অনেকে
ডিপথেরিয়াকে ঠান্ডা মনে করেন
৷ তাদের মতে, ডিপথেরিয়া
বলে কোন রোগ নেই
৷ যা হোক, micrococci ব্যাকটেরিয়ার
সংক্রমণে কবুতরের ডিপথেরিয়া হয় ৷ খুব
দ্রুত এই ব্যাকটেরিয়া পুরো
শরীরে ছড়িয়ে পড়ে ফুসফুস, যকৃত,
হূদপিন্ড আক্রান্ত হয় ৷ এটা
কবুতরের মরণব্যাধি ৷ প্রতি বছর
বাংলাদেশে প্রচুর কবুতর মারা
যায় ডিপথেরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে
৷ মৃত্যুর হারের দিক থেকে
ডিপথেরিয়া রক্ত আমাশয়ের সমান,
৯০% ৷ আর যেহেতু
ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত রোগ, তাই অন্যান্য
কবুতরও সহজেই আক্রান্ত হয়
৷ এ রোগ বর্ষা
এবং শীতে বেশি দেখা
দেয় ৷
◆ কারন
• নোংরা
খাবার ও পানির পাত্র
৷
• ইঁদুর,
বিড়াল বা তেলেপোকা খাবারে
মুখ দিলে বা কামড়ালে
৷ • ইঁদুর বিড়ালের লোম
পেটে গেলে ৷ • ধুলো,
পানি ও বাতাসের মাধমেও
ছড়াতে পারে।
◆ লক্ষণ
• শরীরের
তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
• শরীর
কাপতে থাকা৷
• নাক
দিয়ে সর্দি ঝরা৷
• খাবার
বা পানি খেলে মুখ
নাক দিয়ে বের হয়ে
আসা৷ • শ্বাস কষ্ট৷ • হালকা
সবুজভাব পাতলা, আমাশয়ের মত
আঠালো পায়খানা বা সাদা পায়খানার
মাঝে দুই এক ফোটা
সবুজ মল৷ পায়খানা অফ
হোয়াইট বা হালকা হলুদভাব
হতে পারে৷ কখনও কখনও
পায়খানার রংয়ে কোন পরিবর্তন
হয় না৷ • খাবার খাওয়ার
পরও দূর্বলতা, শুকিয়ে যাওয়া৷ • ঠিকমত
হাটতে না পারা অর্থ্যাত
পা অবস হওয়া৷ পাখা
বা ঘাড়ও অবস বা
প্যারালাইসিস হতে পারে৷ • ধীরে
ধীরে কাশি৷ কাশির সাথে
রক্ত পড়তে পারে।
• মুখে ও জিব্হায় ক্যাঙ্কারের
মত সাদা বা হলুদ
আবরণ৷ • মুখে দূর্গন্ধ৷ • বমি৷
• দুর্বলতা ও চোখ সংক্রমণ
হয়। • টনসিলের
মত ফুলে যাওয়া৷ • খাবার
গিলতে খুব কষ্ট হয়
তাই খাবার মুখে নিয়ে
ফেলে দেয়। • লোম
ফুলিয়ে এক জাগায় বসে
থাকা। • চোখ
ফুলে যাওয়া ও পানি
ঝরা৷ • মাঝে মাঝে নাক
দিয়ে রক্ত পরা৷ • শেষ
পর্যায়ে ঘাড় শক্ত হয়ে
যায় এবং প্রচন্ড কাশি
হয়৷
◆ চিকিৎসা
• প্রাথমিক
অবস্থায়, হোমিও ডিপথেরিনিয়াম ২০০
৩ ফোটা ১ মিলি
হালকা গরম পানির সাথে,
দিনে ২/৩ বার৷
• রোগ বেশি হলে, azithromycin ১০০
মিগ্রা ১৫ মিলি পানির
সাথে মিশিয়ে ৫ মিলি
করে দিনে ৩ বার,
৫ দিন৷ • মুখে সাদা
আবরণ থাকলে মানুষের Apsol cream দিনে ২
বার করে। • ঠাণ্ডা
পানি দেওয়া যাবে না। • কবুতর
না খেলে ঔষুধ খাওয়ানোর
১ ঘন্টা আগে অথবা
পরে চালের স্যালাইন খাওয়াতে
হবে৷ • কবুতরকে আলো বাতাসে রাখতে
হবে৷ এই রোগের জীবাণু
অক্সিজেনে বাঁচে না৷ • একটু
সুস্থ হবার পর গোসল
করিয়ে দিতে হবে এবং
মাল্টিভিটামিন খাওয়াতে হবে দিনে দুইবার,
৫ দিন৷
◆ প্রতিরোধ
• কবুতরের
বাসস্থান, খাবার ও পানির
পাত্র জীবাণুমুক্ত রাখতে নিয়মিত জীবণূনাশক
দিয়ে স্প্রে করতে হবে৷
• বাহিরের জুতা/স্যান্ডেল পরে
কবুতরের বাসস্থানে না যাওয়া৷ • কবুতরের
বাসস্থানে ইঁদুর, বিড়াল, কীট
পতঙ্গের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে
হবে৷ • প্রতি মাসে ভিন্ন
দুই দিনে ডিপথেরিনিয়াম ২০০
খাওয়াতে হবে৷ প্রতি লিটার
পানিতে ১ মিলি৷
কবুতরদের
প্রতিদিন সময় দিন৷ সঠিকভাবে
রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা
করুন এবং প্রিয় কবুতরগুলোকে
অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু থেকে বাঁচান।
No comments:
Post a Comment