About Me

My photo
A pigeon lover from a small town. Currently working on Oriental Frill pigeon. passing time with pigeons since 2006

Thursday, August 26, 2021

কবুতরের ডিপথেরিয়া

অনেকে ডিপথেরিয়াকে ঠান্ডা মনে করেন ৷ তাদের মতে, ডিপথেরিয়া বলে কোন রোগ নেই ৷ যা হোক, micrococci ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে কবুতরের ডিপথেরিয়া হয় ৷ খুব দ্রুত এই ব্যাকটেরিয়া পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে ফুসফুস, যকৃত, হূদপিন্ড আক্রান্ত হয় ৷ এটা কবুতরের মরণব্যাধি ৷ প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রচুর কবুতর মারা যায় ডিপথেরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে ৷ মৃত্যুর হারের দিক থেকে ডিপথেরিয়া রক্ত আমাশয়ের সমান, ৯০% ৷ আর যেহেতু ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত রোগ, তাই অন্যান্য কবুতরও সহজেই আক্রান্ত হয় ৷ এ রোগ বর্ষা এবং শীতে বেশি দেখা দেয় ৷

 

◆ কারন

• নোংরা খাবার ও পানির পাত্র ৷

• ইঁদুর, বিড়াল বা তেলেপোকা খাবারে মুখ দিলে বা কামড়ালে ৷ • ইঁদুর বিড়ালের লোম পেটে গেলে ৷ • ধুলো, পানি ও বাতাসের মাধমেও ছড়াতে পারে।

 

◆ লক্ষণ

• শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি।

• শরীর কাপতে থাকা৷

• নাক দিয়ে সর্দি ঝরা৷

• খাবার বা পানি খেলে মুখ নাক দিয়ে বের হয়ে আসা৷ • শ্বাস কষ্ট৷ • হালকা সবুজভাব পাতলা, আমাশয়ের মত আঠালো পায়খানা বা সাদা পায়খানার মাঝে দুই এক ফোটা সবুজ মল৷ পায়খানা অফ হোয়াইট বা হালকা হলুদভাব হতে পারে৷ কখনও কখনও পায়খানার রংয়ে কোন পরিবর্তন হয় না৷ • খাবার খাওয়ার পরও দূর্বলতা, শুকিয়ে যাওয়া৷ • ঠিকমত হাটতে না পারা অর্থ্যাত পা অবস হওয়া৷ পাখা বা ঘাড়ও অবস বা প্যারালাইসিস হতে পারে৷ • ধীরে ধীরে কাশি৷ কাশির সাথে রক্ত পড়তে পারে। • মুখে ও জিব্হায় ক্যাঙ্কারের মত সাদা বা হলুদ আবরণ৷ • মুখে দূর্গন্ধ৷ • বমি৷ • দুর্বলতা ও চোখ সংক্রমণ হয়। • টনসিলের মত ফুলে যাওয়া৷ • খাবার গিলতে খুব কষ্ট হয় তাই খাবার মুখে নিয়ে ফেলে দেয়। • লোম ফুলিয়ে এক জাগায় বসে থাকা। • চোখ ফুলে যাওয়া ও পানি ঝরা৷ • মাঝে মাঝে নাক দিয়ে রক্ত পরা৷ • শেষ পর্যায়ে ঘাড় শক্ত হয়ে যায় এবং প্রচন্ড কাশি হয়৷

 

◆ চিকিৎসা

• প্রাথমিক অবস্থায়, হোমিও ডিপথেরিনিয়াম ২০০ ৩ ফোটা ১ মিলি হালকা গরম পানির সাথে, দিনে ২/৩ বার৷ • রোগ বেশি হলে, azithromycin ১০০ মিগ্রা ১৫ মিলি পানির সাথে মিশিয়ে ৫ মিলি করে দিনে ৩ বার, ৫ দিন৷ • মুখে সাদা আবরণ থাকলে মানুষের Apsol cream দিনে ২ বার করে। • ঠাণ্ডা পানি দেওয়া যাবে না। • কবুতর না খেলে ঔষুধ খাওয়ানোর ১ ঘন্টা আগে অথবা পরে চালের স্যালাইন খাওয়াতে হবে৷ • কবুতরকে আলো বাতাসে রাখতে হবে৷ এই রোগের জীবাণু অক্সিজেনে বাঁচে না৷ • একটু সুস্থ হবার পর গোসল করিয়ে দিতে হবে এবং মাল্টিভিটামিন খাওয়াতে হবে দিনে দুইবার, ৫ দিন৷

 

◆ প্রতিরোধ

• কবুতরের বাসস্থান, খাবার ও পানির পাত্র জীবাণুমুক্ত রাখতে নিয়মিত জীবণূনাশক দিয়ে স্প্রে করতে হবে৷ • বাহিরের জুতা/স্যান্ডেল পরে কবুতরের বাসস্থানে না যাওয়া৷ • কবুতরের বাসস্থানে ইঁদুর, বিড়াল, কীট পতঙ্গের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে৷ • প্রতি মাসে ভিন্ন দুই দিনে ডিপথেরিনিয়াম ২০০ খাওয়াতে হবে৷ প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি৷

 

কবুতরদের প্রতিদিন সময় দিন৷ সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা করুন এবং প্রিয় কবুতরগুলোকে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু থেকে বাঁচান।

No comments:

Post a Comment

মিসমার্ক কবুতরই যখন তুরুপের তাস

আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরবো আমার লফটের এক ফাটা বেবির হিষ্ট্রি। কবুতরের কালার মিউটেশন সম্বন্ধে আমার জ্ঞান খুব সামান্যই বলা চলে। গত নভেম্বর...