খাবার। যেহেতু কবুতরের খাবারের দাম বেশি তাই কম দামে পুষ্টি চাহিদা মেটানোর জন্য যে খাবারগুলি দেয়া যেতে পারে সেগুলো নিয়েই আজ আলোচনা করছি।
👉 কবুতরের সুস্থতার জন্য যে তিনটা জিনিস দরকার তা হলো
#কার্বোহাইড্রেট বা শক্তি জাতীয় খাবার: বাজরা, চিনা, #গম, #ধান, চাল, #ভুট্টা, জব, বাকহুইট
ইত্যাদি। এগুলো সবই একই জাতীয় খাবার।
যেহেতু কমদামে পুষ্টি উপাদান দরকার তাই #ভুট্টা_গম_ধান বেছে নিতে পারেন।
👉 #আমিষ_বা_প্রোটিন শরীর গঠনের জন্য : #ডাবলি, মশুরী, হেলেন, ছোলা, #খেসারি, #মটর, হেম্পসীড, #কালি_মটর ইত্যাদি ডাল জাতীয় খাবার।
যেহেতু কমদামে পুষ্টি দরকার তাই #ডাবলি_মটর_ও_খেশারি বেচে নিতে পারেন৷
👉 তেল জাতীয় খাবার বা শরীর গরম রাখতে, শক্তি উৎপাদন করতে, ঠান্ডা থেকে সুরক্ষার জন্য : সূর্যমুখী ফুলের বীজ, সরিষা, কুসুম বীজ, বাদাম, তিসি, তিল, কালোজিরা।
কমদামের তেলবীজ #সরিষা_তিসি বেছে নিতে পারেন।
👉 বিভিধঃ
👉 বাচ্চা উৎপাদন ও পালক পাল্টানোর সময়ে আমিষ বা প্রোটিং এর চাহিদা বেশি থাকে।
👉 শীতে তেল জাতীয় খাবারের চাহিদা বেশি। আমিষের চাহিদা কম।
আমি ব্রিডিং কবুতরকে (শতকরা % অনুপাতে)
খাবারের জন্য ৫৫% কার্বোহাইড্রেট ৪০% প্রোটিন ৫% তেল জাতীয়।
পালক পাল্টানোর এর সময় প্রোটিং জাতীয় খাবারটা বেশি দেই। (৫০%+৪৫%+৫%)
শীতে প্রোটিং কমিয়ে তেল জাতীয় খাবারটা বাড়িয়ে দেই। (৫০%+৩০%+২০%)
👉 গরমে তেল জাতীয় খাবারটা একেবারে কমিয়ে দেই বা দেই না। দিলে ২% বা ১ %।
👉দাম বেশি এমন খাবারের বদলে যে খাবার দামে কম কিন্তু খাদ্যগুণ বেশি তা দিয়ে কবুতর ফিট রাখা এবং কবুতর পালনে খরচ বাচানোই আমার মূল লক্ষ্য!
💎 এবার দেখে নেই খাদ্য মানের তালিকায় কমদামের কোন খাবারের খাদ্যমান বেশি।
👉 ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টার পুষ্টি মান বেশি
ভুট্টা: (শর্করা জাতীয়) বড় দানার আস্ত ভুট্টা কবুতর অভ্যাস করলেই খায় অথবা পল্ট্রি ফিডের দোকানের ভাঙ্গা ভুট্টা ভালো করে রৌদ্রে শুকিয়ে দেওয়া যাবে। (পপকর্ন বা ছোটটা না) বড় দানার ভুট্টা দামে কম ভাল মানের তবে বিড্রিং এ ভাঙ্গা দিলে ভাল হয়। তবে ছত্রাক যাতে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। মোট খাবারে শুধু ক্যালরির জন্য ২৫% দেয়া যেতে পারে প্রতি ১০০ গ্রাম হিসাবে ভুট্টায় আছে ঃ
👉
#ভুট্টা:
ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টার পুষ্টিমান বেশি। এতে প্রায় ১১% আমিষ জাতীয় উপাদান রয়েছে। আমিষে প্রয়োজনীয় এ্যামিনোএসিড, ট্রিপটোফ্যান ও লাইসিন অধিক পরিমানে ভিটামিন এ আছে।
প্রতি ১০০ গ্রাম ভুট্টায় খাদ্যমান
আমিষ ১২.১ গ্রাম,
শর্করা ৬৯.৪ গ্রাম,
ক্যালসিয়াম ৪৮ মিলিগ্রাম,
লৌহ ১১.৫ মিলিগ্রাম,
ক্যারোটিন ২৯ মাইক্রোগ্রাম,
ভিটামিন বি-১ ০.৪৯ মিলিগ্রাম,
ভিটামিন বি-২ ০.২৯ মিলিগ্রাম,
আঁশ ১.৯ গ্রাম,
খনিজ পদার্থ ২.৭ গ্রাম এবং
জলীয় অংশ থাকে ১২.২ গ্রাম
👉
#গম: (শর্করা জাতীয়) কমদামের মধ্যে গমের খাদ্য গুন ভালো।
ক্যালোরি: ৩২৭
কার্বোহাইড্রেট: ৭১
প্রোটিং : ১.৫৪
ফ্যাট: ৪.৭৪
👉
#ধান : (শর্করা জাতীয় খাবার) উড়ানো কবুতরের জন্য দিতে পারেন। ব্রিডিং এ না দিলেই ভাল।
ক্যালোরি: ৩৫৮
কার্বোহাইড্রেট: ৭৮
আমিষ: ৯
আমিষ বা প্রোটিং জাতীয় খাবার:
👉
#ডাবলি: ক্যালোরি: ৩৪১
কার্বোহাইড্রেট: ৬০
আমিষ : ২৫ অর্থাৎ চারটা ডাবলি একটা ডাবলির সমান গোস্ত।
ফাইবার: ২৬
ফ্যাট:১.২
দাম কমের ভালোমানের প্রোটিং যা রেজার বিকল্প হিসাবে উত্তম।
👉
#খেসারি:
প্রতি ১০০ গ্রাম খেসারি ডালে রয়েছে -
খাদ্যশক্তি- ৩২৭ ক্যালরি,
আমিষ- ২২.৯ গ্রাম,
চর্বি- ০.৭ গ্রাম,
শর্করা- ৫৫.৭ গ্রাম,
ক্যালসিয়াম- ৯০ মিলিগ্রাম,
ফসফরাস- ৩১৭ মিলিগ্রাম,
লোহা- ৬.৩ মিলিগ্রাম।
👉
✨#মসুর_ডালে_পুষ্টিগুণ (Red Lentil or Masoor dal)
প্রতি ১০০ গ্রাম মসুর ডালে রয়েছে
ক্যালরি ৩৪৩ গ্রাম,
ফ্যাট ১.৫ গ্রাম,
সোডিয়াম ১৭ গ্রাম,
পটাশিয়াম ১৩৯২ গ্রাম,
কার্বোহাইড্রেট ৬৩ গ্রাম,
প্রোটিন ২২ গ্রাম,
ক্যালসিয়াম ১৩ গ্রাম,
ম্যাগনেসিয়াম ৪৫ গ্রাম,
ভিটামিন কমপ্লেক্সে ১০ গ্রাম এবং
ফাইবার ১৫ গ্রাম।
👉
✨#মুগ_ডালের_পুষ্টিগুণ (Nutritional value of Mung beans)
প্রতি ১০০ গ্রাম মুগডাল থেকে পাওয়া যায়
প্রোটিন ২৪ গ্রাম,
কার্বোহাইড্রেট ৬৩ গ্রাম,
ক্যালসিয়াম ১৩২ গ্রাম,
আয়রণ ৬.৭৪ গ্রাম,
ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ২৫ গ্রাম,
ম্যাগনেসিয়াম ১৮৯ গ্রাম।
👉
✨#সরিষার_পুষ্টি _গুণ
এতে আছে প্রোটিন, ভিটামিন ই, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড, এবং পরিমাণমতো ভিটামিন এ।
✨#ছোলা_বুটের_পুষ্টি_গুণ,
এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন বা আমিষ। ছোলার খোসাতে আছে ফাইবার। ফাইবার জাতীয় খাবার রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে ছোলা
👉
✨#মেথী
#কবুতরের_যত্নে_মেথী_এর_উপকারিতা_ও_ব্যবহারঃ
উপাদানঃ
মেথীর সেবনের মাত্রা খনিজ পদার্থ, ভিটামিন, এবং phytonutrients সমৃদ্ধ উৎস।প্রতি ১০০ গ্রাম মেথি বীজে (৬.৩ গ্রাম পানি, ৯.৫ গ্রাম আমিষ, ১০ গ্রাম ফ্যাট, ১৮.৫ গ্রাম আঁশ, ৪২.৩ গ্রাম শ্বেতসার, ১৩.৪ গ্রাম খনিজ, ১.৩ গ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.৪৮ গ্রাম ফসফরাস, ০.০৯ গ্রাম লৌহ, ০.০৯ গ্রাম সোডিয়াম, ১.৭ গ্রাম পটাশিয়াম, ভিটামিন বি১ ৯.৪১ মিলিগ্রাম, বি২ ০.৩৬ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ৬.০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ১২.০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ১০৪০ আইইউ এবং খাদ্যমান ৩৭০ কিলো ক্যালরি থাকে।বীজ দ্রবণীয় খাদ্যতালিকাগত ফাইবার খুব ভাল উৎস. জলের মধ্যে বীজ ভেজানোর তাদের বাইরের কোট নরম এবং mucilaginous করে তোলে।
উপকারিতাঃ
১. খাদ্য হজম বৃদ্ধি এবং পেটের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করে।
২.NSPs মসৃণ হজম সহযোগিতা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য উপশমে সাহায্য করে।
৩.রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
৪.হার্ট রেট নিয়ন্ত্রণ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এ সাহায্য করে।
৫.লাল রক্ত কণিকা উৎপাদন এ সাহায্য করে। এবং cytochrome-oxidases এনজাইম জন্য একটি সমবায় ফ্যাক্টর হিসাবে অপরিহার্য।
৬.এটি পাইরিডক্সিন (ভিটামিন B6), ফলিক অ্যাসিড, riboflavin, niacin, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি সহ সর্বোত্তম স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য পুষ্টি জগান দিতে সাহায্য করে। যা অনেক অত্যাবশ্যক ভিটামিন সমৃদ্ধ।
৭.শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।
৮.কৃমি দূর করতে সাহায্য করে।
৯.হাড় মজবুত করে।
১০.কেঙ্কার প্রতিরধে সাহায্য করে।
ব্যবহার এর নিয়মঃ
১.খাবারের সাথে পরিমান মত মিক্স করে খাওয়ানো যেতে পারে।
No comments:
Post a Comment